মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১৬ মে ২০১১, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮
আশুগঞ্জ আন্তর্জাতিক মানের নৌবন্দর হচ্ছে, চলতি বছরই কাজ শুরু
অবকাঠামো ও রাস্তাঘাট উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচী গৃহীত
রিয়াজউদ্দিন জামি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ১৫ মে ॥ বদলে যাবে আশুগঞ্জ। দেশের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নদী বন্দর আশুগঞ্জ নৌবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের বন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এ জন্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই বন্দরটি আধুনিকায়নের কাজ শুরম্ন হবে। বন্দরের অবকাঠামো ও রাস্তাঘাট উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে। একনেকের বৈঠকে নৌবন্দর প্রকল্পটি উন্নয়নের জন্য প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। খবর সংশিস্নষ্ট সূত্রের। সমপ্রতি নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে আশুগঞ্জ নদীবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের বন্দর করার কথা জানান। আশুগঞ্জকে ট্রান্সশিপমেন্ট সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলা হলে নৌ ও সড়ক পথের মাধ্যমে খুব দ্রম্নত মাল বহন করা সম্ভব হবে। এরই মাঝে আশুগঞ্জ থেকে ভারতের ত্রিপুরায় সড়ক পথে মাল পরিবহন শুরু হয়েছে। এ বন্দরের উন্নয়নের জন্য খুব শীঘ্রই জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হবে। তবে এখন পর্যন্ত অধিগ্রহণ সংক্রান্ত নির্দেশনা আসেনি। ওডিসি (ওভার ডাইমেনশনাল কার্গো) পরিবহনে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ টিম তাদের জরিপ কাজ সম্পন্ন করেছে। জমি অধিগ্রহণ ও অন্যান্য কাজের জন্য একটি প্রকল্পে বিপরীতে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পালাটানায় বিদু্যত কেন্দ্রের মাল পরিবহনের জন্য জরুরী ভিত্তিতে ভারতের ওএনজিসি কোম্পানি প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থানীয় ঠিকাদারদের মাধ্যমে আশুগঞ্জ-চিনাইর-সুলতানপুর দিয়ে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়কের সংস্কার কাজ শেষ করেছে। এ সড়ক পথ দিয়েই পালাটানা বিদু্যত কেন্দ্রের যন্ত্রাংশ বহন কাজ চলছে। গত ১৮ মার্চ থেকে যন্ত্রাংশ বহন শুরু হয়। ভারতের ক্ষিদিরপুর থেকে এসব মাল নদী পথে আশুগঞ্জে আনা হয়। সেখান থেকে মাল নামিয়ে আশুগঞ্জের চরসোনারামপুরে অবস্থিত ভারতীয় কোম্পানি এবিসির ডিপোতে রাখা হয়। পরে ১৩০ চাকার টেইলর দিয়ে আগরতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। গত বছর ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী ঢাকা সফরের সময় ১শ' কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা চুক্তির আওতায় নিধর্ারিত ১৪টি প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম প্রকল্প হলো আশুগঞ্জকে ট্রান্সশিপমেন্টের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। ঐ প্রকল্পের মধ্যে ৩ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার বরাদ্দ এ খাতেই রাখা হয়েছে। প্রকল্পটি বাসত্মবায়নে দু'বছর সময় লাগতে পারে। সূত্রগুলো জানায়, প্রসত্মাবিত প্রকল্পের আওতায় আশুগঞ্জের অভ্যনত্মরীণ কন্টেনার বন্দরে তিনটি আনত্মর্জাতিক মানের জেটি, কাস্টমস্ অফিস, বিআইডবিস্নউটিএ অফিস, ওয়্যার হাউস, কন্টেনার টার্মিনাল, ক্রেন ইয়ার্ড, বন্দর কতর্ৃপক্ষ অফিস, ইলেক্ট্রিক সাব স্টেশন, ট্রাক ইয়ার্ড, রেস্ট হাউসসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানান, ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত কোন নির্দেশনা আমরা এখনও পাইনি।