মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই ২০১১, ১৩ শ্রাবণ ১৪১৮
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০০৯
প্রতি বছরই বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনের শিল্পী-কলাকুশলীদের রাষ্ট্র্রীয় স্বীকৃতি জানানো হয় 'জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার' প্রদানের মাধ্যমে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ২০০৯ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করা হলো ২৩ জুলাই শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। জমকালো এক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে এ পুরষ্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুরস্কার প্রদানের পাশাপাশি তারকাশিল্পীদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় গান, নাচ ও নাট্যাংশ।
বিকেল ৬টায় প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠান স্থলে এসে পৌঁছান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এদেশের চলচ্চিত্রের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য বজায় রাখার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা এমন চলচ্চিত্র দেখতে চাই, যা পরিবারের সবাইকে নিয়ে উপভোগ করা যায়। দেশের তরম্নণ সমাজকে বিপথে ঠেলে দিতে পারে, এমন ছবির বিরম্নদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। তিনি সামাজিক সমস্যা, মুক্তিযুদ্ধ, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে ছবি নির্মাণের জন্য চলচ্চিত্রকারদের প্রতি আহ্বান জানান। বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী আনন্দমুখর পরিবেশে শিল্পী ও কলাকুশলীদের হাতে ৩৪তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তথ্য সচিব হেদায়েত উলস্নাহ আল মামুন। সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সমপ্রচার করা হয় বিটিভিতে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০০৯-এ প্রথমবারের মতো প্রবর্তন করা হয়েছে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার'। ষাট ও সত্তর দশকের জনপ্রিয় নায়িকা সুলতানা জামানকে এবার এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
২০০৯ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন-সেরা ছবি মনপুরা (প্রযোজক অঞ্জন চৌধুরী), সেরা পরিচালক সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড (গঙ্গাযাত্রা), অভিনেতা ফেরদৌস (গঙ্গাযাত্রা), চঞ্চল চৌধুরী (মনপুরা), অভিনেত্রী পপি (গঙ্গাযাত্রা), শ্রেষ্ঠ পাশর্্ব অভিনেতা শহীদুল আলম সাচ্চু (বৃত্তের বাইরে), শ্রেষ্ঠ পাশর্্ব অভিনেত্রী নিপুণ (চাঁদের মত বউ), শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী সৈয়দা সাবরিনা (গঙ্গাযাত্রা), শিশুশিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার জারকান (প্রিয়তমেষু), শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড (গঙ্গাযাত্রা), শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার গিয়াসউদ্দিন সেলিম (মনপুরা), শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা মুজতবা সউদ (চাঁদের মত বউ), খল চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা মামুনুর রশীদ (মনপুরা), কৌতুক চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান (মন বসে না পড়ার টেবিলে), শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক আলম খান (এবাদত), শ্রেষ্ঠ সুরকার কুমার বিশ্বজিৎ (স্বামী-স্ত্রী'র ওয়াদা), শ্রেষ্ঠ গায়ক কুমার বিশ্বজিৎ (একটা চাঁদ ছাড়া রাত আঁধার কালো ছবি (স্বামী-স্ত্রীর ওয়াদা),
শ্রেষ্ঠ গায়িকা যৌথভাবে চন্দনা মজুমদার ও কাজী কৃষ্ণকলি ইসলাম
(সোনারও পালঙ্কের ঘরে), ছবি (মনপুরা), শ্রেষ্ঠ গীতিকার কবির বকুল (একটা চাঁদ ছাড়া রাত/ছবি: স্বামী-স্ত্রীর ওয়াদা), শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক মাহফুজুর রহমান খান (বৃত্তের বাইরে), শ্রেষ্ঠ চিত্র সম্পাদক জুনায়েত হালিম (বৃত্তের বাইরে),
শ্রেষ্ঠ শব্দ গ্রাহক সুজন মাহমুদ (বৃত্তের বাইরে), শ্রেষ্ঠ শিল্পনির্দেশক মোঃ কলনতর (গঙ্গাযাত্রা), শ্রেষ্ঠ মেকআপম্যান খলিলুর রহমান (গঙ্গাযাত্রা) এবং শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জা দিলীপ সিং (গঙ্গাযাত্রা)।
তিনটি পর্বে সাজানো ছিল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। প্রথম পর্বে বক্তৃতা শেষে দ্বিতীয় পর্বে ছিল পুরস্কার প্রদান। পুরস্কার দেয়ার পালা শেষে প্রশংসাবচন পাঠ করেন ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় ও রোকেয়া রহমান। এ দু'টি পর্ব উপস্থাপনা করেন দেওয়ান সাইদুর ও শামীম খান। তৃতীয় পর্বে ছিল আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নায়ক রিয়াজ ও অভিনেত্রী শমী কায়সারের উপস্থাপনায় এই পর্বে মমতাজ, কুমার বিশ্বজিৎ, শাকিলা জাফর ও আঁখি আলমগীর গানে গানে জমিয়ে তোলেন অনুষ্ঠান। এরপর সিনেমার গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন শাকিব খান-অপু বিশ্বাস, মৌসুমী- ফেরদৌস, ইমন-সায়না ও সারিকা-নিরব। একটি নাট্যাংশে একক অভিনয় করেন এটিএম শামসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর পরিবেশনায় ছিল দু'টি আকর্ষণীয় নৃত্য।
নূর এ সাদিয়া