মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ৬ নভেম্বর ২০১০, ২২ কার্তিক ১৪১৭
কুড়িগ্রামে মাটি খুঁড়ে শত বছরের পুরনো মন্দিরের সন্ধান
স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম ॥ সদর উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নে চতুর্ভুজ গ্রামে মাটির ঢিবি কেটে আবাদি জমি তৈরির সময় শত বছরের পুরনো মন্দিরের প্রত্ন নিদর্শনের সন্ধান মিলেছে। পাওয়া গেছে পুরনো ঘরের দেয়াল, দরজা, জানাল, টেরাকোটা সংবলিত ইটসহ মূল্যবান নিদর্শন। প্রত্ন নিদর্শনের সন্ধান পাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্যের। প্রতিদিন শত শত উৎসুক মানুষের ভিড় বাড়ছে এই এলাকায়। স্থানীয় কিছু লোক মাটি খুঁড়ে ও দেয়াল ভেঙে ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করেছে। বের করে আনছে মূল্যবান সব নিদর্শন-টেরাকোটা সম্বলিত ইট। ফলে অজ্ঞতা ও অবহেলার কারণে গুরম্নত্বপূর্ণ প্রত্ন নিদর্শন নষ্ট হবার আশঙ্কা করছেন অনেকেই। শুক্রবার দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা সদর থেকে ১৫ কি.মিটার দূরে রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের চতুভর্ুজ গ্রামে দেখা যায় শত শত মানুষের উপচেপড়া ভিড়। ১০/১২ জন মানুষ শিব মন্দিরসংলগ্ন ঢিবি থেকে মাটি সরাচ্ছে। ৪ ফুট মাটির নিচে থেকে বেরিয়ে পড়েছে ১৫ ফুট বাই ২০ ফুটের একটি ইটের দেয়াল। এ সব ইট মাত্র এক ইঞ্চি পুরম্ন।
ঘরের ছাদ ভেঙ্গে পাশে কয়েক হাজার টেরাকোটা সংবলিত ইট তুলে সত্মূপ করে রাখা হয়েছে। সেখানে কাজ করা লোকজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মন্দিরের উন্নয়নকল্পে এক সপ্তাহ আগে গ্রামের লোকজনদের নিয়ে মন্দিরের পতিত জমির জঙ্গল ঝাড় কাটা শুরম্ন করা হয়। এ সময় অসমতল জমি খুঁড়ে সমান করতে গিয়ে তারা পুরনো আমলের কিছু ইটের টুকরো পায়। কৌতূহলবসে তারা কয়েক ফুট মাটি খুঁড়লে একটি ঘরের দেয়ালের সন্ধান মেলে। আরও খুঁড়তে থাকলে পাওয়া যায় পুরো একটি ঘরের সন্ধান।
মন্দিরের দেখভালের দায়িত্বে থাকা অনিল চন্দ্র সেন জানান, 'আমরা ঠাকুরদাদার কাছে শুনেছি এই মন্দির সত্যযুগে নির্মিত। কথিত আছে, এক রাতের মধ্যেই দেবতা বিষ্ণু পাশের একটি পুকুর থেকে মাটি নিয়ে ইট তৈরি করে মন্দির ও মন্দির পরিচর্যাকারীর আবাসস্থান তৈরি করেন। একসময় সত্যযুগ শেষ হলে মন্দিরটি দেবে যায়।' এ কারণে এই মন্দিরের আশপাশে আর কি কি নির্দশন ছিল তা স্থানীয় কেউই বলতে পারেন না।
মন্দির দেখতে আসা বড়বাড়ির সেলিম, রেশমা, নাজমিন, কুড়িগ্রাম শহরের হারম্নন, মিজান, ফরম্নকের হাটের দেলোয়ার, রঞ্জু মাস্টার জানান, প্রত্নতত্ত্ব সন্ধান পাওয়া গেছে এ কথা শুনে তাঁরা দেখতে এসেছেন। কিন্তু সাধারণ শ্রমিক দিয়ে খোঁড়ার কারণে এত পুরনো একটি নির্দশন ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। অভিজ্ঞ ও প্রত্নতত্ত্ববিদদের দিয়ে খুঁড়তে পারলে এর নিদর্শনগুলো রক্ষা করা যেত। সেই সঙ্গে প্রকৃত ইতিহাস বের হয়ে আসত। চতুভর্ুজ দুর্গা শিব মন্দিরের সভাপতি রনজু চন্দ্র সরকার জানান তাঁদের গ্রামে এই শিব মন্দির অনেক পুরনো। এখানে ফাল্গুন মাসে শিব চতুর্দশী পুজো হয়। প্রচুর ভক্তের আগমন ঘটে। এই মন্দিরটির সংস্কার জরম্নরী।
ছিনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাদেকুল হক নুরম্ন জানান, মন্দিরটি বহু পুরনো। এ কারণে এখানে প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন থাকা খুবই স্বাভাবিক। প্রত্ন নিদর্শনগুলো বিশেষজ্ঞ দ্বারা খনন ও গবেষণা করলে এ অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা জানা যেত।