মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ২৩ জুন ২০১৩, ৯ আষাঢ় ১৪২০
ভারত কেন চীন থেকে এত পিছিয়ে
আধুনিক ভারতের বহু ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য আছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে দেশটির অবস্থান এখন প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের ছুঁই ছ্ুঁই। তা সত্ত্বেও উভয় দেশের অনেক ফারাকও রয়েছে। বলা চলে ভারত অনেক দিক দিয়ে চীনের থেকে পিছিয়ে রয়েছে। শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের এক নিবন্ধে এ কথা বলা হয়েছে।
যদি বলা হয় বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারত, তবে ভুল হবে না। দেশটির গণমাধ্যম ক্রম বিকাশমান এবং বলা চলে এটি যথেষ্ট মুক্ত ও স্বাধীন। এটাও ঠিক যে, পৃথিবীর অনেক দেশের চেয়ে ভারতীয়রা বেশি সংখ্যায় সংবাদপত্র কিনে থাকে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর নাগরিকদের প্রত্যাশিত গড় আয়ু ৩২ বছর থেকে দ্বিগুণের বেশি ৬৬ বছর হয়েছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে পাঁচগুণ। গত কয়েক দশকে অর্থনৈতিক খাতে সংস্কারের সুবাদে প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রবৃদ্ধির দিক থেকে ভারতের অর্থনীতি এখন বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে চলে এসেছে।
প্রবৃদ্ধির এই অঙ্কের হিসাবটুকু বাদ দিলে ভারত ও চীনের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই বিস্তর ফারাক রয়েছে। এই পার্থক্য ভারতীয়দের উদ্বেগের কারণ হওয়ার জন্য যথেষ্ট। যেমন একটি হলো অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি ঘটলেও এটি স্থিতিশীল নয়। তাছাড়া জীবনযাত্রার মানের দিক থেকেও ভারতীয়রা চীনাদের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। প্রত্যাশিত গড় আয়ু বাড়ানো, শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং স্বাস্থ্যসেবা বিস্তারের ক্ষেত্রে চীন ভারতের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। ভারতে অনেক নামী দামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে কিন্তু সেগুলো অভিজাত শ্রেণীর জন্য। সাধারণ শিক্ষার বেলায় অবস্থা অনেকটা শোচনীয়। সাত বছর বা তদুর্ধ বয়সী ভারতীয়দের অবস্থা হলো ছেলেদের মধ্যে প্রতি পাঁচ জনে এক জন এবং মেয়েদের প্রতি তিন জনে এক জন নিরক্ষর। কৃত্রিম ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় দেশ হলেও দেশটির স্বাস্থ্য সেবা খাতে রয়েছে অগণিত সমস্যা। চীন যেখানে জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিনিয়োগ করে সেখানে ভারতে এই বিনিয়োগের হার ১ দশমিক ২ শতাংশ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুষম উন্নয়নের দিক থেকে চীন, জাপান, হংকং, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুরের মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ভারত। এর একটি কারণ হতে পারে দেশটির নেতৃবৃন্দ সার্বিক উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দেননি বা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ ছাড়া কৌতূহলোদ্দীপক হলেও বিষয়টি বাস্তব যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ভারতকে জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন মত সমম্বয় করে মানব উন্নয়নের ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। শিল্পায়নের ক্ষেত্রে চীনের বহুমুখীকরণ নীতি অনুসরণ করেছে। ফলে দেশটির ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেছে। কিন্তু ভারতের অবস্থা সে রকম নয় তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ ও মোটর যন্ত্রাংশের মতো গুটি কয়েক ক্ষেত্রে ভারতের শিল্পায়ন সীমাবদ্ধ। এসব শিল্পে দক্ষ কারিগরি জ্ঞান সম্পন্ন শ্রম দরকার হয়। ফলে আংশিকভাবে সামাজিক উন্নয়ন হলেও সমাজের একটা বড় অংশ মৌলিক সুবিধাগুলো থেকে বঞ্চিত থেকে যায়।