মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০১১, ১০ বৈশাখ ১৪১৮
রক্তিম কৃষ্ণচূড়া_ সবুজের মাঝে অপূর্ব দীপ্তি
গ্রীষ্মের রূপ
সৈয়দ সোহরাব ॥ রৌদ্রতপ্ত বৈশাখকে রাঙিয়ে দিয়ে ফুটে আছে কৃষ্ণচূড়া। গাছের শাখায় শাখায় অজস্র প্রস্ফুটন। শোভাবর্ধনকারী পথতরু হিসেবে তুলনা নেই এর। এক সময় ঢাকা শহরের প্রধান পথতরুই ছিল এ কৃষ্ণচূড়া। এখন সে স্থান দখল করে নিয়েছে অপুষ্পক দেবদারু বা নানা ধরনের পাতাবাহারি গাছ। তবে কোন কোন রাস্তার ডিভাইডারে পুষ্পসমেত গাছও দেখা যায়। ইট পাথরের এই কৃত্রিম শহরে নানা পরিবর্তনের মাঝে এখনও রমনা ও সংসদ ভবন এলাকায় রয়ে গেছে কৃষ্ণচূড়ার কিছু সারি। দৃষ্টিনন্দন এ ফুলের শোভা ছড়ানো_ছিটানো অবস্থায় আরও দেখা যায় ধানমণ্ডি এলাকা ছাড়াও নগরীর নানা স্থানে এবং বাসাবাড়িতে।
প্রকৃতির নানা বৈচিত্র্য ধরা দেয় ষড়ঋতুর মধ্য দিয়েই। চোখ মেলে তাকালে গ্রীষ্মেরও একটা রূপ খুঁজে পাওয়া যায়। হোক না তা রোদের তাপ আর ঘাম ঝরা দিন। এর মাঝেও গাছে গাছে ফুটে নানা রঙের বর্ণাঢ্য ফুল। রক্তিম লাল আর কমলা রঙের কৃষ্ণচূড়া, বেগুনী জারুল, কাঁচা হলুদ সোনালু, গোলাপী কাঠগোলাপের মতো আরও অনেক বৃক্ষের ফুলে ফুলে ছেয়ে থাকা শাখা সবুজের সমারোহের মাঝে যেন ছড়িয়ে দিয়েছে এক অপূর্ব দীপ্তি। এই বৈশাখেই গ্রামের পথে ঝাঁকবাঁধা লাল কৃষ্ণচূড়ার মিতালী দেখে মনে হয়_ 'কৃষ্ণচূড়ার আগুন যেন ফাগুন বেলারই'। প্রকৃতিও বুঝি কৃষ্ণচূড়া ফুটিয়ে দেয় তপ্ত দিনগুলোকে সাজাতেই। সব কিছু ছাপিয়ে এ সময়টায় কৃষ্ণচূড়ার রং যেন আবির মেখে রং ছড়ায় ঋতু বৈচিত্র্যের। তাই বর্ষবরণেও এর রং হয়ে ওঠে বৈশাখেরই রং।
গ্রীষ্মের ঝলমলে রোদের মতোই এ মৌসুমের ফুলগুলো হয় উজ্জ্বল রঙের। কৃষ্ণচূড়া, রাঁধাচূড়া, জারম্নল বা সোনালুর দিকে তাকালেই বোঝা যায় তা। বড় গাছের ফুলের সৌন্দর্য যেমন তার প্রস্ফুটনের প্রাচুর্যে, তেমনি গ্রীষ্মের ছোট ছোট মৌসুমী ফুলের শোভাও যে হেলাফেলার নয়, তার প্রমাণ পাওয়া যায় পার্কে এলেই। মিরপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেনে গেলেও প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য চোখে পড়বে নগরবাসীর। সেখানকার ফুলগুলো এখন ধারণ করে আছে গ্রীষ্মের বর্ণিল রূপ। তবে নগরীর শোভাবর্ধন করে সবার বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করছে কৃষ্ণচূড়াই। এ সময়ে এই ফুল মানুষের বাসাবাড়িতে, পার্কে, রাসত্মার ধারের গাছে ফুটে আছে ঝাঁকে ঝাঁকে। বিশেষ করে সংসদ ভবন এলাকা ও এর আশপাশের হাসপাতাল, যেমন_ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, পঙ্গু ও শিশু হাসপাতাল গেলেই দেখা যায় এই দৃষ্টিনন্দন গাছের সারি, যা জুড়িয়ে দিচ্ছে দর্শনার্থীর চোখ। যেন এখানকার পুরো আকাশই ছেয়ে আছে কমলা ও রক্তিম লাল রঙে। নজরকাড়া এই রঙের জন্য ছোট-বড় সবারই প্রিয় এ ফুল।
উলেস্নখ্য, কৃষ্ণচূড়া ঈধবংধষঢ়রহরবধব গোত্রের উবষড়হরী ৎবমরধ প্রজাতির আকর্ষণীয় একটি ফুল। এর গাছ মধ্যম থেকে লম্বা গড়নের হয়, মাথা থাকে ছড়ানো। ফুল ফোটে এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যনত্ম। কমলা বা লাল রঙের এ ফুল গাছের আগায় থাকে গুচ্ছাকারে। আগস্ট থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝিতে ফল হয়। শুঁটি ৩০ থেকে ৬১ সে.মি. পর্যনত্ম লম্বা হয়, আর শুষ্কাবস্থায় থাকে শক্ত ও কালো। চমৎকার পাতা ও সুন্দর ফুলের জন্য সারাদেশে আদৃত এবং বাগান ও রাসত্মার পাশে রোপিত। কাঠ হয় শক্ত ও চকচকে। সার কাঠ টেকসই বলে খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয় নানা কাঠামোয় এবং সাধারণ নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত হয়। কৃষ্ণচূড়া আমাদের দেশী ফুল নয়। মাদাগাস্কারের আদি নিবাস। শীতে পাতা ঝরে যায়। তখন রম্নগ্ন শুকনো মনে হয় গাছটিকে। বসনত্মের শুরম্ন থেকে শাখায় শাখায় নবপলস্নবের সবুজ উদ্ভাস ঘটে। বৈশাখে সেই সবুজের উপর দিয়ে অজস্র গাঢ় লাল ফিকে বা লালের মাঝে সাদার ছিট দেয়া ফুলের প্রস্ফুটন জানান দেয় তপ্ত দিনের আগমনী বার্তা। কৃষ্ণচূড়া শাখায় থাকে বর্ষার মাঝ নাগাদ অবধি। তার উপস্থিতিতেই লাবণ্যময় হয়ে ওঠে প্রকৃতিতে সবুজের সমারোহ।