মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০১১, ১০ বৈশাখ ১৪১৮
না'গঞ্জে কমিউনিটি পুলিশ কর্মকর্তাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেফতার ১
বিক্ষোভ, থানা ঘেরাও
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ ॥ নারায়ণগঞ্জে কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন খোকনকে (৫০) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার ফতুল্লার পৌষাপুকুর পাকিস্তান খাদ থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এদিকে দুপুরে কবির হোসেন হত্যার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে সালেহা বেগমের গ্রেফতারের দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও ফতুল্লা মডেল থানা ঘেরাও করেছে। এ সময় পুলিশের লাঠিপেটায় শিশুসহ ৪ জন আহত হয়েছে। পরে পুলিশ পৌষাপুকুরপাড় এলাকার বাড়ি থেকে অভিযুক্ত সালেহা বেগমকে গ্রেফতার করে। নিহত খোকন ফতুল্লার বাতিলা রেললাইন এলাকার শাহেদ আলীর ছেলে।
খোকনের স্ত্রী তাসলিমা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১টায় সদর উপজেলার ফতুল্লার বটতলা এলাকার বাসা থেকে তাকে মোবাইলফোন করে ডেকে নিয়ে যায়। বাসা থেকে বের হওয়ার পর খোকনের মোবাইলফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এর পর থেকে খোকন নিখোঁজ থাকে। শুক্রবার সকালে খবর পান তাঁর স্বামীকে কে বা কারা হত্যার পর লাশ পুকুরে ফেলে রেখে গেছে। তিনি আরো জানান, এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ করায় একই এলাকার সালেহা বেগম নামে এক মহিলার সঙ্গে সম্প্রতি কমিউনিটি পুলিশের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। কবির হোসেন অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ যুবক-যুবতীসহ সালেহা বেগমকে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে সালেহা বেগম জামিনে মুক্তি পেয়ে উল্টো হয়রানিমূলক মামলা করেন। ওই মামলায় খোকন ছিল সাত নম্বর আসামি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুরে কবির হোসেন হত্যার ঘটনায় কয়েক শ' এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ফতুল্লা মডেল থানা ঘেরাও করে। তারা কবির হোসেন হত্যার জন্য সালেহা বেগমকে দায়ী করে তার গ্রেফতার দাবি করেন। এ সময় পুলিশ বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীকে লাঠিপেটা করে। লাঠিপেটায় নিহত কবির হোসেনের ৪ বছরের শিশু সোনিয়া আক্তার, কামাল হোসেন, পনির মিয়াসহ ৪ জন আহত হয়। পরে দুপুরে এলাকাবাসীর দাবির মুখে পুলিশ ফতুলস্না পৌষাপুকুরপাড় এলাকার বাড়ি থেকে অভিযুক্ত সালেহা বেগমকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।