মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ৪ আগষ্ট ২০১১, ২০ শ্রাবণ ১৪১৮
২৫ বছরে অবসকিউর
১৯৮৬ সালে খুলনায় যাত্রা শুরু করেছিল অবসকিউর। সেই মিউজিক্যাল ব্যান্ডের বয়স এখন ২৫।
টিপু'র ছেলেবেলাটা আর দশজনের মতোই কেটেছে। নিজের মনে গান করতেন। গলা খুলে ইংরেজি গানই বেশি করতেন তিনি। স্কুল কলেজে গানের জন্য বিখ্যাতই ছিলেন টিপু। বন্ধুরা টিপুকে পেলেই জেঁকে ধরত গান গাওয়ার জন্য। বন্ধুদের হতাশ না করে তিনি একটার পর একটা গান গেয়েই চলতেন। যখন কলেজে পড়তেন তখন প্রায়ই ক্লাসমেটদের সঙ্গে রিকশায় ঘুরে বেড়াতেন শহরের রাসত্মায়। তখন এটাই ছিল তাদের এক ধরনের আনন্দ করার মাধ্যম। রিকশা যেমন চলতে থাকত, তেমনি চলত পালা করে গান গাওয়া। মানাম আহমেদ ছিলেন টিপুর সহপাঠী। তিনিও গান করতেন। তখন ১৯৮৪ সাল। একদিন মানাম আহমেদ টিপুকে প্রসত্মাব দেন ব্যান্ডে যোগ দিতে। ব্যান্ড সঙ্গীতের স্বর্ণযুগে নিজেকে যুক্ত করতে দ্বিধা করলেন না টিপু। তিনি যোগ দিলেন চাইমে। এর জন্য টিএসসিতে অডিশন হয়। সিলেক্ট হওয়ার পর থেকে চাইমে ইংরেজি গান গাইতে শুরম্ন করেন টিপু।'
তবে তিনি খুব বেশি দিন ছিলেন না চাইমে। বছরখানেক পর তিনি উপলব্ধি করলেন, তার বাংলা গান করা উচিত। নিজের একটি ব্যান্ড গড়ে তুলবেন বলেও সিদ্ধানত্ম নিলেন। অনেক ভেবে-চিনত্মে তিনি জন্মস্থান খুলনায় চলে গেলেন। সেখানেই কয়েকজন মিলে তৈরি করলেন একটি ব্যান্ড। নাম দিলেন অবসকিউর। এমন নামকরণের কারণ সম্পর্কে টিপু বললেন, 'অবসকিউর মানে অস্বচ্ছ বা অস্পষ্ট। আমরা লুকিয়ে থাকা জনপ্রিয়তা অর্থে নামটি ব্যবহার করি। তখন একটি হারমোনিয়াম এবং গিটার নিয়ে ব্যান্ড তৈরি করেছিলাম। বাড়ির নিচের একটি পরিত্যক্ত ঘরে আমরা প্র্যাকটিস করতাম।'
ব্যান্ড গঠনের পর তারা ৩০টি গান তৈরি করে ফেলেন। এরপর সারগাম স্টুডিওর রেকর্ডারের সঙ্গে পরিচয় হয় টিপুর। অবসকিউরের গান শুনে মুগ্ধ হয়ে যান তিনি। গান রেকর্ডিং করে ক্যাসেট বের করার কথা বলেন তিনি। এমন অসাধারণ সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি টিপু।
টিপু জানালেন, 'গান আমি কখনোই পেশা হিসেবে নিইনি। তবে সেই সময় শ্রোতাদের কাছে পৌঁছনোর এমন সুযোগ আমরা কাজে লাগিয়েছিলাম। আমরা দুই রাতেই এ্যালবামটির কাজ শেষ করি। প্রথম দিনে মিউজিক করে দ্বিতীয় রাতে বারোটি গানে কণ্ঠ দিই আমি। আমাদেরও প্রথম এ্যালবাম বের হলো এবং একইসঙ্গে যাত্রা শুরম্ন করল সারগাম।'
অবসকিউর তাদের প্রথম এ্যালবামেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। দ্বিতীয় এ্যালবামের পর লম্বা বিরতি নেয়। ১৯৮৬ সালে যাত্রা শুরম্ন করে ১৯৯১ সালে এসে ব্যান্ড সদস্যের অভাবে বন্ধ হয়ে যায় অবসকিউরের কার্যক্রম। ব্যান্ডের অধিকাংশ সদস্য দেশের বাইরে চলে যাওয়ায় ব্যান্ডে নতুন কাউকে না নিয়ে বরং তাদের জন্য দু'বছর অপেক্ষা করতে চেয়েছিলেন টিপু। দু'বছর দু'বছর করে দশ বছর পেরিয়ে গেল। কিন্তু কেউ ফিরে এলেন না। তারপর ২০০১ সালে আবারও নতুন কিছু সদস্য নিয়ে ফিরে এলো অবসকিউর।
একটা এ্যালবামও বের করেন সে সময়। কিন্তু ছাড়া ছাড়া ভাবে চলছিল ব্যান্ডটা। এ নাই, ও নাই করে তো ব্যান্ড চালানো যায় না। তাই আবারও বন্ধ হয়ে গেল ব্যান্ডের কার্যক্রম। তবে স্বপ্নটা ছিল যে অবসকিউর আবারও ঠিকই দাঁড়াবে। তাই ২০০৭ সালে রীতিমতো যুদ্ধ করে আবারও ফেরানো হলো অবসকিউর এবং এবারের যাত্রাটা বেশ মসৃণ। সবাই মিলেমিশে ব্যান্ড করছেন। সবাই গান নিয়ে ভাবছেন। সুর বসিয়ে এ্যালবামও করছেন। এ কয় বছরে তাদের দুটি এ্যালবাম এসেছে। ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন শ্রোতা মহল থেকে।