মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১৬ মে ২০১১, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮
সেই ফতোয়াবাজ মাতব্বর সাদেক বাবুর অপকর্মের নানা কাহিনী
নিজস্ব সংবাদদাতা, সান্তাহার, ১৫ মে ॥ বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বিনাহালী গ্রামের আবু তালেবের মেয়ে এবং পাশের দুপচাঁচিয়া উপজেলার অর্জুনগাড়ী গ্রামের আব্দুল কাদেরের স্ত্রী লাভলী বেগমকে তার চারিত্রিক অপবাদ দিয়ে মারপিট ও তার মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয়া গ্রাম্য মাতব্বর সাদেক হোসেন বাবুর বিরুদ্ধে এবার আদম ব্যবসার নামে নিজ গ্রাম এবং আশপাশের গ্রামের ১০/১৫ ব্যক্তিকে নিঃস্ব করে দেয়া ছাড়াও সরকারী জলমহাল দখলসহ নানা অপকর্ম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিনাহালী গ্রামের দরিদ্র ফেরদৌস আলী দেওয়ান তাদের একজন। সরেজমিন গিয়ে সাদেক বাবুর প্রতারণার শিকার ফেরদৌস আলীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৯ সালে তাকে মালয়েশিয়ায় ইলেকট্রনিক্স কারখানায় মোটা বেতনে চাকরি দেয়ার কথা বলে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার চুক্তি করে। কিন্তু ফেরদৌসের ৭০ হাজার টাকা কম হওয়ায় ওই টাকার জন্য তার ১৫ শতক জমিতে থাকা বসতবাড়ী রেজিস্ট্রি দলিল করে নেয় সাদেক বাবু। মালয়েশিয়া পেঁৗছলে সাদেক বাবুর সেখানকার দালালরা ফেরদৌসকে নিয়ে গিয়ে একটি ঘরে ২৫ দিন আটকে রাখে। এর পর চাকরি না দিয়ে দেশে ফেরত পাঠায়। দেশে ফিরে ফেরদৌস আলী আদম ব্যাপারী গ্রাম্য মাতব্বর সাদেক বাবুর নিকট টাকা ও বাড়ি ফেরত দাবি করে। এতে টালবাহানা শুরম্ন করে সাদেক বাবু। বাধ্য হয়ে ফেরদৌস দেওয়ান সাদেক বাবুর বিরম্নদ্ধে আদমদীঘি থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু সাদেক বাবু রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে মামলা পড়ে থাকে আঁতুর ঘরে। ফেরদৌস জানায়, এবার সে ওই সব নেতার শরণাপন্ন হন। কিন্তু তারা কোন পদৰেপ না নিয়ে তাকে দুর-দুর করে তাড়িয়ে দেন। এর পর এনিয়ে গ্রামে কয়েক দফা দেনদরবার হয়। এতে সাদেক বাবু গৃহীত নগদ টাকা ফেরত দেয়ার পরিবর্তে উল্টো ফেরদৌসের কাছে দাবি করে যে, আরও ১ লাখ টাকা দিলে তবেই দলিল রেজিস্ট্রি করে লিখে নেয়া বসতবাড়ি ফেরত দেবে বলে সাফ জানিয়ে দেয়। উপায় না পেয়ে ফেরদৌস ওই শর্তে রাজি হয়। নিধারিত সময় জমি ফেরত দেয়ার কথা বললে বেঁকে বসে সাদেক বাবু। সে ফেরদৌসের করা মামলায় খালাস পেতে পুলিশের পেছনে ৩০ হাজার টাকা খরচ করেছেন এবং সে টাকা না দিলে জমি ফেরত দেবে না বলে জানিয়ে দেয়। দরিদ্র ফেরদৌস এবার চড়া সুদে টাকা সংগ্রহ করে। গ্রামের মান্যগণ্য লোক নিয়ে আদমদীঘি উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের আকবর মুহরির নিকট দলিল লেখার কাজ সম্পন্ন করে এবং সাব রেজিস্ট্রারের নিকট দাখিল করে। এসময় সাবরেজিস্ট্রারের নিকট মোবাইল ফোনে কল আসে। মোবাইলে কথা বলা শেষে তিনি ওই দলিল সম্পাদন না করে ফিরিয়ে দেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ফেরদৌস আলী দেওয়ান। গত ৭ মাস ধরে দলিলটি অসম্পাদন অবস্থায় ওই মুহরির নিকট রয়েছে বলে জানিয়েছেন ফেরদৌস আলী দেওয়ান। এছাড়াও মাতব্বর সাদেক বাবুর বিরম্নদ্ধে আরও নানা অপকর্ম করার তথ্য মিলতে শুরম্ন করেছে। এদিকে, ফেরদৌসের পাশাপাশি বিনাহালী গ্রামের ২ জন, ধামাইল গ্রামের ২ জন, হরিসাদি গ্রামের ২ জনসহ প্রায় ১০/১৫ জনের নিকট থেকে প্রায় ২৫/৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এসব বেকার যুবক টাকা উদ্ধার করতে গিয়ে নানা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। এব্যাপারে সাদেক বাবুর বক্তব্য জানার জন্য তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফেরদৌস আলীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সে আমার নিকট জমি বিক্রি করেছে আমি কিনেছি। টাকা দিলে আমি জমি ফেরত দেব। এছাড়া আদম ব্যবসা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি আদম ব্যাপারী নই। এলাকার লোকজন বিদেশ যেতে চেয়েছে আমি শুধু তাদের পথ দেখিয়ে দিয়েছি।