মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ১১ মে ২০১১, ২৮ বৈশাখ ১৪১৮
মহাসড়কের পাশে হবে ট্রমা সেন্টার, থাকবে সব চিকিৎসাসেবা
দুর্ঘটনায় হতাহতের হার অর্ধেকে আনতে মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা দশক কার্যক্রম
নিখিল মানখিন ॥ সরকার 'সড়ক নিরাপত্তা দশক কার্যক্রম : ২০১১-২০২০' কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে ৮টি মন্ত্রণালয় ও বেশ কয়েকটি বেসরকারী সংস্থা সমন্বিতভাবে এটি বাস্তবায়নে কাজ করবে। সড়ক দুর্ঘটনার কারণে আহত ও মৃত্যুর হার শতকরা ৫০ ভাগে কমিয়ে আনাসহ সকল প্রকার আহতদের যথাসময়ে সঠিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হবে। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি মহাসড়কের আশপাশে 'ট্রমাটিক ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার সেন্টার' স্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এসব সেন্টারে সার্জারিসহ সংশিস্নষ্ট বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালন করবেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের 'রোড সেফটি এ্যান্ড ইনজুরি প্রিভেনশন প্রোগ্রাম'-এর মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, সারাবিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ১৩ লাখ মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। দুর্ঘটনার শিকার হয় আড়াই কোটি থেকে ৫ কোটি মানুষ। দৰিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৪০ জন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। এর মধ্যে শতকরা ৪৬ ভাগ পথচারী, সাইকেল ও মোটরসাইকেল আরোহী। শতকরা ৪৮ ভাগ মোটরযান যাত্রী। কম ও মধ্যআয়ের দেশসমূহে শতকরা ৯০ ভাগ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। যাদের মধ্যে নিবন্ধনকৃত গাড়ির সংখ্যা শতকরা ৪৮ ভাগ। বাংলাদেশেও সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র ভয়াবহ। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মতে, ১৯৯৯ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় এফআইআরের সংখ্যা প্রতিবছর ৫ হাজারের বেশি। ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় মৃতু্যর গড় হার শতকরা ১৪ ভাগের বেশি। সড়ক দুর্ঘটনাজনিত কারণে দেশের প্রতিবছর ৩ হাজার ৮শ' কোটি টাকা ৰতি হয়, যা দেশে জিডিপির শতকরা ১ দশমিক ৫ ভাগ। আর এ ৰতির পরিমাণ দেশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বার্ষিক বাজেটের প্রায় ৩ গুণ। সড়ক দুর্ঘটনা যে প্রকারেই হয়ে থাকুক, আহতদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের দায়িত্ব স্বাস্থ্য সেক্টরের ওপরেই গিয়ে পড়ে। তাই সড়ক দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্য সেক্টরের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার মোঃ সিফায়েত উলস্নাহ জনকণ্ঠকে জানান, সড়ক দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্য সেক্টরের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। ইনজুরির শিকার হওয়া রোগীদের চিকিৎসার দায়ভার স্বাস্থ্য সেক্টরকেই নিতে হয়। সড়ক নিরাপত্তা দশক কার্যক্রমভিত্তিক নানা কর্মসূচী হাতে নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতর। দুর্ঘটনাজনিত মৃতু্য ও দুর্ঘটনা মোকাবেলার জন্য জাতীয় কৌশলপত্র তৈরি করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি মহাসড়কের আশপাশে 'ট্রমাটিক ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার সেন্টার' স্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এসব সেন্টারে সার্জারিসহ সংশিস্নষ্ট বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালন করবেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের 'রোড সেফটি এ্যান্ড ইনজুরি প্রিভেনশন প্রোগ্রাম'-এর মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, আগামী ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনাজনিত কারণে ইনজুরি ও মৃত্যুর হার শতকরা ৫০ ভাগে কমিয়ে আনার লৰ্যে কাজ করা হবে। এ কার্যক্রম সফল হলে ৫০ লাখ সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মৃতু্য এবং ৫ কোটি টাকার ৰয়ৰতির হাত থেকে রৰা পাওয়া সম্ভব।