মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ১১ মে ২০১১, ২৮ বৈশাখ ১৪১৮
'দেশপ্রেমিক কাজী নূরুজ্জামান যুদ্ধের মাঠে কঠোর হলেও ব্যক্তিজীবনে ছিলেন শান্ত'
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল (অব) কাজী নূরুজ্জামান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূর্ত প্রতীক ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক। তিনি জীবনের সবটুকু সময় দেশের জন্য উৎসর্গ করেছেন। বিনিময়ে কোন রাজনৈতিক সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেননি। এমন নির্লোভ ও দেশপ্রেমিক মানুষ বর্তমান সমাজে পাওয়া কঠিন। মঙ্গলবার শোকসভার আলোচনায় বক্তারা এভাবে তুলে ধরেন মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী কাজী নূরুজ্জামানকে।
জাতীয় প্রেসক্লাবে এ শোকসভার আয়োজন করে ৭ নম্বর সেক্টর মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ। বক্তব্য রাখেন সাবেক সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল (অব) কেএম শফিউল্লাহ, মেজর জেনারেল (অব) ইব্রাহীম বীরপ্রতীক, সাংবাদিক ইকবাল বাহার চৌধুরী, ডা. জাফরউল্লাহ। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন অধ্যাপক এ কাইয়ুম খান। সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মনসুর আলী সরকার। দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন মরহুম নূরুজ্জামানের স্ত্রী ডা. সুলতানা জামান ও সন্তানরা।
কেএম শফিউল্লাহ বলেন, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নূরুজ্জামান যুদ্ধ করেন এবং দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করেন। তাছাড়া তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরাও মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁকে স্মরণ রাখা উচিত। তাঁর জীবনী থেকে নতুন প্রজন্মকে শিৰা নেয়ার পরামর্শ দেন সাবেক এই সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, নূরুজ্জামানের সুশৃঙ্খল ও সাহসী মনোবল দেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মেজর জেনারেল (অব) ইব্রাহীম বলেন, অন্য সেনা কর্মকর্তাদের মতো জীবনে কখনও কাজী নূরম্নজ্জামান রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেননি। অবসরের পর সাধারণ নাগরিকদের মতো ঢাকায় জীবনযাপন করেন। কোন ধরনের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নেয়া তিনি কখনও সমর্থন করতেন না। সেক্টর কমান্ডার নূরুজ্জামানকে নাগরিক যোদ্ধা আখ্যায়িত করে নতুন প্রজন্মকে তাঁর সাহসিকতায় বেড়ে ওঠার পরামর্শ দেন মেজর জেনারেল ও ইব্রাহীম।
সাংবাদিক ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, নূরুজ্জামান মানুষ হিসেবে ছিলেন খুব দৃঢ় এবং বলিষ্ঠ। তিনি দেশকে মনেপ্রাণে ভালবাসতেন। তাঁকে নিয়ে স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের পরামর্শ দেন ইকবাল বাহার চৌধুরী।
লিখিত বক্তব্যে এ কাইয়ূম খান বলেন, একজন সাধারণ নাগরিক রাষ্ট্রের কাছে যা পান তিনি এর চেয়ে বেশি কিছু কখনও চাইতেন না। জীবনে তিনি কখনও স্বজনপ্রীতি ও অগ্রাধিকার পছন্দ করতেন না। এমন ব্যক্তি বর্তমান সময়ে বিরল বলে মন্তব্য করেন তিনি। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কাজী নূরুজ্জামান মহান মুক্তিযুদ্ধ পদ্ধতিগতভাবে পরিচালনা করতেন। নিজের মতামতের সঙ্গে সহযোদ্ধাদের মতামতকেও গুরুত্ব দিতেন তিনি। শান্ত প্রকৃতির মানুষটি প্রয়োজনে কঠোর হলেও ব্যক্তিজীবনে ছিলেন সম্পূর্ণ শান্ত।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের ৬ তারিখে তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মৃতু্যবরণ করেন।