মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ১১ মে ২০১১, ২৮ বৈশাখ ১৪১৮
বরিশালে বিএনপি নেতার ওপর হামলা, চোখ তুলে ফেলার চেষ্টা
হাইকমান্ড নাখোশ ॥ সরোয়ারসহ ১২ জনের বিরম্নদ্ধে মামলা
নিজস্ব সংবাদদাতা, বরিশাল, ১০ মে ॥ বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম রাজনের ওপর বর্বরোচিত হামলা হয়েছে। সরোয়ারপন্থী ক্যাডাররা এলোপাতাড়ি মারধর ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার শরীরের মাথা, বুক ও চোখে বেধড়ক নির্যাতন চালিয়েছে। এক পর্যায় লোহা দিয়ে রাজনের দু'চোখ উৎপাটনের চেষ্টা চালানো হয়। সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল চরকাউয়া ফেরিঘাট এলাকা। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি ঘটলে
তাকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। রাজনের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর বিএনপি সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ারসহ ১২জনের বিরম্নদ্বে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী হলেন রাজনের সহোদর একেএম শাহজাহান। তিনি দায়েরকৃত মামলায় উলেস্নখ করেছেন, সরোয়ারের নির্দেশে রাজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলার ঘটনা ঘটে। রাজন আহতের খবর শুনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) হান্নানসহ শেবাচিম হাসপাতালে দেখতে গেলে সেখানে রাজনপন্থী ৩/৪শ' বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তখন সবাই রাজনের ওপর হামলার ঘটনার জন্য সরোয়ারের বিচার দাবি করে। এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপি হাইকমান্ডের একাধিক সূত্র জানায়, রাজনের ওপর হামলার ঘটনায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সরোয়ারের ওপর চরম নাখোশ। তারা বিষয়টি দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে অবহিত করেছেন। খালেদা জিয়া রাজনের ওপর হামলার ঘটনায় বিব্রত ও উস্মাহ প্রকাশ করেছেন। এমনকি তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরম্নদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে পারেন।
সূত্র জানায়, ভোলায় সফলভাবে দলীয় কর্মসূচী শেষে বিএনপি কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) হান্নান শাহ, কেন্দ্রীয় নেতা আলতাফ হোসেন চৌধুরী, নাজিম উদ্দিন আলম, প্রকৌশলী ফারম্নক হোসেন, নজরম্নল ইসলাম রাজন, এবিএম মোশারেফ হোসেন ১০টি গাড়িযোগে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাত ৯টার দিকে হান্নান শাহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ চরকাউয়া ফেরিঘাট থেকে বরিশাল সার্কিট হাউসে পেঁৗছেন। কিন্তু রাজন ও মোশারেফ হোসেন আটকে পড়ে যান ফেরিতে। তখন সরোয়ারপন্থীর ক্যাডাররা রাজনকে এ্যাটাক করার জন্য হন্য হয়ে খুঁজছিল। এক পর্যায়ে ক্যাডার কামরম্নল ইসলাম রতন, ফিরোজ খান কালু, মামুনসহ ৮/১০ জন ৪ মোটরসাইকেলযোগে এ্যাটাক করেন রাজনের ওপর। রাজনকে তারা গাড়ি থেকে নামতে বলে। রাজন না নামায় তারা রাজনের গাড়ির ওপর তেড়ে বসে। পরে গাড়ির ভেতর থেকে রাজনকে টেনে হিঁচড়ে মারধর করা হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বুকে, মাথায় ও চোখে আঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।