মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০১১, ১৫ পৌষ ১৪১৮
হরমুজ দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধের হুমকি ইরানের
০ যুদ্ধের আশঙ্কা বিশ্লেষকদের
০ বিশ্ব বাজারে অস্থিরতা
ইরান হুমকি দিয়েছে যে, এর পরমাণু কর্মসূচীকে কেন্দ্রের অপরিশোধিত তেল রফতানির ওপর বিদেশী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে দেশটি হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে পাশ্চাত্যের উদ্দেশে তেল পরিবহন বন্ধ করে দেবে। এ পদৰেপ ইরানের সঙ্গে পারস্য উপসাগরীয় তেলের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর সামরিক সংঘর্ষের কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে। ইরানের হুমকির পর মঙ্গলবারই বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলারেরও ওপরে চলে যায়। বিশ্ববাজারে সরবরাহ করা তেলের শতকরা ৪০ ভাগই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে পরিবহন করা হয়ে থাকে। প্রণালীটি পারস্য উপসাগরকে ওমানের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। তেলসমৃদ্ধ বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত উপসাগরের উপকূলে অবস্থিত। খবর এএফপি, নিউইয়র্ক টাইমস ও অন্যান্য ওয়েবসাইটের।
কয়েকটি পশ্চিমা রাষ্ট্র ইরানের পরমাণু কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে দেশটির তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে। ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে বলে ওই সব দেশ অভিযোগ করে থাকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এরূপ নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি বিলে সই দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইরানকে পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচী থেকে বিরত রাখার চেষ্টায় এর তেল রাজস্ব উলেস্নখযোগ্য হ্রাস করাই বিলটির উদ্দেশ্য।
ইরানের ভাইস-প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা রাহিমি মঙ্গলবার হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে এক ফোটা তেলও নিয়ে যেতে দেয়া হবে না। উপসাগরের প্রবেশপথ হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের নৌযুদ্ধ মহড়া চলার সময়ে রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ইরনা ওই হুঁশিয়ারির খবর প্রচার করে।
তিনি বলেন, সংঘাত বা সহিংসতার কোন ইচ্ছা আমাদের নেই। কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলো নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে যেতে চায় না।
তিনি বলেন, যদি আমরা আমাদের শত্রম্নদের এক কঠোর শিৰা দেই, কেবল তা হলেই তারা ইরানের বিরম্নদ্ধে তাদের ষড়যন্ত্রের পথ ত্যাগ করবে। ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র মার্ক টোনার সর্বশেষ ইরানী হুমকিকে উড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে তেলের অবাধ পরিবহন সমর্থন করবে বলে দফতরটি জোর দিয়ে উলেস্নখ করেছে।
টোনার সাংবাদিকদের বলেন, আমরা মনে করি এটি প্রকৃত ইসু্য থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে চালিত করতে তাদের আরেক চেষ্টা। তারা যে পরমাণু বিষয়ে আনত্মর্জাতিক বাধ্যবাধকতা অমান্য করছে, সেটিই প্রকৃত ইসু্য। বিশ্বের ট্যাঙ্কারবাহী তেলের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়ে থাকে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মন্ত্রীরা ১ ডিসেম্বর বলেছিলেন যে, তাদের জানুয়ারির বৈঠকেই ইরানের বিরম্নদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের নিষয়ে সিদ্ধানত্ম নেয়া হবে। বিশেস্নষকরা বলেন, ইরান তেল আমদানিকারক পশ্চিমা দেশগুলোর মতোই অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ৰতিগ্রসত্ম হতে পারে বলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়ার কথা গভীরভাবে চিনত্মাভাবনা করবে। আর এতে সামরিক দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ বড় বড় শক্তির সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের সূচনা হতে পারে।
শিকাগোর পিএফজি বেস্ট রিসার্চের বিশেস্নষক ফিল ফ্লিন বলেন, আমার মতে এটি ইরানী শাসকগোষ্ঠীর জন্য এক আত্মঘাতী কাজই হবে। এর বন্ধুরাও এর শত্রম্নতে পরিণত হবে।
নিউইয়র্কের অয়েল আউটলুকসের প্রেসিডেন্ট কার্লপেরি বলেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিতে সৰম হয়, তবে তেলের দাম বেড়ে বিশ্ব অর্থনীতিকে তছনছ করে দিতে পারে। কাজেই প্রথমে এরূপ অবরোধ ভেঙ্গে দিতে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে বলে মনে হয়।
ইরানী হুঁশিয়ারির পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ বিঘি্নত হতে পারে বলে বিনিয়োগকারীদের মনে উদ্বেগ দেখা দেয়। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলারও ছাড়িয়ে যায়।