মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩, ৩০ অগ্রহায়ন ১৪২০
ম্যান্ডেলার জীবন দীপ যেভাবে নিভে গেল...
সাক্ষাতকারে উইনি ম্যান্ডেলা
দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী কিংবদন্তি নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোতে পাশে ছিলেন সাবেক স্ত্রী উইনি মাদিকিজেলা ম্যান্ডেলা। উইনি জানিয়েছেন কিভাবে ম্যান্ডেলার জীবন দীপ ধীরে ধীরে নিভে আসে। খবর টেলিগ্রাফ অনলাইনের।
ম্যান্ডেলা ৯৫ বছর বয়সে গত সপ্তাহে জোহানেসবার্গে নিজ বাসভবনে মারা যান। মারা যাওয়ার আগে তাঁকে অনেকটা সময় ধরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। উইনি লক্ষ্য করেন লাইফ সাপোর্ট মেশিনে প্রদর্শিত ম্যান্ডেলার হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ ধীরে ধীরে কমে আসছিল। এভাবে তাঁর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের মুহূর্তটি এগিয়ে আসে। ব্রিটেনের আইটিএন চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেছেন। উইনি বলেন, ‘(ম্যান্ডেলার) জীবনের শেষ সাড়ে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত আমি তাঁর পাশে ছিলাম।’ ম্যান্ডেলা যেদিন মারা যান সেদিন সকালে ফোন করে উইনিকে আনা হয়েছিল বলে তিনি ওই সাক্ষাতকারে বলেছেন।
তিনি বলেন, ‘ফোনটি পেয়ে আমি নিজের অপারগতা প্রকাশের চেষ্টা করে বলেছিলাম টাটার (ম্যান্ডেলার পরিবারের সদস্যরা তাকে এই নামে ডেকে থাকে) সঙ্গে আমার সম্পর্কে কিছু জটিলতা রয়েছে (উইনিকে ম্যান্ডেলা তালাক দিয়েছিলেন)।’ ম্যান্ডেলার ডাক্তারকে এ কথা বোঝানোর চেষ্টা করেন উইনি। কিন্তু ডাক্তার তাকে বলেন, এই সময়ে তার আসাটা খুব জরুরী। ডাক্তার উইনিকে আরও বলেন যে, ম্যান্ডেলা কখনওই তাঁর সাবেক স্ত্রী সম্পর্কে এমন কিছু বলেননি। উইনি উপলব্ধি করেন যে, পরিস্থিতি খুব জটিল এ সময়ে তার ম্যান্ডেলার বাসায় যাওয়া উচিত। ম্যান্ডেলার বাসায় যাওয়ার পৌঁছানোর পর বাড়ির লোকজন উইনিকে ওপরতালায় যেতে বলেন। সেখানে ম্যান্ডেলার কক্ষে ডাক্তার ও অন্য লোকজন ছিলেন। ম্যান্ডেলার পরিবারের সদস্যরা উইনির সঙ্গে বেশি কথা বলেননি। ম্যান্ডেলার শয্যা পাশে উইনি প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ছিলেন। ৭৭ বছর বয়সী উইনি বলেন, ‘আমি লাইফ মেশিনগুলো পর্যবেক্ষণ করছিলাম। আমি অবাক হলাম যে তারা তাঁর (ম্যান্ডেলার) ডায়ালিসিস মেশিন বন্ধ করে দিয়েছে। কেবল শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার যন্ত্রটি চালু ছিল। আমি যাওয়ার পর প্রথম দেখি তাঁর হৃদস্পন্দন ৬৭ এর ধারে কাছে এবং রক্তচাপ ৫৫ তে ওঠানামা করছিল। ধীরে ধীরে সেটি কমতে শুরু করে।’ উইনি ধারণা করলেন, ম্যান্ডেলা সম্ভবত আর বাঁচবেন না। ডাক্তাররা এ সময় ম্যান্ডেলার শয্যার চার পাশে ঘিরে দাঁড়ান। উইনিও তখন তাঁর পাশে ছিলেন। ম্যান্ডেলাকে স্পর্শ করে উনি তাঁর শরীরের তাপমাত্রা বোঝার চেষ্টা করেন। শরীরের তাপমাত্রাও অনেক কমে এসেছিল। এর পরপরই ম্যান্ডেলা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ম্যান্ডেলা মারা যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা তাঁর বাড়িতে আসেন এবং তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ১৯৯০ সালে জেল থেকে ছাড়া পর দুবছর পর উইনির সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিয়ে ছিলেন ম্যান্ডেলা। উল্লেখ্য, উইনি এএনসি দলীয় একজন এমপি।