মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০১৩, ১৯ মাঘ ১৪১৯
ফরাসী সেনারা শীঘ্রই মালি ত্যাগ করবে ॥ ফ্যাবিয়াস
প্রতিরোধ ছাড়াই কিদাল শহরের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির সর্বশেষ জঙ্গী ঘাঁটি কিদালের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ফরাসী সেনারা। মালির উত্তরাঞ্চলীয় কিদাল শহরটি আল কায়েদা ও ইসলামিক মাগরেব সংশ্লিষ্ট জঙ্গী গোষ্ঠীর সর্বশেষ ও শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। বুধবার কোন প্রতিরোধ ছাড়াই ফরাসী সেনারা কিদালে ঢুকে পড়ে এবং শহরটির বিমানবন্দরের দখল নেয়। খবর বিবিসি অনলাইনের।
এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, কিদালের ইসলামী জঙ্গীরা ইতোমধ্যে শহরটি ছেড়ে গেছে। মনে করা হচ্ছে জঙ্গীরা পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছে। কিদাল শহরটি আলজিরিয়া সীমান্তে অবস্থিত। মালির অন্যতম জঙ্গী অধ্যুষিত গাও এবং টিম্বুকটু শহর ফরাসী সেনাদের দখলে যাওয়ার পর দিন কিদাল শহরটির দখল হারালো জঙ্গীরা।
হামিনি মাইগা নামে কিদালের এক সরকারী কর্মকর্তা বলেন, কোন প্রতিরোধ ছাড়াই ফরাসী সেনা শহরটিতে ঢুকে। কিদালের আঞ্চলিক পরিষদের প্রধান হামিনি মাইগা আরও বলেন, ফরাসী সেনারা চারটি বিমানে করে কিদালে অবতরণ করে। তারা প্রথমে বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারপর কিদাল শহরে প্রবেশ করে। শহরটিতে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কোন যুদ্ধ হয়নি। কিদালে এখন ফরাসী সেনারা টহল দিচ্ছে। আর দুটি সামরিক হেলিকপ্টার তাদের মাথার ওপর চক্কর দিচ্ছে। ফরাসী প্রতিরক্ষামন্ত্রী জঁ ইভস লি দ্রিয়া বলেছেন, বালুঝড়ের কারণে ফরাসী সেনাদের বিমাবন্দর ত্যাগে দেরি হতে পারে। গত মার্চ মাসে মালির বিশাল উত্তরাঞ্চল ইসলামী জঙ্গীদের দখলে যায়। ফ্রান্স পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটির সাবেক ঔপনিবেশিক শাসক মালিকে জঙ্গী মুক্তকরণে এ মাসে অভিযান শুরু করে ফ্রান্স। বিবিসির প্রতিনিধি টমাস কেজি টিম্বুকটু থেকে জানান, কিদাল শহরটি নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে মালিতে ফরাসী সেনা অভিযানের প্রথম পর্যায় শেষ হলো। আর মালির মরু অঞ্চলে লুকিয়ে থাকা আল কায়েদা জঙ্গীদের উৎখাতে দ্বিতীয় পর্যায়ের অভিযানে আফ্রিকান সেনাদের মোতায়েন করতে চায় ফ্রান্স।
এ বিষয়ে বুধবার ফরাসী পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট ফেবিয়াস বলেন, ফরাসী সেনারা শীঘ্রই মালির মাটি ত্যাগ করতে আগ্রহী। তারপর আফ্রিকান দেশগুলোর সেনারা মালির দায়িত্ব নেবে। ইতোমধ্যে মালিতে পশ্চিম আফ্রিকার অপরদেশ নাইজার এবং চাদের কয়েক শ’ সেনা অবস্থান করছে। ওদিকে ফরাসী পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট ফেবিয়াস আরও বলেন, মালিতে শান্তি স্থাপনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দরকার। এ বিষয়ে বুধবার মালির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দিওসদাদো তোরে বলেন, আমি আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে মালিতে স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে চাই।