মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২১
মিসরে ব্যাপক বিক্ষোভ
মোবারকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা খারিজের প্রতিবাদ ॥ নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত ১
মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারককে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থেকে খালাস দেয়ার প্রতিবাদে দেশটিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানী কায়রোতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হলে সহিংসতা দেখা দেয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হয়। ২০১১ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রতিবাদীদের হত্যা করার দায়ে মোবারককে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। খবর আল-জাজিরা অনলাইনের।
মিসরের নিরাপত্তা বাহিনী রাস্তা থেকে প্রতিবাদীদের সরানোর চেষ্টা চালালে শনিবার রাতে তাদের গুলিতে এক ব্যক্তি মারা যায়। কায়রোর ঐতিহাসিক তাহরির স্কোয়ারের কাছে কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছোড়া হলে আরও কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়। তাদের কেউ কেউ নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে ইটপাটকেল ছোড়ে। প্রায় ২ হাজার লোক মোবারক, তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ছয় সহকারীর বিরুদ্ধে আনীত হত্যাকা-ের অভিযোগ খারিজ করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে সমবেত হয়। ১৮ দিনের গণঅভ্যুত্থানকালে প্রায় ৯শ’ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই হত্যাকা-ের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
প্রধান বিচারক মাহমুদ কামাল আল-রশিদী মোবারক ও তার দু’পুত্র আলা ও জামালকে ইসরাইলে গ্যাস রফতানি সম্পর্কিত দুর্নীতির অভিযোগ থেকেও খালাস দেন। বিচারক বলেন, কথিত অপরাধগুলো সংঘটিত হওয়ার পর খুব বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। তাই এ বিষয়ে রায় দেয়া আদালতের পক্ষে কঠিন। স্থানীয় এক টেলিভিশনে টেলিফোনে রায়ের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে মোবারক প্রতিবাদীদের মৃত্যুর জন্য তার কোন দায়দায়িত্ব থাকার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি কোন অন্যয় করিনি বলে মনে করেছিলাম। তারা এবার কি নিয়ে আসবে তা দেখার জন্য আমি অপেক্ষা করছিলাম। এ রায়ে দোষের কিছু ছিল না। আমি আদৌ কোন অন্যায় করিনি। কিন্তু আমরা ভাগ্য বদলাতে পারি না। যখন আমি আগের রায় শুনেছিলাম, তখন হেসেছিলাম। এবার আমি কেবল অপেক্ষা করছিলাম। আমি উদাসীন ছিলাম। সবকিছুই আল্লাহর হাতে। শনিবারের রায়ের পর মোবারক (৮৬) ছাড়া পাননি। গত মে মাসে তিনি সরকারী অর্থ তছরুপ সম্পর্কিত আরেকটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। এর ফলে তিনি তিন বছরের কারাদ- ভোগ করছেন। তিনি স্বাস্থ্যগত কারণে কায়রোর উপকণ্ঠে এক অভিজাত এলাকায় সেনা হাসপাতালে অন্তরীণ রয়েছেন।
শনিবারের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যেতে পারে। সেই সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য মামলাটি খতিয়ে দেখতে এ্যাটর্নি জেনারেল তার টিমকে নির্দেশ দিয়েছেন।
যখন সানগ্লাস ও সোয়েটার পরা মোবারককে স্ট্রেচারে করে আদালত কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তাকে বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। বিচারক বলেন, প্রথমে বলতে গেলে, সাবেক প্রেসিডেন্টকে বিচারে দাঁড় করানো ঠিক নয়। ফৌজদারি আইনের শর্ত অনুসারে কোন সাবেক প্রেসিডেন্টকে কোন ফৌজদারি আদালতে আনা বা তার রাজনৈতিক দায়িত্বের ভেতর তিনি করেছিলেন এমন কাজকর্মকে অন্যায় বলে গণ্য করা মানানসই নয়, এমন কি যদিও অভিযোগের তালিকায় ওইসব অপরাধের উল্লেখ রয়েছে। যখন বিচারক ‘সত্য কথা বলুন, ভয় পাবেন না, মোবারক নির্দোষ’ বলে উচ্চৈঃস্বরে রায় ঘোষণা করেন, তখন মোবারকের সমর্থকরা আনন্দে লাফিয়ে ওঠেন।
আদালতের বাইরে এ রুলিং শুনে নিহতদের আত্মীয়স্বজন মর্মাহত হন। কায়রোর উপকণ্ঠে এক পুলিশ একাডেমিতে আদালতের অধিবেশন বসেছিল। গণ-অভ্যুত্থানকালে এক পুলিশ স্টেশনের বাইরে নিহত হয়েছিলেন এমন একজনের পিতা মোস্তাফা মুরসি এএফপিকে বলেন, এটি এক নির্যাতনমূলক রায়। আমার ছেলের রক্ত বৃথা গেল। যদিও গণ-অভ্যুত্থানকালে প্রায় ৯০০ প্রতিবাদী নিহত হয়েছিল, কিন্তু মামলাটি ছিল ২৩৯ জন প্রতিবাদীর হত্যাকা- সম্পর্কিত। কারণ তাদের নামই চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়।
রায় ঘোষণাকালে রশিদী গণ-অভ্যুত্থানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এর লক্ষ্য স্বাধীনতা, জীবিকা ও সামাজিক ন্যায়বিচার ছিল ন্যায়সঙ্গত। মোবারক ক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়ার ফলে মিসরে প্রথমবারের মতো অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এতে বিজয়ী মোহাম্মদ মুরসি গতবছর সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতাচ্যুত হন।