মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১১, ২০ ভাদ্র ১৪১৮
সিরীয় শাসকগোষ্ঠীর কাছে মাথা নোয়াবে না বিক্ষোভকারীরা
ফেসবুকে আন্দোলনের সংগঠক তরুণ নেতা আব্দুল্লাহ এখন নিরাপত্তা বাহিনীর টার্গেট
তখন রাত ১১টা। মাত্র কয়েক ঘণ্টা ঘুমিয়ে নিয়ে জেগে উঠলেন ২৬ বছর বয়সী সরকারবিরোধী এক সিরীয় যুবক। তাঁর নাম আবদুল্লাহ। পেশায় কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার এবং একজন ধার্মিক মুসলিম। সঙ্গে রয়েছেন তাঁর বন্ধু ইয়াদ (পারিবারিক নাম অবশ্য নয়)। দেশটিতে গত পাঁচ মাস ধরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের লৌহকঠিন শাসনের বিরুদ্ধে সে প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে তাতে এই দুই তরুণ প্রায় নেতৃত্বের পর্যায়ে চলে এসেছেন। সিরিয়ার দুর্ধর্ষ গোপন পুলিশ বাহিনী মুখাবারাত হন্যে হয়ে এদের খুঁজছে। ঘুম থেকে উঠে আবদুল্লাহ তোষক গুটিয়ে এক পাশে রাখলেন। এরপর ল্যাপটপে এক ঝলক চোখ বুলিয়ে নিলেন। ইতোমধ্যে প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে গোপন পুলিশবাহিনীর প্রচ- সংঘর্ষ শুরু হয়ে গেছে। ভোরে ফজরের আজান পর্যন্ত সিরিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর হোমসে সে সংঘর্ষ চলে। টিয়ারগ্যাস, সীসার গুলি ও বুলেট_ প্রতিবাদকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কোন কিছুর ব্যবহার বাকি রাখেনি পুলিশ। অন্যদিকে প্রতিবাদকারীদের কথাও ছিল একটি_ তারা কিছুতেই শাসকবর্গের কাছে মাথা নোয়াবে না। মার্চ মাসে যখন আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম বিক্ষোভ শুরু হয় তাতে যোগ দিয়েছিলেন আবদুল্লাহ। তরুণ সিরীয় বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তাঁর অবস্থান এখন অনেকটা নেতার মতো। এছাড়া প্রযুক্তি ব্যবহারে পারদর্শী হওয়ায় ফেসবুক ও স্কাইপির মতো ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগের মতো সাইটগুলো ব্যবহারে তিনি সরকারবিরোধীদের সংগঠিত করতে পারছেন। যে কারণে তিনি এখন নিরাপত্তা বাহিনীর অন্যতম টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই প্রতিবাদকারীরা অগ্রসর হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা প্রতিরোধের জন্য যারা খুব সাধারণ কৌশলগুলো ব্যবহার করছে। যেমন যেসব জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর যানবহর ঢুকতে পারে সেখান রাস্তার ওপর পেরেক ছড়িয়ে দিচ্ছে যেন গাড়ির টায়ার ফুটো হয়ে যায়। পস্নাস্টিকের পাইপের মধ্যে হেয়ার স্প্রে করে তাতে পেঁয়াজ ঢুকিয়ে অগি্নসংযোগ করছে। এর ফলে পেঁয়াজের ঝাঁঝ বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। সিরিয়ায় সরকারের বিরম্নদ্ধে এই গণজাগরণ প্রথম শুরম্ন হয় মার্চের মাঝামাঝি সময়ে দৰিণাঞ্চলীয় দেরা শহর থেকে। স্কুলের দেয়ালে সরকারবিরোধী কথাবার্তা লেখার জন্য ১৫ কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, এই কিশোরদের অমানবিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এছাড়া এদের মায়েদের ধর্ষণের হুমকি দেয়া হয়েছিল। বাশার আল আসাদের পিতা হাফিজ আল আসাদ ১৯৭০ সালে ৰমতা দখল করে সিরিয়ার ইতিহাসে এক গোলযোগপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়েছিলেন। তিন দশক ৰমতায় থাকাকালে তিনি বহুবার সামরিক অভু্যত্থানের চেষ্টা প্রতিহত করেন। কৃষিৰেত্রে সংস্কারসহ অবকাঠামো আধুনিকায়নে তিনি যথেষ্ট অবদান রাখেন। এ কারণে পলস্নী এলাকায় তাঁর অনেক সমর্থক রয়েছে। তবে কৃষি সংস্কার করতে গিয়ে হামা ও হোমস শহরের সংখ্যাগরিষ্ঠ সুন্নীদের বিরাগভাজন হতে হয়েছিল হাফিজ আল আসাদকে। কারণ সংস্কার কর্মকা-ের ফলে তাদের মালিকানাধীন অনেক জায়গা জমি হাতছাড়া হয়েছে। উলেস্নখ্য, সিরিয়ার শাসক আসাদ পরিবার শিয়া মতাবলম্বী। সরকারবিরোধী বিৰোভ শুরম্নর পর পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেৰণ করতে যথেষ্ট সংখ্যক সাংবাদিককে সেখানে যেতে দেয়া হচ্ছে না। দেশটিতে এখন কি ঘটতে যাচ্ছে তা কেউ বলতে পারে না। শাসকগোষ্ঠী এখনও ৰমতা অাঁকড়ে থাকার ব্যাপারে অনড়। তাদের কথা হলো, হয় আমাদের ৰমতায় থাকতে দিতে হবে অথবা অরাজকতাকে মেনে নিতে হবে। এছাড়া সিরিয়া জনগণের সামনে আর কোন পথ খোলা নেই। _ইন্টারন্যাশনাল হেরাল্ড ট্রিবিউন