মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১৬ মে ২০১১, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮
স্বাস্থ্যনীতি সংসদে উত্থাপিত হবে আসন্ন অধিবেশনে
নিখিল মানখিন ॥ অবশেষে চলতি মাসের শেষ দিকে সংসদে উত্থাপিত হতে যাচ্ছে জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি। চূড়ান্ত স্বাস্থ্যনীতিতে অনেক নতুন বিষয় থাকছে। সরকার প্রধানের নেতৃত্বে জাতীয় স্বাস্থ্য উন্নয়ন কাউন্সিল গঠন করা হবে। আরও থাকছে একটি স্বাস্থ্যসেবা পুনর্বিন্যাস কমিটি গঠনের বিষয়। সামাজিক স্বাস্থ্য বীমার ব্যবস্থা করা হবে। অতি দরিদ্র ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং সরকার দ্বারা স্বীকৃত উপায়ে পর্যায়ক্রমে কার্ড দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বেসরকারী ও এনজিও সংস্থাগুলোকে স্বাস্থ্যসেবায় সম্পূরক ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রম্নহুল হক বলেন, মানসম্মত স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার বিষয়টি অধিকাংশ ৰেত্রেই সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সেবাদানকারীদের মনমানসিকতার ওপর নির্ভর করে। মানসম্মত সেবাদানের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা না থাকলে স্বাস্থ্যনীতি দিয়েও ভাল স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা দেয়া সম্ভব নয়। সমাজের বিভিন্ন পেশাজীবীর মতামত গ্রহণ করতে গিয়ে স্বাস্থ্যনীতি চূড়ানত্ম করতে একটু বিলম্ব হচ্ছে বলে তিনি জানান।
১২ পৃষ্ঠার খসড়া স্বাস্থ্যনীতিতে দেখা গেছে, এ নীতির ৩টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য হলো_ সবার জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও জরুরী চিকিৎসা সেবা প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, সমতার ভিত্তিতে সেবা গ্রহীতা কেন্দ্রিক মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার সহজপ্রাপ্যতা বৃদ্ধি ও বিস্তৃত করা, রোগ প্রতিরোধ ও সীমিতকরণের জন্য অধিকার ও মর্যাদার ভিত্তিতে সেবা গ্রহণে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা। স্বাস্থ্যনীতিতে প্রতি ৬ হাজার জনের জন্য একটি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন, স্বাস্থ্যসেবায় লিঙ্গ সমতা নিশ্চিতসহ ১৯টি মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য ৩৮টি কৌশল চিহ্নিত করা হয়েছে। নীতির ১৯টি মূল লৰ্যের কয়েকটি বিশেষ দিক হলো_ সমাজের সর্বসত্মরের মানুষের কাছে সংবিধান অনুযায়ী ও আনত্মর্জাতিক সনদসমূহ অনুসারে চিকিৎসাকে অধিকার হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা। এ লৰ্যে চিকিৎসার মৌলিক উপকরণসমূহ পৌঁছে দেয়া, পুষ্টির উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতি সম্পন্ন করা। জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সম্পৃক্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং বেসরকারী খাতের সম্মিলিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টা নিশ্চিত করা। প্রতিটি সরকারী ও বেসরকারী স্বাস্থ্যসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে রোগীর পরিচর্যার ৰেত্রে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা হবে।
স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নের সঙ্গে সংশিস্নষ্ট সূত্র জানায়, স্বাধীনতার ৪০ বছরেও দেশে একটি কার্যকর জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি নেই। এরশাদের আমলে একটি স্বাস্থ্যনীতি বাসত্মবায়নের উদ্যোগ পেশাজীবী এবং রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধিতায় কার্যকর হতে পারেনি। এরপর ২০০০ সালে প্রণীত একটি স্বাস্থ্যনীতি জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হলেও ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে ২০০৬ সালে একটি নতুন স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন করলেও তা কার্যকর হয়নি। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে একটি স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ২০০৮ সালের আগস্টে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সেই জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির একটি খসড়া শুধুমাত্র আলোচনার জন্য সংস্করণ প্রকাশ করে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর একটি জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর অধ্যাপক আ ফ ম রম্নহুল হক তিন মাসের মধ্যে একটি জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি জনগণকে উপহার দেয়ার প্রতিশ্রম্নতি দিয়েছেন। তাঁর ওই বক্তব্যের ১৭ মাস পরও এর বাসত্মব প্রতিফলন ঘটেনি। গত ১৭ মাসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ রকম ঘোষণা বহুবার দেন। এর মধ্যে ওয়েবসাইট ও খোলা চিঠির মাধ্যমে খসড়া স্বাস্থ্যনীতি চূড়ানত্মের জন্য বিশেষজ্ঞ ও সব পেশার মানুষের মতামত নেয়া হয়। এতে প্রায় ৩২ হাজার মতামত পাওয়া যায়। মতামত পাওয়ার পর খোলামেলা আলোচনার জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে সম্মেলনের ব্যবস্থা করে সরকার। রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগ বাদ দিয়েই সম্মেলন স্থগিত হয়। অভিযোগ ওঠে, সরকার দলীয় স্বাস্থ্য সংগঠনগুলোর পৰ থেকে কিছু বিষয় সংযোজন ও বিয়োজনের দাবি উঠলে স্বাস্থ্যনীতি চূড়ানত্মের কার্যক্রম থমকে যায়। এর পর বিভাগীয় পর্যায়ের আলোচনা বন্ধ করে গত ২০১০ সালের ২৫ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দু' দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু অনেক বিষয় অমীমাংসিত রেখেই শেষ হয় কর্মশালাটি। অবশেষে স্বয়ং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তাগিদে বিষয়টি নিয়ে সংশিস্নষ্টরা তৎপর হয়ে ওঠেন।