মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১১, ৬ মাঘ ১৪১৭
মন্ত্রী এমপিসহ চট্টগ্রাম নগর আ'লীগের ৫ শীর্ষ নেতাকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত
কোন্দলের জের
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগে অন্তর্কোন্দল এমন পর্যায়ে উপনীত হয়েছে যে, এক মন্ত্রী ও এক এমপিসহ ৫ শীর্ষ নেতাকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর চশমা হিলের বাসভবনে গত সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত কার্যকরী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কেন্দ্রের অনুমোদন সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। অপরদিকে, অব্যাহতির তালিকায় থাকা সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেছেন, কাউকে বহিষ্কার করতে হলে দলের সভানেত্রীই করবেন। মাত্র দুই সদস্য বিশিষ্ট মেয়াদোত্তীর্ণ কোন কমিটির এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার নেই।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ থেকে যাদের অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে তারা হলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা. আফসারুল আমীন, সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বিএসসি, সম্পাদকম-লীর সদস্য এ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, রেজাউল করিম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও মেয়াদোত্তীর্ণ নগর কমিটির কোষাধ্যক্ষ আবদুছ ছালাম। সাম্প্রতিক সময়ে এ ৫ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে পৃথক মঞ্চে অবস্থান নিয়েছেন। দলের নেতৃত্বের বিরম্নদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য রেখে তারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ আনা হয় কার্যকরী কমিটির সভায়। উলেস্নখ্য, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগে একদিকে মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রম্নপ ও অন্যদিকে মন্ত্রী আফসারম্নল আমিন ও এমপি নুরম্নল ইসলাম বিএসসির নেতৃত্বে অন্য গ্রম্নপ ব্যাপকভাবে সক্রিয়। রাজনীতিকে সাংগঠনিক কার্যক্রমের চেয়ে এক গ্রম্নপ অন্য গ্রম্নপকে ঘায়েল করার তৎপরতায় লিপ্ত হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। গত প্রায় ৫ বছর ধরে পূর্ণাঙ্গ নগর কমিটি হয়নি। কেন্দ্রের অনুমোদনে মহিউদ্দিন চৌধুরী সভাপতি ও কাজী ইনামুল হক দানু সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন। তাদের নেতৃত্বে কমিটির অন্য কর্মকর্তা ও সদস্যদের তালিকা অদ্যাবধি হয়নি গ্রম্নপিংয়ের কারণে।
মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইনামুল হক দানু মঙ্গলবার জনকণ্ঠকে বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ থাকায় সভার সিদ্ধানত্ম অনুযায়ী আগামী দু'তিন দিনের মধ্যে এ ৫ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হচ্ছে। নোটিস পাওয়ার পনেরো দিনের মধ্যে যদি তারা নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে জবাব না দেন তাহলে গঠনতান্ত্রিকভাবেই তাদের বহিষ্কার আদেশ কার্যকর হয়ে যাবে। নগর সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরীকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দল পরিচালিত হচ্ছে। এসব নেতারা দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মে লিপ্ত হয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে। বার বার তাদের হুঁশিয়ার করার পরও তারা তাদের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকা- অব্যাহত রেখেছেন। ফলে সকলের সম্মতি নিয়ে তাদের বিরম্নদ্ধে এ সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়েছে। কমিটির শক্তিশালী অপর নেতা আ জ ম নাছির জনকণ্ঠকে জানান, বার বার সুযোগ দেয়ার পরও তারা শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রকাশ্যে দলের সভাপতিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন। সর্বশেষ দলের সভাপতিকে তার কথিত অন্যায় কর্মকা-ের জন্য মাফ চাওয়ার পরামর্শও দেয়া হয়েছে। এসব বক্তব্য দলের জন্য যেমন ক্ষতিকর তেমনি কাম্যও হতে পারে না। দলের নিয়মনীতি আছে, গঠনতন্ত্র আছে। যা বলার তারা কমিটিতে বলতে পারেন। এতে কিছু না হলে কেন্দ্রকে অভিযোগ করতে পারেন। কিন্তু তারা উল্টো পথে চলে দলের মারাত্মক ক্ষতি করে চলেছেন। সঙ্গত কারণে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া অন্য কোন উপায় ছিল না।
এ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য নুরম্নল ইসলাম বিএসসির কাছে জানতে চাইলে তিনি মনত্মব্য করেন, "এটি শীতকালের দোষ। শীতকালে অনেকের মাথায় গ-গোল দেখা দিলে যা-তা করে থাকেন।" তিনি বলেন, কাউকে বহিষ্কার করার ক্ষমতা দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার। এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী কাউকে বহিষ্কার করার কে। বিগত সংসদ নির্বাচনে তিনি নিজেই বরং নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরম্নদ্ধে অবস্থান নিয়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছিলেন। বহিষ্কারাদেশের সিদ্ধানত্ম সম্পর্কিত কোন পত্র বা কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দিতে তারা বাধ্য নন বলে তিনি মনত্মব্য করেন। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে কোন একক ব্যক্তির ইচ্ছায় দল পরিচালনার সুযোগ নেই বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
মহানগর আওয়ামী লীগের আরেক নেতা এ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল বলেন, এ ধরনের কোন কারণ দর্শানো নোটিস গ্রহণ করতে আমরা বাধ্য নই। সে ক্ষেত্রে জবাব দেয়ার প্রশ্নও আসে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাউকে বহিষ্কার করার সিদ্ধানত্ম নিতে হয় বর্ধিত সভায় কমিটির সকল সদস্যের মতামতের মাধ্যমে। চশমা হিলের বাসায় কার্যকরী কমিটির বৈঠক ডেকে এমন সিদ্ধানত্ম নেয়া যায় না। তাছাড়া বিগত ২০০৬ সালে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সভাপতি ও কাজী ইনামুল হক দানুকে সাধারণ সম্পাদক করা হলেও এখনও পূর্ণাঙ্গ কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়নি। দলের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হবার আগে এ কমিটির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। কারণ একটি কমিটির মেয়াদ থাকে তিন বছর। তিনি বলেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া কার্যকরী কমিটির সভায় কারা উপস্থিত ছিলেন আর কিভাবেই বা এ সিদ্ধানত্ম নেয়া হলো কিংবা বৈধ কার্যকরী কমিটি ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধানত্ম নেয়া যায় কিনা তা গঠনতন্ত্র ভালভাবেই দেখলেই তারা বুঝতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, যেহেতু সভাপতি সাধারণ সম্পাদক ছাড়া নেতা হিসেবে আর কারও নামই ঘোষণা করা হয়নি সেহেতু আমরা বহিষ্কার হই কিভাবে। আমরা মহানগর কমিটির প্রসত্মাবিত নেতা, অনুমোদিত নেতা নই।
এ প্রসঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইনামুল হক দানুর দৃষ্টি আর্কষণ করা হলে তিনি বলেন, তারা যদি অনুমোদিত নেতা না হয়ে থাকেন তাহলে দলের পদবি ব্যবহার করেন কিভাবে। দলের পদবি ব্যবহার করেই তারা কেউ মন্ত্রী, কেউ এমপি আবার একজন চউক চেয়ারম্যান হয়েছেন। কেউ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে বর্ধিত সভা ছাড়া কার্যকরী কমিটির সভাতেও তার বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায় বলে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন।