মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০১৩, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০
ভারতের মাওবাদী হামলার পর আরও সহিংসতার আশঙ্কা
ভারতের পূর্বাঞ্চলে মাওবাদী গেরিলাদের হাতে ব্যাপকসংখ্যক লোক নিহত হওয়ার পর সরকার বিদ্রোহ দমন অভিযান জোরদার করার সঙ্কল্প ব্যক্ত করেছে। আর আগামী নির্বাচনের আগে আরও সহিংসতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। শনিবার মাওবাদী বিদ্রোহীরা এক রাজনৈতিক দলের গাড়িবহরের ওপর চোরাগোপ্তা হামলা চালালে ২৯ ব্যক্তি নিহত হন। খবর ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটরের।
ওই হামলায় নিহতদের মধ্যে পূর্বাঞ্চলীয় ছত্তিশগড় রাজ্যের ভারতীয় কংগ্রেস দলের সিনিয়র নেতারাও ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং মাওবাদীদের বিরুদ্ধে সরকারের অভিযান জোরদার করা হবে বলে আভাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নক্সাল (মাওবাদী) চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে হবে। এসব জীবনকে বৃথা যেতে দেয়া উচিত হবে না। এ ঘটনায় চরমপন্থী ও হিংসাশ্রয়ী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইয়ে এক অনুপ্রেরণা হওয়া উচিত।’ ছত্তিশগড়ের রাস্তার মালভূমির ডারভা উপত্যকায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী) উপজাতি অধ্যুষিত বাস্তার অঞ্চলের বিরাট ভূখ- নিয়ন্ত্রণ করছে। এর সদস্যরা নক্সালী বলেও পরিচিত। ওইদিন ২৫০ গেরিলার একটি দল কংগ্রেস দলের নেতা ও কর্মীবাহী ২৫টি গাড়ির এক বহরের ওপর চোরাগোপ্তা হামলা চালায়। অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন উপলক্ষে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে গাড়িবহরে করে নেতারা সেখানে গিয়েছিলেন। শনিবারের হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল উপজাতীয় নেতা মহেন্দ্র কর্ম। তিনি ২০০৫ সালে রাজ্য সরকারের সমর্থন নিয়ে ‘সালওয়া জুদুম’ (শান্তি মিছিল) নামে এক মাওবাদীবিরোধী মিলিশিয়া গঠন করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘন ও শিশু সৈন্য নিয়োগের জন্য এ মিলিশিয়ার সমালোচনা করা হয়। ভারতের সুপ্রীমকোর্ট ২০১১ সালে অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করে ‘সালওয়া জুদুম’ ভেঙ্গে দেয়। গেরিলারা কর্মের দেহ গুলিতে ঝাঁজরা করার পর এর ওপর নাচতে থাকে। হামলায় কংগ্রেস দলের রাজ্য শাখার প্রধান ও তার পুত্রও নিহত হন এবং দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের এক সিনিয়র নেতা ভিসি শুল্কা গুরুতরভাবে আহত হন। কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী একে ‘কাপুরোষিত কাজ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর হামলা’ বলে অভিহিত করেন।