মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০১৩, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০
সিরীয় যুদ্ধে ইরাকী শিয়ারা
০ আঞ্চলিক গোষ্ঠী সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে
ইরাকী শিয়ারা এখন সিরীয় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে। সিরিয়ার শাসক বাশার আল আসাদকে উৎখাতের লক্ষ্যে দেশটিতে দু’বছরেরও সময় ধরে লড়াই চলছে। আসাদের বিরুদ্ধে লড়াইকারী বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সমম্বয়ের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এ থেকে এক বৃহত্তর আঞ্চলিক গোষ্ঠী সংঘাতের আশঙ্কা ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে। খবর ওয়াশিংটন পোস্ট অনলাইনের।
আসাদ আলাভি গোষ্ঠীভুক্ত শিয়া মতাবলম্বী অপর দিকে তার বিরুদ্ধে লড়াইকারী বিদ্রোহীরা অধিকাংশই সুন্নী। প্রতিবেশী দেশ ইরাকে বর্তমানে শিয়ারা ক্ষমতায় থাকলেও ইরাক সরকার এখন পর্যন্ত সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ নিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করছে। কিন্তু সম্প্রতি খবর পাওয়া গেছে, ইরাকী শিয়া গেরিলারা এখন সিরিয়ায় আসাদের পক্ষ হয়ে লড়াই করছে। গেরিলাদের সঙ্গে কথা বলে বিশ্লেষকরা জানতে পেরেছেন যে, ইরাকী শিয়ারা গোপনে সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পক্ষে লড়ছে এবং ইরাক সরকারের এতে সায় রয়েছে। শিয়াদের সিরিয়ার লড়াইয়ে জড়ানোর উদ্দেশ্য আলকায়েদাকে পরাজিত করা। শিয়ারা আলকায়েদাকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে। শিয়াদের ধারণা এ অঞ্চলে তাদের প্রভাব হ্রাস করার জন্য এ জঙ্গী নেটওয়ার্কটিকে আঞ্চলিক শাসকরা ব্যবহার করছে। মধ্যপ্রাচ্যের শিয়া শাসিত প্রভাবশালী দেশ ইরান ইতোমধ্যেই সিরিয়া সরকারের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছে এবং তেহরান আসাদকে বিভিন্নভাবে সহায়তাও করে যাচ্ছে। ইরানের সমর্থনে লেবাননের প্রভাবশালী শিয়া গ্রুপ হিযবুল্লাহ এখন সিরিয়ায় আসাদের পক্ষে লড়ছে। সিরিয়ার যুদ্ধে ইরাকী শিয়াদের জড়িয়ে পড়ায় সিরীয় ইস্যুতে ইরাকী সরকার আসলে কি ভূমিকা পালন করছে সে প্রশ্নটি আবার সামনে চলে এসেছে। ইরাকী আকাশসীমা ব্যবহার করে আসাদ সরকারের কাছে ইরান অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সৈন্য পাঠাচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে অভিযোগ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের এ অভিযোগের পরে ইরাকের কর্তৃপক্ষ বলেছিল তাদের দেশ অতিক্রমকারী ইরানী প্লেনগুলো পরীক্ষা করে দেখা হবে। এরপর এ পর্যন্ত আট প্লেন বিচ্ছিন্নভাবে পরীক্ষা করে তাতে অবৈধ কিছু পাওয়া যায়নি বলে ইরাকী কর্মকর্তরা জানিয়েছেন।
ইরাকী কর্মকর্তারা এটাও জানিয়েছেন, আসাদের পতন ঘটলে সিরিয়া সঙ্কটের প্রভাব ইরাকেও এসে লাগবে। এ বছর ফেব্রুয়ারি ইরাকী প্রধানমন্ত্রী নুরী আল মালিকি সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, সিরিয়ায় চলমান গৃহযুদ্ধে বিদ্রোহীরা জয়লাভ করলে ইরাকের অভ্যন্তরে শিয়া-সুন্নী দ্বন্দ্ব নতুন করে মাথাচাড়া দিতে পারে। মালিকির ঘনিষ্ঠ ইরাকী একজন পার্লামেন্টের সদস্য বলেছেন, ইরাকের সুন্নীরা যেমন সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সহায়তা করছে তেমনি শিয়ারা সাহায্য করছে আসাদ বাহিনীকে। ইরাক সরকার এগুলো দেখেও না দেখার নীতি অবলম্বন করছে।
এদিকে পশ্চিমা ও আরব দেশগুলোর মধ্যস্থতায় সিরিয়া সঙ্কট নিয়ে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠেয় বৈঠকের আগে সোমবার বিদ্রোহী গ্রুপগুলো নিজেদের মতপার্থক্য কাটিয়ে ওঠতে পারেনি বলে খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে এ বৈঠকে কোন গ্রুপটি বিদ্রোহীদের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করবে সে ব্যাপারে কোন সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি বিদ্রোহীরা। আপতত সিরিয়ান ন্যাশনাল কোয়ালিশনই এতে প্রতিনিধিত্ব করছে বলে জানানো হয়েছে।