মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০১১, ১০ বৈশাখ ১৪১৮
ফি'র বিনিময়ে ট্রানজিট ও ৬১ পণ্যের শুল্ক প্রাধান্য পাবে
আজ ভারত বাংলাদেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক
মিজান চৌধুরী ॥ ফি বা টোলের বিনিময়ে ভারত ১৫টি করিডরে ট্রানজিট চাইবে। করিডরগুলো শনাক্ত করে ইতোপূর্বে ভারত প্রস্তাব পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ৬১টি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়াসহ ছয়টি বাণিজ্য ইস্যুর অগ্রগতির বিষয় ভারতের কাছে জানতে চাইবে। আজ শনিবার দুই দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠকের এজেন্ডায় এসব বিষয় থাকছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
দু'দিনের সফরে বাংলাদেশে শুক্রবার পৌঁছছে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী আনন্দ শর্মাসহ ৩৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জীর পর এবার সফর বাণিজ্যমন্ত্রীর। মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ভারতের বাণিজ্য সচিব, শিল্প সচিব ও ২২ সদস্যের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল থাকছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খানের আমন্ত্রণে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী আসছেন। গত অক্টোবরে দিল্লী সফরকালে মুহাম্মদ ফারুক খান আমন্ত্রণ জানালে আনন্দ শর্মা গ্রহণ করেন। সফরের প্রথম দিন শনিবার সকালে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন আনন্দ শর্মা। মধ্যাহ্নভোজের পর খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে সাৰাত করবেন। রাতে বাণিজ্যমন্ত্রীর আয়োজনে ডিনারে অংশ নিবেন। পরের দিন রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনি সাৰাত করবেন। সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে ভারতের পৰ থেকে ট্রানজিট ইসু্যকে বেশি গুরম্নত্ব দেয়া হবে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী ১৫টি করিডোরে বাংলাদেশের কাছে ট্রানজিট চাইবে। বাংলাদেশের রাসত্মা, রেল ও নদীপথে ট্রানজিট ব্যবহারের জন্য ভারত ১৫টি করিডর শনাক্ত করেছে। সূত্র আরও জানায়, ট্রানজিটের জন্য রাসত্মা, রেলওয়ে ও নদীর অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশকে ৫শ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে হবে। ট্রানজিটের বিনিময়ে ফি বা টোল কোনটি বাংলাদেশ গ্রহণ করবে তাও জানতে চাওয়া হবে। তবে বর্তমান বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বানিজ্য ঘাটতি ৩শ' কোটি ডলার। ফি বা টোলের বিনিময় ট্রানজিট দিলে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি পূরণে তা ব্রিজ হিসেবে কাজ করবে এমন প্রসত্মাব দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের।
সূত্র মতে, বাংলাদেশের ১৪টি অবকাঠামো উন্নয়নে একশ' কোটি ডলার ঋণ দেয়ার চুক্তিতে স্বাৰর করে ভারত। কিন্তু এই ঋণের টাকা দেয়ার বিষয় ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রীর এজেন্ডায় স্থান পায়নি। তবে ভারতের পৰ থেকে তাদের পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ ও বাংলাদেশের সার্টিফিকেশন ইসু্য নিয়েও আলোচনা করা হবে। রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাৰাত করবেন আনন্দ শর্মা। ওই আলেচনায় গত বছর জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরের সময় ট্রানজিট ইসু্য ও একশ' কোটি ডলার ঋণ দেয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
এদিকে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে পাঁচটি ইসু্যর অগ্রগতি জানতে চাইবে দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী। জনকন্ঠকে বানিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, গত বছর অক্টোবর মাসে আমি ভারত সফর করেছি। ওই সময় সে সব বিষয়ে আমাকে আশ্বাস দেয়া ছিল সেগুলোর অগ্রগতি জানতে চাওয়া হবে।
বিশেষ করে বাংলাদেশের ৪৮০টি পণ্য ভারতের নিষিদ্ধ তালিকায় রয়েছে। দিলস্নী সফরকালে নিষিদ্ধ তালিকা থেকে ৬১টি পণ্য বাদ দিয়ে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা প্রদানের সুপারিশ করি। ভারত সরকার এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদৰেপ নেয়ার আশ্বাস দেয়। তবে ওই সিদ্ধানত্ম বাসত্মবায়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রতিবছর ৮০ লাখ পিস তৈরি পোশাক ভারতে রফতানি করা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেয়। ভারত প্রতিবছর বাংলাদেশের কাছে ২০ লাখ বেল তুলা রফতানি করবে এই কোটা চাওয়া হয়। তার অগ্রগতির ব্যাপারে জানাব। বর্ডার হাট চালুর ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাৰর হয়েছে। সীমানত্ম হাট চালুর বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রফতানিকৃত পাটের ব্যাগের উপর মেড ইন বাংলাদেশ লিখতে বলা হয়েছে। কিন্তু আমরা বুঝাতে সৰম হয়েছি আনত্মর্জাতিক আইন অনুযায়ী এ ধরনের লেখা হয় না। এতে ভারতের পৰ থেকে তাদের আইন সংশোধনের আশ্বাস দেয়। ইতোমধ্যে ভারত পাট রফতানির উপর শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়। বিএসটিআই ভারতের এ্যাক্রিডেশন বোর্ডে আবেদন করেছে। তাদের দেয়া ১৫টি আইটেমের উপর বিএসটিআই সার্টিফিকেশন দেয়ার কাজ করছে। এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে।
চলতি বছর বাংলাদেশ ভারত দুই দেশের বাণিজ্য ৪শ' কোটি ডলারে পেঁৗছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ভারত থেকে ৩শ' কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে। বাংলাদেশে ভারতে পণ্য রফতানি করছে ৫০ কোটি ডলার। ২০০৯-১০ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারত থেকে পণ্য আমদানি করেছে ৩২১ কোটি মার্কিন ডলারের। ওই বছর ভারত পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ থেকে ৩১ কোটি ডলার। বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়ায় ২৯০ কোটি ডলার।