মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১১, ১৫ ফাল্গুন ১৪১৭
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাহাড়ের সন্ধান লাভ
দুমলং
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাহাড়ের সন্ধান পেয়েছে ঢাকার 'নেচার অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব' এর চারজন তরুণ। রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত এ পাহাড়টি স্থানীয় আদিবাসীদের কাছে "দুমলং" নামে পরিচিত। পাহাড় জয় করে সেখানে তাঁবু টানিয়ে রাত কাটিয়ে এসেছেন এঁরা।
জারমিন জি.পি.এস. (গোবাল পজিশনিং সিস্টেম)-এর সাহায্যে এর উচ্চতা পরিমাপ করা হয়েছে ৩ হাজার ৩১৪ ফুট। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ওয়াদুদ মহসিন রম্নবেল জানান, এর আগে ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তাদের সংগঠন দেশের সর্বোচ্চ পাহাড় "সাকা হাফং"-এর সন্ধান পায়। সাকা হাফং পাহাড়টিই দেশের সর্বোচ্চ পাহাড়। যার উচ্চতা ছিল ৩ হাজার ৪৮৮ ফুট। নেচার অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব সাকা হাফং কে দেশের সর্বোচ্চ পাহাড় হিসেবে দাবি করার পর এবার দুমলং পাহাড়কে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাহাড় হিসাবে দাবি করছে। এ পাহাড়ের উচ্চতা যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তার স্বীকৃতি দিতে সরকারের কাছে সংগঠনের পৰ থেকে দাবি জানান তিনি। এতদিন দেশের সর্বোচ্চ পাহাড় চূড়া হিসেবে পরিচিত কেওক্রাডং পাহাড়ের উচ্চতা ৩ হাজার ১৭২ ফুট। সে হিসেবে 'দুমলং' পাহাড়টির উচ্চতা কেওক্রাডং পাহাড় থেকেও বেশি। অর্থাৎ 'নেচার অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব' বলছে কেওক্রাডং উচ্চতার দিক থেকে তৃতীয়। এ ছাড়া সরকারীভাবে স্বীকৃত তাজিং ডং পাহাড়ের উচ্চতা ২ হাজার ৭২৩ ফুট। দেশের আরো একটি উচু পাহাড় চূড়া হচ্ছে সিপ্পি আরসুয়াং-এর উচ্চতা ৩ হাজার ২৮ ফুট।
যেভাবে পাহাড় জয় ॥ দুমলং পাহাড়টির চূড়া খুঁজে বের করতে মোঃ ওয়াদুদ মহসিন রম্নবেল তার ভ্রমণ সঙ্গী আব্দুল হককে সঙ্গে নিয়ে তিনবার পাহাড়টির আশপাশের গ্রামে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের জন্য পরিদর্শন করেছেন। চতুর্থবার চূড়ানত্ম অভিযানের পরিকল্পনা করলে যুক্ত হয় মোঃ আমিনুর রশিদ আসিফ ও নাগিব মেশকাত ডিকো । ঢাকা থেকে ১৪ ফেব্রম্নয়ারি রওনা দিয়ে তারা বান্দরবান পেঁৗছায় ১৫ ফেব্রম্নয়ারি। সেদিন বগা লেক হয়ে পেঁৗছায় হারমন পাড়া। সেখানে রাত্রি যাপন করেন। পরদিন সকালে রওনা দিয়ে পুকুরপাড়া হয়ে পেঁৗছায় প্রংজং পাড়ায় এবং সেখানে দুই রাত্রিযাপন করেন। পরদিন সকালে রওনা দেয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাহাড়ের চূড়া বিজয়ের লক্ষ্যে। প্রথমে তাদের পার হতে হয় রাইংক্ষ্যং খাল। পরে পাহাড়ের গা বেয়ে উপরের দিকে উঠতে শুরম্ন করে। উপরে উঠার আগে তারা সঙ্গে নেয় পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও খাবার। খাবার হিসেবে সঙ্গে ছিল বিশ কেজি চাল, বার কেজি আলু, ত্রিশটি মুরগির ডিম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাবার। এ সব খাবার বহন করতে এবং জঙ্গল কেটে পথ খুঁজে বের করতে প্রংজং পাড়া থেকে সঙ্গে নেয় পাঁচজন নির্দেশক। তাঁরা ছিলেন জোশেফ ত্রিপুরা, মালিরাং ত্রিপুরা, গনেশ ত্রিপুবা, আনিচান্দ ত্রিপুরা এবং হাতিরাং ত্রিপুরা। প্রথম দিন তাদের 'তাইদাং সাহ্ওগা হাফং' নামক একটি পাহাড়ের গায়ে বাঁশবন কেটে রাত্রিযাপন করতে হয় এবং সেখান থেকে অনেক পথ নিচে নেমে পানি সংগ্রহ করতে হয়। তারা মাটি খুঁড়ে পলিথিনে পানি সংগ্রহ করে। পরদিন তাইদাং পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে সক্ষম হয়। পরে কিছুটা পথ এগিয়ে গিয়ে বাঁশঝোপ কেটে তাঁবু টানিয়ে রাত্রিযাপন করে। স্থানীয় আদিবাসীরা তাঁদেরকে জানায়, এ জায়গাটিতে ব্রিটিশ আমলে বিদেশী সৈনিকরা পাহাড় কেটে একটি ছোট্ট রাসত্মা তৈরি করেছিল। ২০ ফেব্রম্নয়ারি দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে তাঁরা দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাহাড় 'দুমলং'-এর চূড়ায় পেঁৗছাতে সক্ষম হন এবং বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরেন। এ পাহাড়ের চূড়া থেকে ভারত ও মায়ানমার দেখা যায়। ভারতের দিকে তাঁরা দেখতে পায় সীমানা ছড়া, গবছড়ি চাকমা পাড়া, ফারম্নয়া ক্যাম্প। সেদিন পাহাড় চূড়ার কাছে রাত্রিযাপন করে পরদিন ২১ ফেরম্নয়ারি সকালে রওনা হয় প্রংজং পাড়ার উদ্দেশে। পথে তারা দেখতে পায় ভালস্নুকের কামড়ানো কলা গাছ, হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণীর পদ চিহ্ন এবং শুনতে পায় বিভিন্ন প্রাণীর কণ্ঠ স্বর। দুমলং বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্ছ পাহাড় হলেও এ পাহাড়টির আরও একটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি রাঙ্গামাটি জেলার সর্বোচ্চ পাহাড়।