মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ১৮ আগষ্ট ২০১০, ৩ ভাদ্র ১৪১৭
অবশেষে চবিতে চারুকলা ইনস্টিটিউটের যাত্রা শুরু
সুজন ঘোষ, চবি ॥ বহুল প্রতীক্ষিত চট্টগ্রাম চারুকলা ইনস্টিটিউটের স্বপ্ন যাত্রা অবশেষে শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এ ইনস্টিটিউটে গত ১১ আগস্ট পরিচালক হিসেবে চবি চারুকলা বিভাগের সভাপতি জসীম উদ্দিনকে নিয়োগ দেয়া হয়। এর সঙ্গে সঙ্গে পূরণ হয়েছে চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক কর্মীদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারম্নকলা বিভাগ ও নগরীর সরকারী চারম্নকলা কলেজকে একীভূত করে এ ইনস্টিটিউট চালু করা হয়েছে। নগরীর বাদশা মিয়া সড়কে অবস্থিত সরকারী চারম্নকলা কলেজেই চলবে চারম্নকলা ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম।
চবি উপাচার্য অধ্যাপক আবু ইউসুফ বলেন, চারম্নকলা ইনস্টিটিউট চালু হওয়ায় চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এ ইনস্টিটিউট বাংলা ও বাঙালীর শাশ্বত ঐতিহ্য ধরে রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
চারম্নকলা ইনস্টিটিউটের নতুন পরিচালক অধ্যাপক জসীম উদ্দিন জানান, ইনস্টিটিউট চালু হওয়ায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও চট্টগ্রামের মানুষদের দীর্ঘদিনের দাবি বাসত্মবায়িত হয়েছে। ইনস্টিটিউট হওয়ার ফলে চট্টগ্রামের সংস্কৃতি চর্চায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। এখন থেকে চারম্নকলার শিক্ষার্থীরা চিত্র প্রদর্শনীর ক্ষেত্রে আগের তুলনায় অনেক বেশি সুযোগ পাবেন বলে জানান তিনি।
ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে শিক্ষা অধিদপ্তর সরকারী চারম্নকলা কলেজের সকল সম্পদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কতর্ৃপক্ষের কাছে হসত্মানত্মর করে।
চারম্নকলা ইনস্টিটিউটে চলতি শিক্ষাবর্ষেই ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হবে বলে জানা গেছে। আর বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষা কার্যক্রম শুরম্ন হবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে।
প্রসঙ্গত, ইনস্টিটিউটের দাবিতে সমপ্রতি চারুকলা কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরম্ন করে। তবে এর অনেক আগে থেকেই এ ক্যাম্পাসে চারুকলা ইনস্টিটিউট করার দাবি জানিয়ে আসছেন চট্টগ্রামের সংস্কৃতিকর্মীরা।
পেছন ফেরা দেখা ॥ ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে সর্বপ্রথম চারম্নকলা ইনস্টিটিউট করার দাবি উঠে ১৯৯৭ সালে। তৎকালীন মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী চারম্নকলা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দিয়েছিলেন। একই বছর চবি চারম্নকলা বিভাগ ও সরকারী চারম্নকলা কলেজকে একীভূত করে ইনস্টিটিউট করার সিদ্ধানত্ম নেয় চবি কতর্ৃপক্ষ।
ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করার জন্য সরকার ১৯৯৯ সালের ১১ মার্চ গেজেট প্রকাশ করে। তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারম্নকলা কলেজের একজন অধ্যাপক এ সিদ্ধানত্মের বিরম্নদ্ধে মামলা করলে থমকে যায় ইনস্টিটিউট চালুর বিষয়টি। তবে ২০০২ সালে আপিল বিভাগ মামলা খারিজ করে দিলে ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার বাধা অপসারিত হয়।
কিন্তু বিএনপি-জামায়াত ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাধা না থাকলেও কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক জসীম উদ্দিন।
তবে চবিতে বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেয়ার পর চারুকলা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আবার প্রাণ ফিরে পায়। এ ব্যাপারে চবির চারম্নকলা বিভাগ, কলা অনুষদ ও একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়। গত বছরের ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৪৬২তম সভায় ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার সিদ্ধানত্মটি পাস হয়। এর প্রেক্ষিতে গত ২৮ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সরকারী চারম্নকলা কলেজকে চবির কাছে হসত্মানত্মর করতে শিক্ষা অধিদফতরকে নির্দেশ দেয়। এরপর পরই খুলে যায় চারুকলা ইনস্টিটিউট যাত্রার সকল পথ।

চট্টগ্রামে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে বিদেশী নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ এক কথিত বিদেশী বিনিয়োগকারী নামধারীর নানা অপকর্ম, জালিয়াতি, মানিলন্ডারিং এবং মানহানির অভিযোগ এনে চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ী সম্প্রতি মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে এনে আসামির বিরম্নদ্ধে সমন জারি করেছে। বাদী পাঁচলাইশ এলাকার ব্যবসায়ী চৌধুরী সাকুরম্নল ইসলাম মামলার আর্জিতে জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক এবং বর্তমানে চট্টগ্রামের দক্ষিণ খুলশী এলাকার ঠিকানা ব্যবহারকারী মি. কিয়াং সিক কিম প্রকাশ বিলি কিম দেশীয় একটি অপরাধ সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। এ বিদেশী সরকারের মোটা অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকির হোতা বিনিয়োগকারীর সাইনবোর্ড ব্যবহার করে তার প্রতারণার ফাঁদে পড়ে বহু মানুষ পথে বসেছে এবং মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় গ্রেফতার হয়ে পরবর্তীতে জামিন নিয়ে দীর্ঘদিন বিদেশে পালিয়েছিলেন। দীর্ঘ ছয় বছর পর পাসপোর্ট পরিবর্তন করে বাংলাদেশে এসে আবার প্রতারণার ব্যবসা শুরম্ন করেছেন। এ প্রতারকের বিরম্নদ্ধে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। বাদী তার আর্জিতে উলেস্নখ করেন, তিনি এবং তার অন্যান্য পরিচালকগণ ২০০২ ও ২০০৪ সালে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ এন্ড ফার্মের রেজিস্ট্রি ও অনুমোদনে এ বিদেশীর মালিকানার একটি প্রতিষ্ঠানের সমুদয় শেয়ার ক্রয় করেন।

কিন্তু আসামি দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশে এসে অন্যায় লাভের বশবর্তী হয়ে একটি অশুভ চক্রের যোগসাজশে তার শেয়ার হসত্মানত্মরের বিষয় অস্বীকার করে মিথ্যা বানোয়াট ও কাল্পনিক অভিযোগ এনেছেন এবং এ অভিযোগ পত্রিকায় সংবাদ ও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রচার করিয়েছেন। যা বাদীর সততা নিয়ে নিষ্ঠা ও সুনামকে মারাত্মকভাবে আহত ও ভূলুণ্ঠিত করেছে। এ বিদেশী তার প্রদত্ত বিজ্ঞপ্তিতে একদিকে শেয়ার হসত্মানত্মরের চেষ্টা চলছে মর্মে উলেস্নখ করেন এবং অপরদিকে শেয়ার হসত্মানত্মর করিয়েছেন মর্মে মামলা দায়ের করেন যা তার স্ববিরোধী মিথ্যাচারের প্রমাণ। বাদী মামলায় তিনি এবং তার পরিবারের ২০ কোটি টাকা মানহানি হয়েছে বলে উলেস্নখ করেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমানের আদালতে দায়েরকৃত মামলাটি আমলে আনা হয়েছে এবং আসামি কিয়াং সিক কিম প্রকাশ বিলি কিমের বিরম্নদ্ধে সমন জারি করা হয়েছে। বাদীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এ্যাডভোকেট এএম জিয়া হাবিব আহসান ও এ্যাডভোকেট শরীফ উদ্দিন।