মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ২৩ জুন ২০১৩, ৯ আষাঢ় ১৪২০
গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে স্নোডেন অভিযুক্ত
হংকং থেকে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি
মার্কিন বিচার দফতর পলাতক সাবেক গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষক এ্যাডোয়ার্ড স্নোডেনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেছে। তিনি মার্কিন সরকারের এক গোপন নজরদারি কর্মসূচীর বিস্তারিত বিষয় ফাঁস করেছিলেন। ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (এনএসএ) বিশ্লেষক স্নোডেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর মধ্যে গুপ্তচর বৃত্তি ও সরকারী সম্পত্তি চুরির অভিযোগও রয়েছে। ফোন ও ইন্টারনেট ডাটার ওপর নজরদারি করার এক কর্মসূচীর বিস্তারিত বিষয় ফাঁস করার পর মে মাসে স্নোডেন হংকংয়ে পালিয়ে যান। যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে ফিরিয়ে দিতে হংকংয়ের কাছে অনুরোধ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা যায়। তাঁর ফাঁস করা তথ্যে দেখা যায়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পরিকল্পিত উপায়ে বিশাল পরিমাণ ফোন ও ওয়েবডাটা সংগ্রহ করছে। খবর বিবিসি অনলাইনের।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের এক ফেডারেল আদালতে স্নোডেনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়। তাঁর নামে এক অস্থায়ী গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে আদালতের কাগজপত্রে দেখা যায়।
স্নোডেনের বিরুদ্ধে সরকারী সম্পত্তি চুরি করা, জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক তথ্য অননুমোদিত উপায়ে ফাঁস করা এবং গোপনীয় গোয়েন্দা তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে ফাঁস করার অভিযোগ আনা হয়। প্রতিটি অভিযোগেই সর্বোচ্চ দশ বছরের কারাদ- দেয়ার বিধান রয়েছে। অভিযোগটি ১৪ জুন দায়ের করা হয়, তবে এ খবরটি শুক্রবারই প্রকাশ করা হয়।
ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর বিল নেলসন ওই অভিযোগ দায়েরের পদক্ষেপকে স্বাগত জানান। তিনি সিনেট সশস্ত্র বাহিনী কমিটির অন্যতম সদস্য।
তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, এটি যে এক রাষ্ট্রদ্রোহমূলক কাজ তা আমি সব সময়েই বলে এসেছি। আমি আশা করছি, হংকং সরকার তাঁকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেবে। সংবাদদাতারা বলছেন, যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও হংকং আইন প্রয়োগ করার বিষয়ে সহযোগিতা করে থাকে, তথাপি স্নোডেনের আপীল অধিকার তাঁকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করতে পারে। ফাঁস করা তথ্যে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র এনএসএর এক কর্মসূচীর আওতায় বিরাট পরিমাণ ফোন ও ওয়েবডাটা পরিকল্পিত উপায়ে অধিকার করছে। এ কর্মসূচী প্রিজম নামে পরিচিত।
স্নোডেন আরও অভিযোগ করেছিলেন, মার্কিন গোয়েন্দারা চীনা কম্পিউটার নেটওয়ার্কগুলার ওপর হ্যাকিং চালিয়ে আসছে।
তিনি বলেন, কংগ্রেসের কাছে উর্ধতন কর্মকর্তারা অব্যাহতভাবে মিথ্যাচার করে আসছেন বলে দেখতে পেয়ে তিনি মুখ খোলার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর গোপনীয় তথ্য ফাঁসের ফলে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের জন্য গুরুতর বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি হয়।