মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১১, ৬ মাঘ ১৪১৭
নোয়াখালীর চরে দুই দস্যু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ, ৬ জনকে কুপিয়ে হত্যা
দখল নিয়ে দ্বন্দ্ব ॥ বাড়িঘরে হামলা আগুন গুলি, অস্ত্র উদ্ধার
নিজস্ব সংবাদদাতা, নোয়াখালী, ১৮ জানুয়ারি ॥ নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চরবাশারের দখল নিয়ে দুই দসু্য নাছির কমান্ডার ও মুন্সিয়া চোরা বাহিনীর মধ্যে সোমবার গভীর রাতে তুমুল বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নাছির কেরানী বাহিনীর সশস্ত্র ক্যাডাররা কুপিয়ে হত্যা করেছে মু্ন্সিয়া চোরা ও তার সহযোগী মিয়া সিকদার বাহিনীর ৬ জনকে। এ সময় আহত হয় দু'জন। হামলা চলাকালে বাড়িঘরে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে হাতিয়া থানার জনতা বাজার ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত ৬ জনের লাশ, দু'টি দেশীয় অস্ত্র ও ৫টি গুলির খোসা উদ্ধার করে। নিহতদের মধ্যে গিয়াস উদ্দিন মাঝি (৪০), তার ছেলে রায়হান (১২), লিটন (২৮) ও মহিউদ্দিন (৩০) নামে ৪ জনের পরিচয় পেয়েছে পুলিশ। খবর পেয়ে চরজব্বার থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পেঁৗছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যনত্ম পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
পুলিশ সুপার জানান, সোমবার রাত আড়াইটার দিকে নাছির কেরানী বাহিনীর ২০/২৫ জন সশস্ত্র ক্যাডার চরবাশারে হামলা চালায়। এ সময় তারা মুন্সিয়া চোরা-মিয়া সিকদার বাহিনীর ইউনিট কমান্ডার গিয়াস উদ্দিন মাঝির বাড়িতে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা গিয়াস উদ্দিন মাঝির ঘরে পূর্ব থেকে অবস্থান নেয়া মুন্সিয়া চোরা-মিয়া সিকদার বাহিনীর ক্যাডারদের ওপর গুলিবর্ষণ ও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এ সময় চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে নাছির বাহিনীর ক্যাডাররা পালিয়ে যাবার সময় গিয়াস উদ্দিন মাঝির ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে আগুনে পুড়ে, গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ৬ জন মারা যায়। আহত হয় টিপু (২৮) ও সেলিম (৩০) নামে দুই জন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
খবর পেয়ে মঙ্গলবার হাতিয়ার নঙ্গলিয়ার চরের জনতা বাজার ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনাস্থলে পেঁৗছে ছয় জনের লাশ উদ্ধার করে। তন্মধ্যে আগুনে পুড়ে যাওয়া একজন এবং বহিরাগত হওয়ায় একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দেশীয় একটি রিভলবার, একটি একনলা বন্দুক এবং ৫টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। চরজব্বার থানা থেকে অতিরিক্ত ফোর্স সেখানে পেঁৗছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার কিংবা আহতদের উদ্ধার করতে পারেনি।
এ নিয়ে যোগাযোগ করা হলে সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আ ফ ম নিজাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পৌরসভা নির্বাচনের কারণে পুলিশের স্বল্পতা রয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।