মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০১১, ১০ বৈশাখ ১৪১৮
গুজরাট দাঙ্গায় নরেন্দ্র মোদি জড়িত ॥ সুপ্রীমকোর্টে পুলিশ কর্মকর্তার এফিডেভিট
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ ভারতে সঞ্জয় ভাট নামের শীর্ষস্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা সেদেশের সুপ্রীমকোর্টে এক হলফনামায় বলেছেন, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইচ্ছাকৃতভাবেই ২০০২ সালে সম্প্রদায়িক দাঙ্গা চলতে দিয়েছিলেন।
সঞ্জয় ভাট শুক্রবার তাঁর এই হলফনামায় বলেন, ২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসায় একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আমিও উপস্থিত ছিলাম। ওই সভায় নরেন্দ্র মোদি পুলিশ কর্মকর্তাদের বলেছিলেন কেউ সাহায্যের আবেদন করলে তারা যেন তা উপেৰা করেন। মোদি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে জন্য মুসলমানদের শিক্ষা হওয়া উচিত। হিন্দুদের মধ্যে চরম ক্ষোভ কাজ করছে এবং তাদের তা প্রশমনের সুযোগ দেয়া হোক। সভায় পুলিশ কর্মকর্তারা মোদিকে বলেন, গোধরা ট্রেনে আগুনে নিহতদের লাশ আহমেদাবাদে নেয়া হলে এবং ভিএইচপির ডাকা ধর্মঘটে বিজেপি সমর্থন দিলে শহরে ও সারা প্রদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়বে যা সামলানোর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল পুলিশের নেই। কিন্তু এ যুক্তি মানেনি মোদি। খবর বিবিসি, টাইমস অব ই-িয়া ও দ্য হিন্দু অন লাইনের।
সঞ্জীব আহমেদাবাদে সাংবাদিকদের বলেন, হলফনামায় আমি সত্য কথা বলেছি। আদালত যদি সত্য ঘটনা বা তথ্য চায় তাহলে আমার এই হলফনামায় তা পাবে। তিনি হলফনামায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের কারণে ২৮ ফেব্রম্নয়ারি গুজরাটে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোশকতায় ধর্মঘটে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা দমনে পুলিশের ভূমিকা পর্যাপ্ত ছিল না এবং পরবর্তী সপ্তাহগুলোতেও একই ভূমিকা পালন করে পুলিশ।
দাঙ্গার সময় গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত ছিলেন সঞ্জীব। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা অন্ধের মতো মুখ্যমন্ত্রীর আদেশ মেনে চলি। আর এ কারণেই আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটে।
সঞ্জীব ভাট আরও বলেন, বিশেষ তদনত্মকারী টিমের প্রতি তাঁর কোন আস্থা নেই। আর এ কারণেই তিনি উচ্চ আদালতে এফিডেভিট দাখিল করেছেন। এফিডেভিটে ভাট আদালতের কাছে নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন ।
উল্লেখ্য, একটি ট্রেনে অগি্নসংযোগের ঘটনায় ৬০ জন হিন্দু তীর্তযাত্রী নিহত হওয়ার পর ২০০২ সালে গুজরাটে দাঙ্গা শুরম্ন হয়। ওই দাঙ্গায় এক হাজারেরও বেশি লোক নিহত হয়। নিহতদের অধিকাংশই ছিল মুসলিম। দাঙ্গা নিয়ে গতবছর এসআইটির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন মোদি। তখন বৈঠকে সঞ্জীবের উপস্থিতির কথা অস্বীকার করেন তিনি।