মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩, ৩০ অগ্রহায়ন ১৪২০
সিরিয়ায় ব্যবহৃত হয়েছে ॥ রাসায়নিক অস্ত্র
নিশ্চিত করল জাতিসংঘ মিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট ॥ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য বানের
সিরিয়ায় চলমান সংঘর্ষে চলতি বছর বার বার রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। দেশটিতে জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের তদন্ত করা সাতটি হামলার ঘটনার মধ্যে পাঁচটিতেই ওই রূপ ঘটেছে। ২১ আগস্ট রাজধানী দামেস্কের কাছে সংঘটিত এক সুস্পষ্ট হামলার ক্ষেত্রেই কেবল নয়, পরবর্তী সময়ে সৈন্যদের লক্ষ্য করে পরিচালিত দুটি হামলার ঘটনাসহ অন্য চারটি ক্ষেত্রেও রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক রিপোর্টে জাতিসংঘ এ কথা জানিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন রিপোর্টটি গ্রহণ করে বলেন, রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার আন্তর্জাতিক আইনের এক গুরুতর লঙ্ঘন এবং আমাদের অভিন্ন মানবতাবোধের অবমাননা স্বরূপ। কেবল সিরিয়াতেই নয়, সর্বত্রই যাতে এরূপ ভয়াবহ অস্ত্র নির্মূল করা হয়, তা নিশ্চিত করতে আমাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। খবর নিউইয়র্ক টাইমস ও অন্যান্য ওয়েবসাইটের।
জাতিসংঘের এ রিপোর্টে প্রথমবারের মতো বলা হয় যে, সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এবং তাঁকে উৎখাত করতে চায় এমন বিদ্রোহীদের মধ্যকার লড়াইয়ে বহু ক্ষেত্রে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এদের মধ্যে ২১ আগস্ট দামেস্কের উপকণ্ঠে সংঘটিত হামলার ঘটনাটিও ছিল। এ হামলায় শিশুসহ কয়েক শ’ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়।
জাতিসংঘের ওই রিপোর্টটিই সিরীয় সংঘাতে রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্যাদি ও অভিযোগের সবচেয়ে ব্যাপক ও স্বাধীন মূল্যায়ন। ওইরূপ অস্ত্রবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা ও চিকিৎসকরা সংঘর্ষের মধ্যেই সিরিয়া সফরে গিয়ে লোকজনের সাক্ষাতকার গ্রহণ ও নমুনা সংগ্রহ করে রিপোর্টটি তৈরি করেন। আড়াই বছর ধরে চলমান সংঘর্ষে এক লাখেরও বেশি লোক নিহত হয়।
জাতিসংঘ তদন্তকারীরা বলেন, সম্ভবত চারটি ঘটনায় মারাত্মক স্নায়ু গ্যাস সারিন ব্যবহৃত হয়েছে। কোন কোন ঘটনায় হতাহতদের মধ্যে সরকারী সৈন্য ও বেসামরিক লোকজনও ছিল।
জাতিসংঘের চূড়ান্ত রিপোর্টে বলা হয়, জাতিসংঘ মিশন সিরীয় আরব প্রজাতন্ত্রে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে চলমান লড়াইয়ে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। তদন্তে দেখা যায় যে, মার্চ মাসে উত্তরাঞ্চলীয় আলেপ্পো শহরের কাছে যান আল-আসাল, এপ্রিলে উত্তরাঞ্চলীয় ইদলিব শহরের কাছে সারাকেবে এবং আগস্ট মাসে দামেস্কের কাছে জোবার ও আশরাফিয়াত সাহনায়াতে সম্ভবত রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে। ইতোপূর্বে সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত জাতিসংঘ মিশনের প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়, ২১ আগস্ট দামেস্কের বিদ্রোহী অধিকৃত গোটা উপশহরে বেসামরিক লোকজনের ওপর ব্যাপক পরিমাণে সারিন গ্যাস প্রয়োগ করা হয়েছিল বলে সুষ্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ রয়েছে। সুইডিশ বিজ্ঞানী এ্যাকে সেলস্ট্রোমের নেতৃত্বে গঠিত এক প্যানেলের সদস্যরা চূড়ান্ত রিপোর্টটি তৈরি করেন। সেলস্ট্রোম বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের হাতে রিপোর্টটি তুলে দেন। রিপোর্টে ওইসব হামলায় রাসায়নিক অস্ত্র কে প্রয়োগ করেছিল তা সযতেœ এড়িয়ে যাওয়া হয়। এর প্রণেতারা বলেন, এরূপ অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, কেবল তা স্থির করাই ছিল তাদের ম্যান্ডেট। সিরীয় সরকার ও বিরোধী দল উভয়েই রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের দায়ে একে-অপরকে অভিযুক্ত করেছে এবং উভয়েই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বান সেলস্ট্রোমের নেতৃত্ব ওই তদন্ত কমিশন গঠন করেন। এর আগে যান-আল-আসালে রাসায়নিক অস্ত্রের হামলা চালানোর দায়ে বিদ্রোহীদের অভিযুক্ত করে সিরীয় সরকার বানের কাছে চিঠি দিয়েছিল।
২১ আগস্টে গোটা উপশহরে সংঘটিত হামলার পর সিরীয় সরকার এর রাসায়নিক অস্ত্রভা-ার ধ্বংস করতে দিতে সম্মত হয়। ওই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার ওপর বিমান হামলা চালানোর হুমকি দেয়। হেগভিত্তিক রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থাকে (ওপিসিডব্লিউ) সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্রভা-ার ধ্বংস করার কাজ দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।