মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ২৩ জুন ২০১৩, ৯ আষাঢ় ১৪২০
উত্তর ভারতে বন্যা ও ভূমিধসে মৃত বেড়ে ৬শ’
৬৩ হাজার লোক আটকা
ভারতে বর্ষণ কবলিত উত্তরাঞ্চলে আটকে পড়া হাজার হাজার মানুষকে উদ্ধারে শনিবার উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তৎপরতা চালাচ্ছে। দেশটিতে প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রায় ৬০০ লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। খবর এএফপির।
কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধারকর্মীরা গঙ্গা নদীতে ডুবে যাওয়া বেশ কয়েক জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। এদিকে হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত উত্তরাখ- রাজ্যে মৌসুমী বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ৬৩ হাজার লোক আটকা পড়েছে বা নিখোঁজ রয়েছে। এদের অধিকাংশই পুণ্যার্থী ও পর্যটক। ফুঁসে ওঠা নদীর পানিতে বাড়িঘর, ভবনসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম ভাসিয়ে নিয়ে গেছে এবং পার্বত্য রাজ্যটির তীর্থ শহরগুলোতে যাওয়ার জন্য নির্মিত সেতু ও ছোট ছোট রাস্তাগুলোকে ধ্বংস করেছে। ওই অঞ্চলটিতে বেশ কয়েকটি মন্দির থাকায় এটি ‘দেবতাদের ভূমি’ হিসেবে পরিচিত। শনিবার উত্তরাখণ্ডের স্বরাষ্ট্র সচিব ওম প্রকাশ এএফপিকে বলেন, ‘এ পর্যন্ত ৫৭৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হলেও মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। আমাদের রেকর্ড অনুযায়ী ৬২ হাজার ৭৯০ লোক এখনও আটকা পড়ে আছে।’ তিনি আরও বলেন, বেশ কয়েকটি মৃতদেহ উদ্ধারের জন্য চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সাত সদস্যের একটি দল হিন্দু পুণ্যার্থীদের অত্যন্ত জনপ্রিয় স্থান কেদারনাথের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছেন। আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের জন্য বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার ও কয়েক হাজার সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পরও তাঁরা আটকা পড়ে আছেন। টেলিভিশনের ফুটেজে সামরিক হেলিকপ্টার থেকে ছত্রীসেনাদের উদ্ধার তৎপরতায় যোগ দিতে দেখা গেছে। রবিবার থেকে উত্তরাখণ্ডসহ ভারতের মধ্যাঞ্চলের বেশ কিছু স্থানে আরও বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই উদ্ধারকারী দল কঠিন বাধার সম্মুখীন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর যে ইউনিটটি রাজ্যের উদ্ধার তৎপরতা তদারক করছে তার প্রধান কর্মকর্তা অজয় চাড্ডার উদ্ধৃতি দিয়ে শনিবার টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ‘আমরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছি।’ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, রবিবার রাত থেকে খারাপ আবহাওয়া শুরু হতে পারে। তাই উদ্ধারকর্মীদের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করতে হবে। পিত্তগড় এলাকার শীর্ষ কর্মকর্তা নিরাজ খাইরওয়াল এএফপিকে বলেন, ‘উদ্ধারকর্মীরা আটকে পড়া লোকদের উদ্ধারে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় তারা আটকা পড়েন। এখন সেখানে হেলিকপ্টার অবতরণ করেছে এবং তাদের সকলেই নিরাপদ রয়েছে।’ এনডিটিভি জানিয়েছে, শনিবার সেনাবাহিনীর সদস্যরা কেদারনাথের কাছে পার্বত্যাঞ্চলে আটকে পড়া প্রায় এক শ’ লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছে।
শুক্রবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বহুগুনা বলেন, ‘হিমালয়ের ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি।’
পর্যাপ্ত ও সঠিক সতর্কবার্তা জারি না করার জন্য তিনি ভারতের আবহাওয়া বিভাগের (আইএমডি) কড়া সমালোচনা করেন। স্বাভাবিক সময়ের আগেই প্রবল মৌসুমী বৃষ্টিপাত আঘাত হানে। তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া বিভাগের এই ব্যর্থতার কারণে স্থানীয় সরকার যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করতে ও মানুষকে সময় মতো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনতে পারেনি। পর্যটকদের সরিয়ে আনতে আরও ১৫ দিন লাগতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইএমডি’র সতর্কবার্তা যথাযথ প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথেষ্ট স্পষ্ট ছিল না।’ নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনের খবরের আশায় কয়েকদিন ধরে দেরাদুন বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষা করছেন। অমিত ঠাকুর (৪০) বলেন, তাঁর ১১ বছর বয়সী ভাতিজা গত সপ্তাহ থেকে নিখোঁজ রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কুলদীপ সিং ধাতওয়ালিয়া এএফপিকে শুক্রবার রাতে বলেন, ‘আমাদের সৈন্যরা অর্ধ লক্ষাধিক লোককে উদ্ধার করেছে।’
সরকারের এক উর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, পার্শ্ববর্তী রাজ্য হিমাচল প্রদেশে আরও ১৭ লোক মারা গেছে।
নেপাল সরকার জানিয়েছে, মৌসুমী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৩৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।