মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১১, ৬ মাঘ ১৪১৭
এমএলএম কোম্পানির ব্যবসার নীতিমালা চূড়ান্ত
ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা করলে শাস্তির বিধান, নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্য দেশ থেকে ব্যবসা পরিচালনা নিষিদ্ধ
মিজান চৌধুরী ॥ ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণার দায়ে শাস্তির বিধান রেখে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানির (এমএলএম) নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্যদেশ থেকে এ দেশে এমএলএম ব্যবসা পরিচালনা নিষিদ্ধ হচ্ছে। বিদেশী কোম্পানির ক্ষেত্রে ঢাকায় স্থানীয় অফিস বাধ্যতামূলক থাকতে হবে। এমএলএম কোম্পানি পরিচালনা করতে যৌথমূলধন কোম্পানির অনুমোদনের বিধান রাখা হয়েছে নীতিমালার খসড়াতে।
খসড়ায় আরও উল্রেখ করা হয়, পণ্য ও সেবা বাজারজাত করার ৰেত্রে গুণগত মানে সরকারী সনদ থাকতে হবে। অলিক কোন পণ্য নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিক্রি করা যাবে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে।এই নীতিমালা 'মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানি নীতি-২০১১' নামে অভিহিত হবে। খুব শীঘ্রই এই নীতিমালা কার্যকর হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে মনিটরিং সেলের মাধ্যমে এমএলএম কোম্পানির কার্যক্রম পুরো তদারকী করা হবে।
সূত্র মতে, মাল্টিলেভেল কোম্পানিগুলো অপরিচিত পণ্য নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাজারজাতের পূর্বে সরকারের অনুমতি নিতে হবে। তবে হস্তান্তরযোগ্য নয় এমন স্থাবর পণ্য যেমন জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, দোকান, অফিস ও গাছ বিক্রি করতে পারবে না। এই ব্যবসার বাইরে রাখা হয়েছে সমবায়, ব্যাংক, বীমা, লিজিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে।
জানা গেছে, এমএলএম কোম্পানিগুলোর প্রতারণা সম্পর্কে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ পর্যনত্ম অনেক অভিযোগ জমা পড়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৪ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম মুর্তজার সভাপতিত্বে সংশিস্নষ্ট এমএলএম কোম্পানিগুলোকে নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে নীতিমালা প্রণয়ন করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি উন্নত বিশ্বের এমএলএম কোম্পানির নীতিমালার আলোকে খসড়া তৈরি করে।
দেশে এমএলএম ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে বাজারজাতের ধরন জানিয়ে যৌথমূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদফতর থেকে রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে। কোম্পানি নিবন্ধনের সময় মার্কেটিং পরিকল্পনা প্রদান করতে হবে। কোম্পানির নূ্যনতম মূলধন রেজিস্ট্রেশনের সময় ঘোষণা দিতে হবে। নিবন্ধনের সময় কোম্পানির ফোন, ফ্যাঙ্, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ভোটার আইডি কার্ডসহ পূর্ণ ঠিকানা প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিদেশী কোম্পানির ৰেত্রে মাদার কোম্পানির আদৌ ভিত্তি আছে কিনা রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স প্রদানের সময় তা নিশ্চিত করতে হবে। কোম্পানি মাদার কোম্পানি কতর্ৃক অনুমোদিত হতে হবে। শুধুমাত্র নেটওয়ার্ক দ্বারা অন্য দেশ থেকে এ দেশে ব্যবসা করা যাবে না।
খসড়া সূত্রে, প্রতিটি ডাইরেক্ট সেলিং কোম্পানিকে লাইসেন্সের জন্য মার্কেটিং পস্নান, কমিশন বণ্টন পদ্ধতি সিটি কপের্ারেশন ও পৌরসভাকে জানাতে হবে। সিটি কপের্ারেশন ও পৌরসভা ব্যবসা সম্পর্কে সুষ্পষ্ট ধারণা পাওয়ার পর লাইসেন্স প্রদান করবে। দেশী ও বিদেশী এমএলএম কোম্পানিকে আয়কর জমা ও ট্যাঙ্ রিটার্ন নিশ্চিত করতে হবে।
এমএলএম ও ডাইরেক্ট সেলিং ব্যবসার বাজারজাতকৃত পণ্যের গায়ে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ উর্ত্তীণের তারিখ ও মূল্য প্রকাশ করতে হবে। এই ব্যবসার ৰেত্রে ভোক্তা অধিকার সংরৰণ আইন ও কম্পিটিশন এ্যাক্ট ২০১১ মানতে বাধ্য থাকবে। তবে এমএলএম কোম্পানি তাদের কমিশন ও বোনাস প্রদানের জন্য কোন ধরনের শেয়ার বিক্রি করতে পারবে না।
খসড়া নীতিমালায় বলা আছে, এ নীতিমালা বাসত্মবায়নের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তবে নীতিমালার বহিভর্ূত কর্মকা-ে সম্পৃক্ত কোম্পানির বিরম্নদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন এক কর্মকর্তা জানান, এই নীতিমালা বাসত্মবায়ন হলে এমএলএম কোম্পানির পণ্য ও সেবার সঠিক তথ্য ভোক্তারা পাবে। ভোক্তা প্রতারিত হবার সম্ভাবনা থাকবে না। মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকে সমবায় ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বাইরে রাখা হয়েছে। শেয়ার ব্যবসার কারসাজির মাধ্যমে কোন বিপর্যয় না ঘটাতে পারে সে লৰ্যে এই নীতিমালা কাজ করবে। এছাড়া এমএলএম কোম্পানিগুলোকে সরকারের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হবে।
বিদেশী কোম্পানি এ দেশ থেকে অযৌক্তিক মুনাফা না করতে পারে এবং বিদেশী কোম্পানির নামে দেশী কোন ব্যবসায়ী অযৌক্তিক মুনাফা অর্জন না করতে পারে এবং মুদ্রাপাচার রোধ হবে এই নীতিমালার মাধ্যমে।
বর্তমান এমএলএম কোম্পানি নিয়ে সরকারের শীর্ষ মহলেও তুলকালাম চলছে। প্রতারণার হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রৰা করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে সতর্কতা জারি করেছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নিজেও এমএলএম কোম্পানির ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন। সর্বশেষ এ বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, এমএলএম কোম্পানিগুলোর সুষ্ঠু ব্যবসা পরিচালনার জন্য খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। খসড়া তৈরির পর ওই আলোকে এসব ব্যবসা পরিচালিত হবে।