মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১১, ২ পৌষ ১৪১৮
পশ্চিমবঙ্গে বিষাক্ত মদ খেয়ে মৃত ১৩১
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিষাক্ত মদ খেয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চবি্বশ পরগনার কয়েকটি এলাকার লোকজন ওই বিষাক্ত মদ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
এর আগে মৃতের সংখ্যা জানানো হয় ৫৭ জন। কিন্তু চিকিৎসাধীন প্রায় ১০০ জনের মধ্যে ৭০ জনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, মগরাহাট, উসত্মি ও মন্দিরবাজার এলাকার লোকজন মঙ্গলবার রাতে ওই বিষাক্ত মদ পান করে। তারা প্রায় সবাই শ্রমজীবী শ্রেণীর মানুষ। এ ঘটনায় শুধু ডায়মন্ড হারবার হাসপাতালেই ৮৩ জন মারা গেছে। এ ছাড়া এমআর ভাঙ্গুর হাসপাতালে ১৬ জন এবং মগরাহাটে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
মদপানে মৃতদের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তীব্র শ্বাসকষ্টের কারণে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে এনডিটিভি জানায়।
মদ পানকারীরা প্রায় সবাই খেটে খাওয়া শ্রমজীবী শ্রেণীর মানুষ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চোখ জ্বালা ও খিঁচুনি ইত্যাদি উপসর্গ নিয়ে বুধবার ভোর থেকেই খাপুর, কচুয়াপাড়া, সংগ্রামপুর, কালিকাপোতা, বামনাপাড়া, সেকেন্দরপুর, ধান্যকাটাসহ আরও কয়েকটি এলাকার অনেক বাসিন্দা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে অনেকে মারা যান। হাসপাতালে নেয়ার পরও মৃতের সংখ্যা বাড়তেই থাকে। চোলাই মদ বিক্রি ভারতে অবৈধ। কিন্তু তা সসত্মা হওয়ায় শ্রমজীবী মানুষ তাই পান করে। ঠিক কি কারণে ওই চোলাই মদে বিষক্রিয়া হয়েছিল তা অবশ্য এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
আগে চোলাইয়ের সঙ্গে মিথাইল অ্যালকোহল মিশিয়ে দেয়ায় মদ বিষাক্ত হয়ে উঠত। মিথাইল অ্যালকোহল সাধারণত কাঠের রং করার কাজে ব্যবহৃত হয়।
ওই চোলাই মদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারকে ২ লাখ রম্নপী করে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ জনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।