মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ২৩ জুন ২০১৩, ৯ আষাঢ় ১৪২০
লুণ্ঠিত শিল্পকর্ম রাশিয়ার কাছে ফেরত চাইলেন মেরকেল
এঞ্জেলা মেরকেল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে সোভিয়েত সৈন্যদের লুট করে নিয়ে যাওয়া জার্মান শিল্পকর্ম ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জার্মান চ্যান্সেলর এঞ্জেলা মেরকেল সেন্ট পিটার্সবার্গ হার্মিটেজ জাদুঘরে এক প্রদর্শনী উদ্বোধনের সময় ওই দাবি জানান। এ সময় তাঁর পাশে ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। এঞ্জেলার এ দাবির কারণে তাঁর রাশিয়া সফর অনেকটা ম্লান হয়ে পড়ে।
প্রদর্শনীর গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৮১টি প্রাচীন স্বর্ণ সামগ্রীর সংগ্রহ। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বাসন, আংটি ও অলঙ্কৃত বল। সামগ্রীগুলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে প্রকাশ্যে আর দেখা যায়নি।
এবার্সওয়ার্ল্ড হোয়ার্ড প্রাগৈতিহাসিক স্বর্ণ পি- ১৯১৩ সালে বার্লিনের উত্তর-পূর্বে এক স্থানে খননকালে আবিষ্কৃত হয় এবং বার্লিন নগরীর একটি জাদুঘরে রেখে দেয়া হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে সোভিয়েত সেনারা সংগ্রহটি জাদুঘর থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় মস্কোতে। জার্মানি কয়েক দশক যাবত সংগ্রহটি ফেরত দেয়ার দাবি জানাচ্ছে। জার্মানরা ইউরোপীয় তাম্রযুগের এ সংগ্রহটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী বলে মনে করে। এঞ্জেলা মেরকেল গত শুক্রবার রাতে ওই প্রদর্শনী উদ্বোধনকালে বলেন, আমাদের অভিমত যে, এ সংগ্রহগুলো জার্মানির কাছে ফেরত পাঠানো উচিত। অন্যদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন এঞ্জেলা মেরকেলের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এখন ক্ষতিপূরণের দাবির আর সময় নেই।
প্রদর্শনী যৌথভাবে আয়োজন করে রুশ ও জার্মানি জাদুঘর। তাম্রযুগের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরার লক্ষ্যে জাদুঘরগুলো ১ হাজার ৭শ’টির বেশি সামগ্রী পাঠায়। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে রাশিয়া ও জার্মানি তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুললেও সাইপ্রাসে অর্থনৈতিক সঙ্কটে জার্মানির কট্টরনীতি অনুসরণের কারণে এ বছর তাদের মধ্যে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠেছে। কারণ, অনেক রুশ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন সাইপ্রাসে।
বার্লিনের হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে বলা হয়, সোভিয়েত সৈন্যরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষদিকে দশ লক্ষাধিক পুস্তক এবং হাজার হাজার শিল্প সামগ্রী লুট করে নিয়ে গেছে। এগুলোর মধ্যে অনেক সংগ্রহ এখনও চিহ্নিত করা যায়নি।