মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ১১ মে ২০১১, ২৮ বৈশাখ ১৪১৮
ভোজ্যতেল আমদানি করতে ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ
অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা
খায়রুল হোসেন রাজু ॥ ভোজ্যতেল আমদানি করতে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি একাধিক ব্যাংক ভোজ্যতেল (পরিশোধিত ও অপরিশোধিত) আমদানির জন্য এলসি (ঋণপত্র) খুলতে অনীহা প্রকাশ করছে। এতে বাজারে তেলের দরবৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী যোগানের অনেকটা ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। একই সঙ্গে ভোজ্যতেলের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার উপক্রম শুরু হচ্ছে বলেও মনে করা হচ্ছে। ফলে ভোজ্যতেলের বাজার স্বাভাবিক রাখতে এবং সরবরাহ বৃদ্ধি করতে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশিস্নষ্ট সকল ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে এলসি খুলতে চিঠি দিয়ে নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে উলেস্নখ করা হয়, নিত্যপণ্য বিশেষ করে ভোজ্যতেল আমদানি করতে ব্যাংকগুলো এলসি খুলবে। এলসি খুলতে কোন ব্যাংকের তারল্য বা ডলারের সহায়তা দরকার হলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সাপোর্ট দেয়া হবে। কিন্তু কোনভাবেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে এলসি খোলা বন্ধ বা অনীহা প্রকাশ করা যাবে না। কোন ব্যাংক যদি এ নির্দেশ অমান্য করে তাহলে সংশিস্নষ্ট ব্যাংকের বিরম্নদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু কিছু পণ্যের ওপর সুদের হার ১২ শতাংশ নামিয়ে আনায় কারণে একাধিক ব্যাংক সংশিস্নষ্ট আমদানিকারকদের ঋণ দিচ্ছে না। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ঋণপত্রও নিচ্ছে না। ফলে সরবরাহে বাধা সৃষ্টি ও আগামীতে ভোজ্যতেলের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিশোধিত ও অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের আমদানির প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি আমদানিকারকরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে। ফলে এ আশঙ্কার কথা জানিয়ে এবং ব্যাংকগুলোর বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে গত ১০ এপ্রিল চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই চিঠির ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক তার অধীনস্ত সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ভোজ্যতেল আমদানি করতে বা এলসি খুলতে চিঠি দিয়েছে বলেও সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র মতে, বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিত্যপণ্য বিশেষ করে ভোজ্যতেল আমদানি ঋণপত্রের সুদের হার নামিয়ে ১২ শতাংশ করা হয়। ওই হারে ঋণপত্র খুলতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারী ও বেসরকারী ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই নির্দেশ অনেক ব্যাংক পাত্তা দিচ্ছে না। এমন অবস্থায় অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে ১২ শতাংশের বেশি সুদ দিয়ে ভোজ্যতেলের ঋণপত্র খুলছেন। কারণ ১২ শতাংশে ঋণপত্র খুলতে চাচ্ছেনা ব্যাংকগুলো। এ নিয়ে ব্যবসায়ী ও ব্যাংককারদের মধ্যে বাগ্বিত-া চলছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং খাতে এ ধরনের চিত্র বিদ্যমান থাকলেও সম্প্রতি সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক এর সমাধানে জোরালো উদ্যোগ নিয়েছে।