মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ৬ জুন ২০১০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৭
সরে দাঁড়ালেন জাপা প্রার্থী, সব চক্রান্ত রুখে দেয়া হবে ॥ মহিউদ্দিন
চসিক নির্বাচনের প্রচার জমে উঠেছে ॥ ১৭ বছর মিথ্যা স্বপ্ন দেখানো হয়েছে_ মঞ্জু
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ অবশেষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মহিউদ্দিন চৌধুরী মহাজোটের পূর্ণ সমর্থন লাভ করলেন। নির্বাচনের ১১ দিন আগে শনিবার জাপা সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সোলায়মান আলম শেঠ আওয়ামী লীগ সমর্থিত মহিউদ্দিন চৌধুরীর সমর্থনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। মহাজোটের স্বার্থে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তার সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়ে দেন। এর ফলে সিটি মেয়রের নির্বাচনী লড়াইটি পরিপূর্ণভাবে জোট-মহাজোটের লড়াইয়ে পরিণত হলো। কেননা, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনজুর আলম ইতোমধ্যেই চারদলীয় ঐক্যজোটের সমর্থন লাভ করেছেন।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলন প্রার্থী এম মনজুর আলমের পক্ষে বিএনপির সিনিয়র নেতারা এককাট্টা হয়ে মাঠে নেমে তাদের প্রার্থীর পক্ষে বিভিন্ন এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। তাঁরা চট্টগ্রামের মেয়র পদে নির্বাচনকে অনেকটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে নানা বক্তব্য দিচ্ছেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মহিউদ্দিন চৌধুরীর পক্ষেও দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও মাঠে নেমেছেন। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ দু'দিন ধরে চট্টগ্রামে অবস্থান করে স্থানীয় বিবদমান নেতাদের এক কাতারে নিয়ে এসেছেন। প্রদান করছেন বিভিন্ন দিকনির্দেশনা। মাহবুবুল আলম হানিফও জানিয়েছেন, আগামী ১৭ জুন চট্টগ্রামে জনমত যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রমাণ হবে সকলের জনপ্রিয়তা।
এদিকে, নির্বাচনী প্রচারে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে কেউ যেন অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, ভোট ছিনতাইকারীরা অতীতে জনগণের ভোট নিজেদের পক্ষে ছিনিয়ে নিতে যে অপচেষ্টা চালিয়েছিল তার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডকে পরিকল্পিতভাবে সাজাতে হবে। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে নিয়েই তিনি মাঠে নেমেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডকে ঘিরে সব ধরনের চক্রান্ত রুখে দেয়া হবে। কোন মহল যদি চক্রান্ত করে তা আমাদের নেতাকর্মীদের যে যেখানে অবস্থান করছেন সে অবস্থান থেকে রুখে দাঁড়াতে হবে। অপরদিকে, বিএনপি সমর্থিত চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলন প্রার্থী এম মঞ্জুরুল আলম বলেন, বিগত সতেরো বছরে শুধুমাত্র জনগণকে স্বপ্ন দেখানো হয়েছে। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নেয়া হয়েছে। কিন্তু জনগণের কল্যাণে কোন কাজ করা হয়নি।
শনিবার সকাল থেকে রাত অবধি চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চলে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের গণসংযোগ। অল্প সময়ের মধ্যে পুরো এলাকায় প্রার্থীর একার পক্ষে ঘুরে বেড়ানো সম্ভব নয় বিধায় কর্মী-সমর্থকরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রুপে বিভক্ত হয়ে বিরামহীনভাবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী শনিবার সকালে কমিটির প্রধান কার্যালয়ে এনায়েত বাজার ওয়ার্ড নাগরিক কমিটির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। তিনি আগামী ১৭ জুনের নির্বাচন সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কেন্দ্রভিত্তিক কমিটিগুলোতে এখন থেকে প্রশিক্ষণ দেয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কোন মহল যাতে নির্বাচনকে ঘিরে কোন ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকেও সকলের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।' প্রফেসর বিকরিণ প্রসাদ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন গৌরাঙ্গ চন্দ্র দাস, সরোয়ার জাহান সারু, বজল আহমদ, সাহাবুদ্দীন আহম্মদ, মোঃ কফিল, এমএ হান্নান, সহদেব ঘোষ, বিপু ঘোষ বিলু, এ্যাডভোকেট মানিক দে, সত্যজিত চক্রবর্তী সুজন, কাজী আবুল কালাম, হরিপদ দাশ প্রমুখ। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের হৃৎপি- হলেও '৭৫ পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামকে বার বার বঞ্চিত করা হয়েছে। '৭৫ পরবর্তী তিন দশকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি মাত্র ৫ বছর রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল। বাকি প্রায় আড়াই দশক রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল অন্যরা। বিগত জোট সরকার আমলে চট্টগ্রাম থেকে ৮ জন মন্ত্রী দায়িত্বে ছিলেন। তাঁরা এই সময়ে চট্টগ্রামের কী করেছেন তা চট্টগ্রামবাসী জানে। চট্টগ্রামের উন্নয়নের দাবি এখন তারা মাঠে নেমেছেন। চট্টগ্রামবাসী মানুষের কাজকে মূল্যায়ন করে রায় দেবে_এ প্রত্যাশা রাখে।
ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে মতবিনিময় শনিবার দুপুরে নাগরিক কমিটির কার্যালয়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি এমআর আজিমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপ্টন, সালাউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, উত্তর জেলা সভাপতি রাজীবুল হাসান সুমন, দক্ষিণ জেলা আহ্বায়ক মোঃ ফারুক, উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মঞ্জুরুল আলম, নগর ছাত্রলীগের সহসভাপতি জহির উদ্দিন মোঃ বাবর, রাজীব দত্ত রিংকু, মাইনুল হক লিমন, ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কায়সার আলম, ছাত্র সমিতির আহ্বায়ক শিবু দাশ, ছাত্রমৈত্রীর জেলা সভাপতি ফারুক আহমদ রম্নবেল, ছাত্রলীগ (জাসদ) আহবায়ক জসিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক কামাল উদ্দিন আহম্মদ, নাইমুল ইসলাম ফটিক, জামাল উদ্দিন, শিবু প্রসাদ চৌধুরী, মাহফুজুর রহমান ও আজিজুর রহমান প্রমুখ।
এদিকে, চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলন প্রার্থী এম মঞ্জুরুল আলম শনিবার গণসংযোগ করেন নগরীর পাঁচলাইশ, পশ্চিম ষোলোশহর, জালালাবাদ, পাহাড়তলী, খতিবেরহাট, বিবিরহাট, মুরাদপুর, মির্জাপুল ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায়। বিকেলে তিনি ষোলোশহর উডল্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রামের নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় ও গণসংযোগকালে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও বঞ্চিত নগরবাসীর মৌলিক সমস্যাসমূহ সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। কর্পোরেশনের সকল ধরনের ট্যাক্স দেয়া হলেও নগরীর বিরাট অংশের সাধারণ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বিগত সময়ে মানুষকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নেয়া হয়েছে। কিন্তু কোন কাজ করা হয়নি। বিকল্প সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় একই সড়কে ছোটখাটো দুর্ঘটনার জন্য জনদুর্ভোগ পোহাতে হয়। নগরীর বিভিন্ন রোডের জন্য স্থায়ী বাস টার্মিনালসহ অন্যান্য যানবাহনের জন্য টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়নি। সতেরো বছরে শুধু স্বপ্নই দেখানো হয়েছে। আগামী দিনে চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য তিনি আনারস প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। উডল্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ও প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সহসভাপতি দসত্মগীর চৌধুরী, সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম, এসএম ফজলুল হক, গোলাম আকবর খন্দকার, জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরী প্রমুখ। বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগে অংশ নেন বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ান, কাজী বেলাল, এসএম ইকবাল হোসেন, ইস্কান্দার মির্জা, আরইউ চৌধুরী শাহীনসহ মহানগর ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।