মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১৬ মে ২০১১, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮
মমতা বিধানসভার নেতা নির্বাচিত, কংগ্রেসের সমর্থন
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে যে সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে তার আকার ছোট হবে বলে জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের নবনির্বাচিত বিধানসভার সদস্যদের এক বৈঠকে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার আকার আপাতত ছোট হবে। আর ছোট্ট এই মন্ত্রিসভায় জোটের অংশীদার কংগ্রেসও যোগ দেবে। এ বৈঠকেই বিধানসভার নেতা নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এদিকে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থন করে রাজ্যপাল এমকে নারায়ণনকে চিঠি দিয়েছে কংগ্রেস। এছাড়া সরকার গঠন করতে তৃণমূলকে (টিএমসি) সমর্থন করা কংগ্রেসের ৪২ জন বিধায়কের একটি তালিকাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দিয়েছেন রাজ্য কংগ্রেসের মুখপাত্র ওমপ্রকাশ মিশ্র। রবিবার দুপুরে মমতার কালীঘাটের বাড়িতে কংগ্রেস বিধায়কদের স্বাক্ষর করা ওই সমর্থনপত্র তুলে দেয়া হয়। খবর বিবিসি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
রবিবার বিকেলে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর এলাকার হরিশ মুখার্জি রোডের 'মহারাষ্ট্র নিবাসে' দলের ১৮৪ বিধায়ককে নিয়ে বৈঠকে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধায়কদের এ বৈঠকে লোকসভায় তৃণমূলের ১৯ জন এমপিকেও আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে আসা হয়। বৈঠকে বিধায়করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচন করেন। মমতাকে বিধানসভার নেতা করতে দলীয় বিধায়ক সুব্রত বকশীর প্রস্তাবে পার্থ চট্টোপাধ্যায় সমর্থন দেন। এরপর বিধায়করা সমস্বরে ওই প্রস্তাবে 'হ্যাঁ' বলেন। এছাড়া এ সময় বিধায়করা মমতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে 'মুখ্যমন্ত্রী'ও মনোনীত করেন।
বৈঠকে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে উপনেতা, শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়কে চীফ হুইপ ও কোষাধ্যক্ষ হিসেবে জ্যোতিপ্রিয় মলিস্নককে মনোনীত করা হয়।
বৈঠকে বিধায়কদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সবাই শানত্ম থাকুন, সংযত হোন। বুকে দুঃখ ও জ্বালা থাকলেও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা বড় জিনিস। মানুষের ওপর বিশ্বাস রাখুন। তিনি বলেন, হিংসার বদলে প্রতিহিংসা নয়। কারও গায়ে হাত দেবেন না, ভাংচুর করবেন না।
তিনি আরও বলেন, সিপিএমকে মানুষই শিক্ষা দিয়েছে। মানুষের শিক্ষাই বড় শিক্ষা। বিধায়কদের উদ্দেশে মমতা বলেন, পুলিশের কাজে হসত্মক্ষেপ করবেন না। মানুষ আপনাদের সব কাজের ওপর নজর
রাখছে। বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যালয় ছোট রাখার আহ্বান জানিয়ে মমতা বলেন, অফিস ছোট, তবে সুন্দর রাখবেন। আগামী ২১ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেস কলকাতার ব্রিগেড মাঠে 'বিজয় উৎসব' করবে বলে জানান মমতা। তিনি বলেন, ওইদিন মা, মাটি ও মানুষকে ধন্যবাদ জানানো হবে। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের দিন প্রধানমন্ত্রী ও সোনিয়া গান্ধীকে আমন্ত্রণ জানানোর আগ্রহও প্রকাশ করেন মমতা।
বৈঠক শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কয়েকজন বিধায়ককে নিয়ে রবীন্দ্রসঙ্গীত ও নজরম্নলগীতি শোনেন। মমতাকেও তাঁদের সঙ্গে গাইতে দেখা যায়।
এদিকে বৈঠক শেষে মমতা কালীঘাটের বাড়িতে যান। সেখান থেকে বেরিয়ে সন্ধ্যার দিকে রাজভবন যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি যাননি। তাঁর হয়ে তৃণমূল পরিষদীয় দলের সরকার গঠনের আবেদন নিয়ে রাজ্যপালের কাছে যান দলের এমপি ও কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী মুকুল রায়।
পরে সন্ধ্যার দিকে নয়াদিলস্নীর উদ্দেশে কলকাতা ছাড়েন মমতা। সেখানে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাত করবেন তিনি।
'ঔদ্ধত্য ও জনবিচ্ছিন্নতার কারণে ভরাডুবি' ॥ ভারতে সিপিআই নেতা এটি বর্ধন বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ ও কেরালায় সিপিএম'র ভরাডুবির কারণ হচ্ছে দলীয় নেতাদের ঔদ্ধত্য এবং জনবিচ্ছিন্নতা। রবিবার এক টিভি সাৰাতকারে তিনি বলেন, সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের ঘটনায় সিপিএম'র প্রতি প্রচ- ৰোভ ছিল জনগণের। বিশেষত স্থানীয় নেতাদের প্রতি ৰুব্ধ ছিল মানুষ। ওই দলের নেতারা বিষয়টিতে তেমন গুরম্নত্ব দেননি।
তাঁদের আচরণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক ৰোভ তৈরি করে যার বহিপর্্রকাশ ঘটেছে নির্বাচনে।
বর্ধন আরও বলেন, তিনি মনে করেন, সিপিএমকে বিরোধী দল হিসেবে এখন গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ওই ধরনের আচরণ করা ঠিক হবে না যেমনটি ওই নেত্রী করেছেন। তবে প্রথমে তাঁদের বুঝতে হবে এটি যে তাঁদের বিশাল একটি পরাজয় সেটি স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে হবে।