মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২১
বিপদসঙ্কুল সমুদ্র যাত্রায় অনাহার আর মৃত্যুর মুখোমুখি রোহিঙ্গারা
মিয়ানমারের জাতিগত মুসলমান সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা নারী বিবিজান রহিমুল্লাহ। সহিংসতা ও বৈষম্য থেকে বাঁচতে তিনি অক্টোবর মাসে ছোট একটি নৌকায় করে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন। তখন তাকে বলা হয়েছিল মালয়েশিয়া পৌঁছাতে এক সপ্তাহ লাগতে পারে। কিন্তু এর পরিবর্তে তাকে এবং তার তিন সন্তানকে সমুদ্র ও ভূমিতে মাসব্যাপী এক যন্ত্রণাময় সফর সহ্য করতে হলো। তাদের সার্ডিন মাছের মতো স্তূপ করে জাহাজে রাখা হয়, দেখতে হয় অন্য অভিবাসীদের মৃত্যু বা পিটিয়ে হত্যা করা এবং মৃতদের মরদেহ আবর্জনার মতো সমুদ্রে ফেলে দেয়া।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ২৭ বছর বয়সী বিবিজান বলেন, আমি কখনও ধারণা করিনি, এখানে আসার সময় এত যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে। যদি আমি জানতাম তাহলে কখনই আসতাম না। স্বামীর কাছে যেতে পাঁচ বছর বয়সী ছেলে এবং তিন ও দুই বছর বয়সী দুই মেয়েকে নিয়ে বিবিজান রাখাইন রাজ্যে অবস্থিত তাঁর বাড়ি ছাড়েন। তাঁর স্বামী আরও দুই বছর আগে পালিয়ে মালয়েশিয়া চলে যান। বিবিজান এ জন্য মানব পাচারকারীদের দুই হাজার ৫০০ ডলার দেন। প্রথমে একটি ছোট নৌকা দিয়ে তাদের সমুদ্রে নোঙ্গর করে রাখা জাহাজে নিয়ে যায় পাচারকারীরা। সেখানে তাদের কয়েকদিন খুবই গাদাগাদি করে রাখা হয়। জাহাজে নারীদের দুইবার খাবার দেয়া হতো আর পুরুষদের মাত্র একবার। তাদের দেয়া হতো অল্প পরিমাণে ভাত, তিনটা শুকনো মরিচ আর সামান্য পানি। বিপদসঙ্কুল এই সফরের কথা স্মরণ করে ভয়ে বিবিজান তার সন্তানদের আঁকরে ধরে বলেন, পুরুষরা দুর্বল হয়ে পড়ছিল। তারা যদি খাবার চাইত তাহলে তাদের রাইফেলের বাঁট ও লোহার রড দিয়ে পেটানো হতো। সমুদ্রপথে প্রায় ১২ জন মারা যায়। তাদের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু হয় পাচারকারদের পিটুনিতে, কয়েকজন ক্ষুধা, পানিশূন্যতা ও অসুস্থ হয়ে পড়ে।
মিয়ানমারের এই মুসলমান রোহিঙ্গারা কয়েক বছর ধরেই মালয়েশিয়া যেতে বিপজ্জনক আন্দামান সাগর ও থাই উপকূল পাড়ি দিচ্ছে। জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের বিশ্বের অন্যতম দুর্দশাগ্রস্ত সংখ্যালঘু হিসেবে বিবেচনা করে। বৌদ্ধ অধ্যুষিত মিয়ানমারে নানা বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গারা পালিয়ে যাচ্ছে। দেশটির প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে অভিবাসী বলে অভিহিত করে কর্তৃপক্ষ তাদের বেশিরভাগের নাগরিকত্ব, বিয়ে ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। মানবাধিকার কর্মীরা বলেছেন, দুই বছর আগে রাখাইন রাজ্যে বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর পালিয়ে যাওয়ার হার আরও বেড়েছে। রোহিঙ্গা অধিকার গ্রুপ আরাকান প্রজেক্টের ক্রিস লেওয়া বলেছেন, অক্টোবরের প্রথম দিক থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৯ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে গিয়েছে। প্রায় একমাস সাগরে থাকার পর বিবিজানদের থাইল্যান্ডের এক জঙ্গলে তাঁবুতে রাখা হয়। তারপর নবেম্বরের প্রথম দিকে তাদের কুয়ালালামপুর পাঠাতে একটি ভ্যানে ওঠানো হয়। মালয়েশিয়ায় গ্রেফতারের ভয় থাকলেও বিবিজান বলেন, এখানে আমরা নিরাপদ। মিয়ানামারে আমরা সবসময় আতঙ্কিত থাকতাম।Ñএএফপি।




সারদা কাণ্ডে তদন্তকারীদের নজরে তিন প্রভাবশালী

সারদা-কাণ্ডে আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে সিবিআই। তলব করার পরও, যাঁরা আসেননি এবার তাঁদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে পারে সিবিআই। দিল্লীতে সিবিআই দফতরে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এমনই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সারদা-কা-ে গঠিত সিবিআইয়ের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমের (সিট) অফিসারদের সে বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, তদন্ত দ্রুত শেষ করতে যা যা পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার, তা যেন করা হয়। তদন্ত বিলম্বিত করা যাবে না। ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মিললে গ্রেফতার করতেই হবে। সিবিআই সূত্রে খবর, তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন ৩ প্রভাবশালী। তারা জেরায় সঠিক তথ্য না দিতে পারলে গ্রেফতারও করা হতে পারে। সিবিআই সুদীপ্ত সেনের লেখা চিঠিকেই হাতিয়ার করে এগোতে চাইছে। এই চিঠির বিষয়ে মিলেছে অনেক তথ্য। খবর আজকাল।
সারদা-কাণ্ডে ইতোমধ্যেই সিবিআইয়ের জালে পড়েছেন ইস্টবেঙ্গল কর্তা দেবব্রত সরকার নীতু, সৃঞ্জয় বসু, সন্ধির আগরওয়াল, গায়ক সদানন্দ গগৈ, প্রাক্তন আইপিএস রজত মজুমদার। আগেই গ্রেফতার হয়েছেন কুণাল ঘোষ, সুদীপ্ত, দেবযানীরা। তাদের জেরা করে সারদা-কাণ্ডে ষড়যন্ত্রের অনেক তথ্য উঠে আসছে।