মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১৬ মে ২০১১, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮
আদমদীঘি থানার ওসিকে হাইকোর্টে তলব
গৃহবধূর মাথা ন্যাড়া
স্টাফ রিপোর্টার ॥ গ্রাম্য সালিশে জোর করে গৃহবধূকে মাথা ন্যাড়া করার ঘটনায় বগুড়ার আদমদীঘি থানার ওসি আব্দুল মুত্তালিবকে তলব করেছে হাইকোর্ট। এ ঘটনায় মামলার পরও আসামিদের কেন গ্রেফতার করা হয়নি আগামী ২২ মে আদালতে হাজির হয়ে এ সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আসামিদের গ্রেফতারে বগুড়া জেলার এসপিকে তদারকি করতে বলেছে আদালত। বিচারপতি এএইচএম সামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং বিচারপতি গোবিন্দচন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ রবিবার এ আদেশ দেন।
১৩ মে দৈনিক জনকন্ঠ পত্রিকায় গৃহবধূকে মাথা ন্যাড়া করার ঘটনায় 'আসামিদের গ্রেফতার করেনি পুলিশ' শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হলে সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী এ্যাডভোকেট শহীদুল্লাহ বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে আদালত রবিবার আদেশ দেয়। তাঁকে সহায়তা করেন এ্যাডভোকেট ইদ্রিসুর রহমান।
প্রসঙ্গত অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ৯ মে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বিনাহালী গ্রামের আবু তালেবের মেয়ে গৃহবধূ লাভলী বেগমকে মাথা ন্যাড়া করে দেয় গ্রাম্য মাতব্বররা। আর এ কাজে স্বামী আব্দুল কাদের মাতব্বরদের সহায়তা করেন বলে পত্রিকার সংবাদে বলা হয়। মাথা ন্যাড়ার পর লাভলী বেগম এবং তার পরিবারের সদস্যদের দুদিন বাড়িতে আটকে রাখা হয়। দুদিন পর রাতে লাভলী ও পরিবারের সদস্যরা দুপচাঁচিয়ায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে পালিয়ে যায়। পরে একটি বেসরকারী সংস্থা হিউম্যান রাইটস এ্যান্ড লিগ্যাল এইড সার্ভিস কমর্ীদের সহায়তায় লাভলী আদমদীঘি থানায় মামলা করেন। নিযর্াতিত লাভলী আদমদীঘি থানায় স্বামী আব্দুল কাদের ছাড়াও গ্রামের চার মাতব্বরের বিরুদ্ধে নারী-শিশু নিযর্াতন ও সস্নীলতাহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় লাভলী বেগমের স্বামী আব্দুল কাদের, মাতব্বর সাদেক হোসেন বাবু, উজ্জ্বল ও শফিকুলকে আসামি করা হয়।