মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ১১ মে ২০১১, ২৮ বৈশাখ ১৪১৮
আগামী বছর থেকে সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিৰণে যুদ্ধ ছাড়া সামরিক অভিযান অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে
জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ দুর্যোগ মোকাবেলা, নির্বাচনসহ জাতীয় উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ততা বেড়ে যাওয়ায় আগামী বছর থেকে সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিৰণের প্রতিটি চক্রে যুদ্ধ ছাড়া অন্যান্য সামরিক অভিযান অনত্মভর্ুক্ত হচ্ছে। সেসব অনির্ধারিত কাজে সশস্ত্র বাহিনীকে আরও সুশৃঙ্খল করতে এ রম্নটিন প্রশিৰণ চালু হবে। প্রশিৰণে বেসামরিক প্রশাসনকে নিয়ে সম্পাদনযোগ্য সব ধরনের কর্মকা- যেমন- দুর্যোগ মোকাবেলা, নির্বাচনে নিরাপত্তা প্রদান, সন্ত্রাস দমন, জাতীয় উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, পাওয়ার স্টেশনে নিরাপত্তা প্রদান ইত্যাদি বিষয়কে প্রশিৰণ কার্যক্রমের আওতাভুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া সাধারণ নাগরিকদের প্রশিৰণ দিয়ে জাতীয় রিজার্ভ ফোর্স গঠনের জন্য অপ্রচলিত যোদ্ধাদের উপাত্ত সংগ্রহ করারও কার্যক্রম চলছে। সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।
সংশিস্নষ্টরা জানান, সামরিক-বেসামরিক যৌথ প্রশিৰণ ব্যবস্থা অনেক আগে থেকেই প্রচলিত রয়েছে। সেই সঙ্গে জাতীয় বিভিন্ন গুরম্নত্বপূর্ণ কাজে সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণও আগে থেকে প্রচলিত। বিশেষ করে নির্বাচন এবং দুর্যোগের সময় সেনাবাহিনীকে অনত্মর্ভুক্ত করা হয়। অনির্ধারিত সেসব কাজে দিন দিন সম্পৃক্ততা বাড়ছে সশস্ত্র বাহিনীর। সরকারের নির্দেশে সেসব কাজে অংশগ্রহণের আগে প্রশিৰণের ব্যবস্থা নেয়া হয়। তাই সেৰেত্রে রম্নটিন প্রশিৰণের ব্যবস্থা থাকলে অনেক বেশি সুশৃঙ্খলভাবে কাজগুলো করা যাবে বলে মনে করছেন সংশিস্নষ্টরা। সেনাবাহিনীর এক উর্ধতন কর্মকর্তা এ ব্যাপারে জনকণ্ঠকে বলেন, সশস্ত্র বাহিনী অত্যনত্ম শৃঙ্খলার মধ্যে চলে অভ্যসত্ম। তাই এভাবে কাজের আগে প্রশিৰণের ব্যবস্থা নেয়ার চেয়ে রম্নটিন প্রশিৰণের ব্যবস্থা থাকলে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য তা সুবিধা হবে।
সূত্র জানায়, রবিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সংক্রানত্ম একটি প্রতিবেদন পেশ করে প্রতিরৰা মন্ত্রণালয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন এ্যাসিস্ট্যান্স টু সিভিল এ্যাডমিনিস্ট্রেশনের আওতায় বেসামরিক প্রশাসনকে জাতীয় উন্নয়নমূলক কাজসহ অন্যান্য কাজে সহায়তা দিয়ে থাকে সশস্ত্র বাহিনী। ২০১২ প্রশিৰণ বছর থেকে প্রতিটি প্রশিৰণ চক্রে যুদ্ধ ব্যতীত অন্যান্য সামরিক অভিযান (মিলিটারি অপারেশন্স আদার দ্যান ওয়ার) অনত্মভর্ুক্ত করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে চলতি বছরের সামরিক-বেসামরিক যৌথ প্রশিৰণের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বু্যারো এবং ফায়ার সার্ভিস এ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ব্যবস্থাপনায় গত ২০ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যনত্ম আয়োজিত যৌথ প্রশিৰণে সেনাবাহিনীর ৫ কর্মকর্তা, জেসিও এবং অন্যান্য পদবীর ৩৮ সেনা সদস্য অংশ নিয়েছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বু্যরো ও সেনাবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে গত বছরের ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যনত্ম অনুষ্ঠিত 'অপারেশন মেইনটেন্যান্স এ্যান্ড ট্রাবল-শূটিং ট্রেনিং অব মোবাইল লাইট ইউনিট' শীর্ষক প্রশিৰণ কোর্সে সেনাবাহিনীর ৮ সদস্য অংশ নেন। একই বছরের ১০ থেকে ১২ নবেম্বর পর্যনত্ম অনুষ্ঠিত 'অপারেশন মেইনটেন্যান্স এ্যান্ড ট্রাবল-শূটিং ট্রেনিং অব ফর্ক লিফট' শীর্ষক প্রশিৰণ কোর্সে অংশ নেন সেনাবাহিনীর ১২ সদস্য। এছাড়া বিভিন্ন শিৰাপ্রতিষ্ঠানে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে যৌথ প্রশিৰণ বিষয়ে যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে।
বিশ্বের অনেক দেশের মতো দেশের সাধারণ নাগরিকদের প্রশিৰণ প্রদান করে জাতীয় রিজার্ভ ফোর্স গঠনের বিষয়টিকে গুরম্নত্ব দিয়ে খসড়া প্রতিরৰা নীতিমালায় যুক্ত করা হচ্ছে জানিয়ে প্রতিরৰা মন্ত্রণালয়ের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিরৰা নীতি তৈরির কাজ প্রক্রিয়াধীন। প্রতিরৰা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সংশোধিত খসড়া তৈরির কাজ অব্যাহত আছে। এ বিষয়ে গঠিত কমিটির সর্বশেষ সভা গত ১৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়। রিজার্ভ ফোর্স গঠনের বিষয়টি খসড়া নীতিতে সনি্নবেশ করা হয়েছে। ফর্মেশনগুলো অপ্রচলিত যোদ্ধাদের (আনকনভেনশনাল ওয়ারফেয়ার ফোর্স) উপাত্ত সংগ্রহ করছে। একটি ফর্মেশন শীতকালীন প্রশিৰণ ২০১০-২০১১ এ অনুশীলন করছে। তাছাড়া আগামী গ্রীষ্মকালীন প্রশিৰণে এ ধরনের প্রশিৰণ অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।