মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০০৯, ১০ পৌষ ১৪১৬
বিজয়ের মাসে বিদেশিনী
বিজয়ের মাস মানেই যেন এক অন্যরকম উদ্যমের মাস, উজ্জীবিত হওয়ার মাস। নতুন করে পথ চলার সাহস সঞ্চার করার মাস, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত যে স্বাধীনতা তার উত্তাপ যে অন্যরকম থাকবে এটাই স্বাভাবিক। বাঙালী তার স্বকীয়তা ফিরে পেয়েছে এ মাসে। ফিরে পেয়েছে তাদের একান্ত কৃষ্টি কালচার, যা নিজেদের মতো উদযাপন করার স্বাধীনতা অর্জন করেছে। বাংলায় একটা প্রবাদ রয়েছে বারো মাসে তেরো পার্বণ, হাজার বছরের ঐতিহ্য সমৃদ্ধ বাঙালীর এই কৃষ্টি কালচার শুধু যে বাঙালীদেরই আকৃষ্ট করে তা না। অনেক বিদেশী নাগরিক আমাদের এ শিল্প সংস্কৃতিতে অংশগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করে। তেমনি একজন বাঙালী সংস্কৃতিমনা ব্যক্তি হচ্ছেন জো গ্রেজলিনস্কা। একটি বিদেশী সংস্থার এ দেশীয় কার্যালয়ে কমিউনিকেশন এ্যাডভাইজার হিসেবে ব্যস্ত সময় কাটালেও জড়িয়ে পড়েছেন এদেশের শিল্প সংস্কৃতির সাথে। এরই ধারাবাহিকতায় পহেলা বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারির মতো বড় বড় উৎসবে ছড়িয়ে দেন নিজেকে। বন্ধুবান্ধবদের অনুরোধে নাটক সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন জো। সবকিছু নিয়েই কথা হয় জো'র সাথে। কেমন লাগছে বাংলাদেশ প্রশ্ন করতেই তাৎনিক জবাবে জো বলেন খুবই ভাল, আমি সাড়ে চার বছর ধরে বাংলাদেশে আছি কিন্তু এ স্বল্প সময়ে এদেশকে বেশ আপন মনে হচ্ছে। প্রথমে একটি ভলান্টারি কাজ নিয়ে এক বছরের জন্য এদেশে আসি। তখন কাজের প্রয়োজনে অনেক মানুষের সাথে মিশতে হয়েছে। খুব কাছ থেকে মেশার ফলে দেখেছি এদেশের মানুষ বেশ অতিথিপরায়ণ এবং হেলপফুল। সেই সাথে রয়েছে মানুষকে আপন করে নেয়ার সহজ সরল মন, যা আমাকে খুব বেশি আকৃষ্ট করেছে। এরপর আমি আমার বাসভূমি অস্ট্রেলিয়াতে চলে যাই এবং সুযোগ খুঁজি কিভাবে আবার বাংলাদেশে আসা যায়। লাকিলি আমি এ দেশেই জব পেয়ে যাই এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ঢাকায় জয়েন করে ফেলি। সাড়ে চার বছর হয়ে গেল আমি স্টীল নাউ ঢাকাতেই আছি। এদেশের কৃষ্টি কালচার কেমন উপভোগ করছেন জানতে চাইলে তিনি জানান এদেশের মানুষ উৎসবপ্রিয়। বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের উৎসবের আয়োজন করা হয় বাংলাদেশে যা আমাকে রীতিমতো আকৃষ্ট করে। কোন্ কোন্ উৎসব বেশি ভাল লাগে এর উত্তরে জো জানান পহেলা বৈশাখ আমার ফেভারিট একটা উৎসব। এছাড়া একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাত ফেরী হিন্দুদের পূজো এবং এদেশের বিয়ে শাদীর উৎসব আমার কাছে খুব ভাল লাগে। এদেশের বিয়ে শাদীতে বেশ মজা হয়। আমি সাধারণত এ ধরনের অনুষ্ঠানের দাওয়াত পেলে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করি। আপনাকে এদেশের বেশ কটি নাটক, সিনেমা, মডেলিং এ দেখা গেছে। কিভাবে জড়ালেন এসবের সাথে, সদাহাস্য জো বলেন এদেশের টিভি মিডিয়াতে যারা বিচরণ করেন তাঁদের মধ্যে বেশ কজন আমার খুব ভাল বন্ধু। তাদের অনুরোধেই এসব করা। গত ঈদে আমার একটা নাটক প্রচারিত হয়েছে। এছাড়া গনি সাহেবের শেষ কদিন নাটকে হাসান মাসুদের স্ত্রী হিসেবে অভিনয় করেছি। কয়েক বছর আগে কেয়া কসমেটিকস্ এর মডেল হিসেবে কাজ করেছিলাম। নার্গিস আক্তার পরিচালিত ফিল্মেও আমি অভিনয় করেছি। এখানে লন্ডনের মেয়ের চরিত্রে কাজ করেছি। সামনে আর কোন কোন নাটক বা সিনেমাতে কাজ করছেন এর উত্তরে জো বলেন আমি শখের বশে এ কাজগুলো করি। কিন্তু দিন দিন কাজের ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়াতে সময় সুযোগ হয়ে উঠছে না। এছাড়া এখানে শূ্যটিং করতে অনেক সময় নেয়। আমি অস্ট্রেলিয়াতে দেখেছি খুব কম সময়ে ওরা শূ্যট টেক করে এবং কাজেও নিভর্ুল হয়। এত সময় নিয়ে শূ্যটিং হয় বলে সময় দিতে পারি না। এমন কোন ইচ্ছা আছে যা এখনও করে ওঠা হয়নি। অফকোর্স আমি নাচ ভীষণ ভালবাসি এবং আমার মনে হয় আমি কিছুটা নাচতেও জানি, যদি কখনও সুযোগ হয় তাহলে নাচের প্রোগ্রাম করার ইচ্ছা আছে। ডিসেম্বর মাস আমাদের বিজয়ের মাস, এ মাসের তাৎপর্য আপনি কিভাবে দেখেন। কিছুণ চুপ করে থেকে জো জানান ১৯৭১ সালের ঘটনা আমি শুনেছি। আমি তখন ছোট ছিলাম তারপরও অস্ট্রেলিয়াতে বসেই আমি বাংলাদেশের সে সময়কার কথা শুনেছি। এরপর বাংলাদেশে এসে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে অনেক কিছু জেনেছি। ভাবতে ভাল লাগে দেশকে কতটা ভালবাসলে মানুষ তার জীবনকে তুচ্ছ ভাবতে পারে। জীবন দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন এ তো অমূল্য এক ব্যাপার। এই দেশপ্রেম যদি প্রতিটি মানুষ তার হৃদয়ে আজীবন ধরে রাখতে পারে তাহলে একটি জাতির উন্নতি অবশ্যম্ভাবী। এদেশের নতুন প্রজন্মকে বিজয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাদেরকে দেশ গঠনে কাজে লাগাতে হবে। বিজয়ের অনুপ্রেরণা যদি তাদের মধ্যে জাগ্রত করা যায় তাহলে ভাল কিছু বের করে আনা সম্ভব। বাংলাদেশে যে পরিমাণ জনশক্তি আছে তা যদি প্রপার ওয়েতে কাজে লাগানো যায় তাহলে অবশ্যই বাংলাদেশ উন্নতির শিখরে পেঁৗছবে। আমার শুভ কামনা রইল সকলের প্রতি। সামনেই তো বড়দিন, এই দিনটা কিভাবে কাটাবেন বলে ঠিক করেছেন। এর জবাবে জো বলেন আমি সারাদিন পুরোনো ঢাকার বিভিন্ন চার্চে ঘুরে বেড়াবো। আর আমার ফ্যামিলি থাকে অস্ট্রেলিয়াতে। যেহেতু তাদের সাথে আনন্দ শেয়ার করতে পারব না তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি চার্চে চার্চে ঘুরব এবং চার্চে আসা মানুষগুলোর সাথে নিজ অনুভূতি শেয়ার করব আশা করছি ভালই কাটবে দিনটি। আপনাদের সবার জন্য বিজয় এবং বড়দিনের শুভেচ্ছা রইল। আপনাদের মতো এই দেশকে আমিও ভালবাসি এবং উত্তরোত্তর এর সমৃদ্ধি কামনা করছি।
_তৌফিক অপু