মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০১১, ১০ বৈশাখ ১৪১৮
সংবিধান সংশোধন করে সেনা অভ্যুত্থান ঠেকানো যাবে না
আলোচনায় রফিকুল হক
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ব্যারিস্টার রফিকুল হক বলেছেন, সংবিধান সংশোধন করে সেনা অভ্যুত্থান ঠেকানো যাবে না। এজন্য প্রয়োজন মানসিক এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন।
শুক্রবার 'বাংলাদেশের সংবিধান : ইস্যু ও চ্যালেঞ্জ' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ বক্তব্য রাখেন। একই অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে সরকার জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে। সরকার একবার বলে দেশে সংবিধান আছে, আবার বলে সংবিধান সংশোধনের কাজ চলছে। রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ আলোচনাসভার আয়োজন করে সেন্ট্রার ফর ন্যাশনাল স্টাডিজ। এতে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার এমপি, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, সাংবাদিক আতাউস সামাদ, সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড. খন্দকার মাহবুব হোসেন, সাবেক এ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ এবং ঢাবির আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরম্নল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. বোরহানউদ্দিন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিচার বিভাগের সমালোচনা করে ব্যারিস্টার রফিকুল হক বলেন, আমাদের দেশের বিচারপতিরা বাতাসের দিক দেখে রায় প্রদান করেন। যেদিকে বাতাস বেশি থাকে তাদের রায়ও সেদিকে যায়। আইন করে সামরিক আইন জারি বন্ধ করা যাবে না। এজন্য দেশের দুই প্রধান নেত্রীসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মানসিকতায় এবং রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, সংবিধান একটি স্পর্শকাতর দলিল। এতে যত কম হাত দেয়া যায় তত ভাল। যাঁরা খসড়া সংবিধান ছাপিয়েছেন তাঁদের শাসত্মির ব্যবস্থা করা উচিত। প্রধান বিচারপতির নির্দেশের ওপর ভিত্তি করে তা যদি ছাপানো হয়ে থাকে তাহলে তারও বিচার হওয়া প্রয়োজন। পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের রায়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি সিনেমা হলের মামলাকে কেন্দ্র করে বিচারপতি তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে রায় দিয়েছেন। এ রায়ে বির্তক রয়েছে। সংবিধান সংশোধন নিয়ে সরকার জালিয়াতি করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির কাছে মতামত দেয়ার জন্য বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে আমন্ত্রণের বিষয় উলেস্নখ করে মওদুদ আহমেদ বলেন, সংবিধান সংশোধন করে কমিটি গঠনের ৭ মাস পর লোক দেখানোর জন্য বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার কথা বলা হচ্ছে।
দেশে সংবিধান আছে কিনা_ বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, অবশ্যই দেশে সংবিধান আছে। সংবিধানকে কেউ বাতিল করেনি। কেউ কেউ দেশে সংবিধান নেই বলে বিভ্রানত্মি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। বিভ্রানত্মি না ছড়িয়ে ধর্ম, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলসহ সংবিধানের গুরম্নত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হতে পারে বলে মনত্মব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক দেশের জন্য ধর্মভিত্তিক দল থাকার প্রয়োজন রয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ ৯০ দিনের বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত।
এমকে আনোয়ার তাঁর বক্তব্যে ছাপানো খসড়া সংবিধানের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান সরকার পঞ্চম সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল করতে পারবে না। যদি করে তাহলে আবার দেশে চতুর্থ সংশোধনী বহাল হবে এবং দেশে বাকশাল ফিরে আসবে। একই সঙ্গে সরকার পুরোপুরি '৭২ সালের সংবিধানে ফিরে যেতে পারবে না বলেও মনত্মব্য করেন এমকে আনোয়ার।
অধ্যাপক আসিফ নজরম্নল বলেন, বঙ্গবন্ধু সরকার থেকে শুরম্ন করে সব সরকার দল বা ব্যক্তিস্বার্থে সংবিধান পরিবর্তন করেছে। কোনদিন জনগণের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে সংবিধান সংশোধন করা হয়নি। বর্তমান সরকার পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের রায়ের ওপর ভিত্তি করে সংবিধান সংশোধন করার উদ্যোগ নিলেও আমরা এ নিয়ে শঙ্কিত। খসড়া সংবিধানে বেশকিছু অসঙ্গতি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর হাতে ৰমতা কুৰিগত করার নাম সংসদীয় গণতন্ত্র নয়। দেশে যতবার সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে তাতে সব সময় ৰমতা কুৰিগত করা ও বিদেশীদের স্বার্থ গুরম্নত্ব পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিদেশীদের সঙ্গে যে কোন চুক্তি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের কোন বিধান খসড়া সংবিধানে নেই_ এটা উদ্বেগের বিষয়।
অনুষ্ঠানে সেন্ট্রার ফর ন্যাশনাল স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক সাবিহউদ্দিন আহমেদ ছাড়াও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি নেতা শওকত মাহমুদ, আসাদুজ্জামান রিপনসহ বিভিন্ন দূতাবাসের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।