মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০১১, ১০ বৈশাখ ১৪১৮
মুন্সীগঞ্জে আ'লীগের দু'গ্রুপে সংঘর্ষে আহত ২২
ইউপি প্রার্থী বাছাই
স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ শুক্রবার বিকেলে গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দীতে আওয়ামী লীগের দু'গ্রুপের সংঘর্ষে ২২ ব্যক্তি আহত হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাই নিয়ে বৈঠক চলাকালে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এম ইদ্রিস আলীর উপস্থিতিতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দু'গ্রুপের সমর্থকরা পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়। পুলিশ জানায়, গজারিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক মিঠু ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আরিফ হোসেন গ্রম্নপের মধ্যে এই সংঘর্ষ বাধে। আহত জাহাঙ্গীর, সেলিম, ডালিম, শাজাহান ও বাবুকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, প্রার্থী বাছাই সংসদ সদস্যের অবৈধ হস্তক্ষেপ। এতে দলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট ছাড়াও দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে এম ইদ্রিস আলী এমপির সঙ্গে যোগাযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
দলীয় প্রার্থী ঘোষণায় সরকারদলীয় এই স্থানীয় সংসদ সদস্য, গজারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামরম্নল হাসান চৌধুরী এবং উপজেলা চেয়ারম্যান রেফায়েতউল্লাহ খান তোতা ইউপি ভবনে এক বৈঠকে বসেন। এরই মধ্যে বাইরে আওয়ামী লীগের সমর্থন প্রত্যাশী এই দু'গ্রুপ এ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সমর্থকরা মিছিল নিয়ে বৈঠকস্থলে আসতে গেলে প্রতিপক্ষ সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মনিরম্নল হক মিঠুর সমর্থকরা মিছিলে হামলা চালায় বলে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আরিফ হোসেন অভিযোগ করেন। অন্যদিকে মিঠু এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, বৈঠকের আশপাশে শান্তিপূর্ণভাবে তাঁর পক্ষের সমর্থকরা অবস্থান নেয়। কিন্তু আরিফ হোসেনের লোকজন উস্কানি দিয়ে এই সংঘর্ষ বাধায়।
গজারিয়া ওসি আরজু মিয়া জানান, বেলা ৩টার দিকে বৈঠক শুরু হয়। এরই মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মিন্টুসহ আওয়ামী লীগের তিন প্রার্থীর কয়েক হাজার সমর্থক লাঠি, সরকি, ফালা, টেটাসহ দেশী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে স্ব স্ব প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেয়। পরে সেখানে র্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এদিকে অবস্থা বেগতিক দেখে দলীয় একক প্রার্থী ঘোষণা ছাড়াই বৈঠক শেষ করে সংসদ সদস্যসহ নেতৃবৃন্দ সন্ধ্যায় ফিরে আসেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।