মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০০৯, ১০ পৌষ ১৪১৬
ওয়েস্টার্ন পপে নতুন বিস্ময় অ্যালিসিয়া কীস
আমেরিকান পপ তারকা অ্যালিসিয়া কীস-এর চতুর্থ অ্যালবাম দ্য এলিমেন্ট অব ফ্রিডম রিলিজ হয়েছে গত ১৫ ডিসেম্বর। রিলিজ হওয়ার আগেই অ্যালিসিয়ার লেটেস্ট এই মিউজিক অ্যালবাম নিয়ে পৃথিবীজুড়ে দারুণ হইচই শুরু হয়ে গিয়েছিল। ইতোমধ্যে আমেরিকান পপের টপ চার্টে ঠাঁই করে নিয়েছে অ্যালিসিয়ার সর্বশেষ এই চমকটি। আগের সব অ্যালবামের মতোই বিক্রির েেত্র বিশেষ রেকর্ড সৃষ্টি করতে চলেছে দ্য এলিমেন্ট অব লাইফ। ২৯ বছর বয়সী এই কৃষ্ণাঙ্গ গায়িকা ইতোমধ্যে অসংখ্য পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেছেন। তার গাওয়া গানের অ্যালবাম বিক্রি হয়েছে ৩০ মিলিয়নের বেশি। দুনিয়াজুড়ে এখন তার পরিচিতি এবং জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছে। ইদানীং বেস্ট সেলিং আর্টিস্টদের তালিকায় তার নামটি খুব আলোচিত হচ্ছে।
তার আসল নাম অ্যালিসিয়া অগেলো কুক। জন্ম ১৯৮১ সালের ২৫ জানুয়ারি গায়িকা হিসেবে ক্যারিয়ার শুরুর পর নিজের নতুন নামকরণ করেন অ্যালিসিয়া কীস। একাধারে গায়িকা, সুরকার এবং অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে নানাভাবে ব্যস্ত রেখেছেন তিনি। স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে যাওয়া মায়ের সঙ্গে নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটন এলাকায় বেড়ে উঠেছেন অ্যালিসিয়া। মাত্র সাত বছর বয়সে কাসিক্যাল মিউজিকে তালিম নেয়া শুরু করেন। ক্রমেই পিয়ানো বাদনে তার পারদর্শিতা বিকাশ লাভ করে। ১৬ বছর বয়সে প্রফেশনাল পারফরমিং আর্টস স্কুলে নিয়মিত অধ্যয়ন ও চর্চার পর গ্রাজুয়েশন লাভ করেন। এরপর কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছিলেন অ্যালিসিয়া। তবে মিউজিক ক্যারিয়ারের স্বার্থে পড়াশোনা বাদ দিয়ে বেরিয়ে আসেন। জে রেকর্ডস কোম্পানি থেকে তার মিউজিক অ্যালবাম সংস অব এ মাইনর বেরোয় এবং তা বিরাট বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন করে। বিশ্বব্যাপী ঐ মিউজিক অ্যালবামটি ১২ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছিল। ২০০১ সালের বেস্ট সেলিং নিউ আর্টিস্ট অর্থাৎ সর্বাধিক বিক্রীত অ্যালবামের নতুন গায়িকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিলেন অ্যালিসিয়া কীস। ২০০২ সালে অ্যালিসিয়ার ডেবু্য অ্যালবামটি পাঁচ পাঁচটি গ্রামি এ্যাওয়ার্ড জিতলে তাকে নিয়ে আরও বেশি হইচই পড়ে যায়। এর মধ্যে সেরা নতুন গায়িকা এবং সঙ অব দ্য ইয়ার পুরস্কার পেয়েছিলেন ফলেন গানটির জন্য। তার দ্বিতীয় স্টুডিও অ্যালবাম দি ডায়েরি অব অ্যালিসিয়া কীস বেরোয় ২০০৩-এ। এটিও বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সফলতা অর্জন করে। আট মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছিল তা। ২০০৫ সালে আরও চারটি গ্রামি এ্যাওয়ার্ড লাভ করে অ্যালিসিয়ার দ্বিতীয় অ্যালবামটি। এমটিভির আনপ্লাগড এ প্রথম ফিমেল আর্টিভর্থ হিসেবে ঠ্াই পান তিনি। ১৯৯৪-এর নিরঔানার পর অ্যালিসিয়াই অভিষেক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রথমেই টপ পজিশনে চলে যেতে সম হয়েছিলেন। বেশ কিছু টেলিভিশন সিরিজে অতিথি শিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন অ্যালিসিয়া কীস। ২০০৭-এ তাকে স্মোকইন এইসেস এবং দি ন্যানি্ন ডায়েরিজ সিরিজে দেখা গেছে। অ্যালিসিয়ার তৃতীয় স্টুডিও অ্যালবাম অ্যাজ আইএম বেরোয় ঐ একই বছরে যা দুনিয়াজুড়ে ছয় মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়। এটিও তিনটি গ্রামি এ্যাওয়ার্ড লাভ করে। এর পরের বছরে অর্থাৎ ২০০৮-এ অ্যালিসিয়া কাজ করেন দি সিক্রেট লাইফ অব বীজ সিরিজে। যা এনএএসিপি ইমেজ এ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন লাভ করেছিল। অ্যালিসিয়া কীসকে অনেকে আদর করে লেলো বলে ডাকেন। গাইবার পাশাপাশি পিয়ানো কী বোর্ডস, সেলো সিনথেসাইজার, গিটার, ভোকোডার বেস-এর মতো মিউজিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্ট বাজাতে পারেন। হালে অ্যালিসিয়া বিখ্যাত ব্যানার ডিজনির সঙ্গে নতুন একটি ছবিতে কাজ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। যা নির্মিত হবে ১৯৫৮ সালে নির্মিত কমেডি মুভি বেল, বুক এ্যান্ড ক্যান্ডির রিমেক হিসেবে। এ ছবিতে তাকে একজন ডাইনি নারীর ভূমিকায় দেখা যাবে। প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য এক মেয়ের প্রেমিককে বাগে আনার জন্য সে তার সকল কৌশল প্রয়োগ করে। অ্যালিসিয়া কীস বিগ পিটা নামে একটি টেলিভিশন প্রোডাকশন কোম্পানি খুুলেছেন। তার এই কোম্পানি থেকে এ্যানিমেটেড এবং সাধারণ ফিচার ফিল্ম তৈরি হবে। এছাড়াও বেশ কিছু নতুন ফিল্ম প্রজেক্টে তার অভিনয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে আছে। গত জুনে আমেরিকান সোসাইটি অব কম্পোজারস অথারস এ্যান্ড পাবলিসারস তাকে গোল্ডেন নোট এ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করেছে। যেসব শিল্পী সাধারণত ক্যারিয়ারে অসাধারণত্ব প্রমাণ করে আলাদা মাইল স্টোন সৃষ্টি করতে পারেন কেবল মাত্র তাদেরই এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। সম্প্রতি তার নতুন এ্যালবামের প্রমোশনাল কনসার্টে চমৎকার পারফরমেন্স করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন অ্যালিসিয়া কীস। এই এ্যালবামের একটি অন্যতম গান ডাজ নট মিন এনিথিং বিলবোর্ড হট ১০০-এর মধ্যে আশিতম স্থান দখল করেছে। মানবতার প েআর্তের সেবায় নানাভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন তিনি। গত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বারাক ওবামার প েপ্রচারণায় তৈরি থিম সঙটি গাওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন অ্যালিসিয়া কীস। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে এইডস আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবার জন্য বেশ কয়েকটি মিশনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন তিনি। একজন কৃতী গায়িকা এবং মানবতার প েনিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাওয়া শিল্পী হিসেবে ২০০৯-এ বিইটি এ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন এ্যালিসিয়া কীস। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে একজন সফল পপ গায়িকা হিসেবে তার খ্যাতি ও জনপ্রিয়তার ব্যাপক প্রসার সবাইকে রীতিমতো অবাক করেছে। অনেক কম সময়ের মধ্যে গানের ভুবনে দারুণ বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন তিনি।
_মোস্তফা আদনান