মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০১১, ১০ বৈশাখ ১৪১৮
মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তি দেশকে পেছনে নিয়ে যেতে চায় ॥ মেজর রফিক
চট্টগ্রামে মিলনমেলা
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, বাহাত্তরের সংবিধান পুনর্প্রতিষ্ঠা এবং একটি শোষণহীন দেশ গড়ার প্রত্যয়ে শুক্রবার চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধকালীন ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা বাহিনীর মিলনমেলা। এতে আলোচকগণ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ লালিত বাংলাদেশকে জীবন দিয়ে হলেও সুরক্ষিত রাখতে হবে। চট্টগ্রাম নগরীর মুসলিম হল চত্বরে দু'দিনব্যাপী এ উৎসবের উদ্বোধন করেন শহীদ জায়া বেগম মুশতারি শফি। আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম। প্রস্তুতি পরিষদ চেয়ারম্যান কমিউনিস্ট নেতা আহসান উলস্নাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধকালীন ১নং সেক্টরের সাব-কমান্ডার ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, গণফোরাম প্রেসিডিয়াম সদস্য পঙ্কজ ভট্টাচার্য, কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদউলস্নাহ চৌধুরী, উৎসব কমিটির আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শাহ আলম, ন্যাপ নেতা বখতেয়ার নুর সিদ্দিকী, আলী আহমদ নাজির, উদয়ন নাগ, মিয়া জাফর প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন অধ্যাপক অশোক সাহা, পুলক দাশ ও ফজল আহমদ।
সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব) রফিক বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী দেশী-বিদেশী অপশক্তি বাংলাদেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যেতে চায়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করতে চায়। তারা পশ্চাৎপদতা, রক্ষণশীলতা, মৌলবাদ ও প্রতিক্রিয়াশীলতাকে প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টায় এখনও তৎপর। রাজনীতি, রাষ্ট্রযন্ত্র এবং সমাজ অভ্যনত্মরে প্রতিক্রিয়াশীলরা খুবই সক্রিয়। এ অপশক্তি দেশের অগ্রগতি চায় না। এরা চায় না বাংলাদেশ বিশ্ব সভায় সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে দাঁড়াক। এ অপশক্তির বিরম্নদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে জনগণকে নিয়ে দুর্বার লড়াই সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।
পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী সকল রাজনৈতিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ না হলে প্রতিক্রিয়াশীলরা আবার ছোবল মারবে। দেশ অনেক পিছিয়ে যাবে। সিপিবি নেতা শহীদউলস্নাহ চৌধুরী বলেন, হাতেগোনা কিছু লোক দেশে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে। এ লুটেরারা যে দলেই থাকুক না কেন এরা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধ্বংস করবে। সকালে উদ্বোধনী বক্তব্যে বেগম মুশতারি শফি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এ সরকারকে অবশ্যই করতে হবে। বাহাত্তরের মূল সংবিধানের ভিত্তিতেই দেশ পরিচালনা করতে হবে।
যুদ্ধকালীন ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি- ছাত্র ইউনিয়ন গেরিলা বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধা ইউনিয়ন বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট কমান্ড আয়োজিত দু'দিনব্যাপী এ উৎসবে মিলনমেলা ছাড়াও রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় প্রদানকারীদের প্রতি সম্মান জানানোসহ মুক্তিযুদ্ধের এ্যালবাম প্রকাশনা উৎসব। সকাল ১১টায় উৎসব উদ্বোধনের পর বের করা হয় একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। ন্যাপ নেতা এ্যাডভোকেট আবদুল মোমেন ভুইয়ার সভাপতিত্বে উৎসবের প্রথম অধিবেশনে শোক প্রসত্মাব করেন আবদুল হাকিম। স্মৃতিচারণ করেন প্রাক্তন চাকসু ভিপি মুক্তিযোদ্ধা শামসুজ্জামান হিরা, ছাত্র ইউনিয়ন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবদুলস্নাহ, ডা. একিউএম সিরাজুল ইসলাম, অধ্যক্ষ শেখর দসত্মিদার, মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এ্যাডভোকেট আনোয়ারম্নল কবির চৌধুরী। দিন শেষে এ্যাডভোকেট আনোয়াররম্নল কবির চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ্যালবাম প্রকাশনা উৎসবে এ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করেন সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনায় ছিল দেশাত্মবোধক গান ও গণসঙ্গীতের অনুষ্ঠান। এছাড়া প্রদর্শিত হয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র।