মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ১৫ জুন ২০১১, ১ আষাঢ় ১৪১৮
লাখোপতি ভিক্ষুক
নাম পরিচয় হীন লাশটি পড়ে ছিল ভারতের আজমীর শরীফের দরগার ঠিক কাছেই। আফসোসের দৃষ্টিতে কেউ কেউ তাকালেও নেড়ে চেড়ে দেখার যেন কারও সময় নেই। সবাই ছুটছেন যার যার কাজে। রবিবার ভিক্ষুকের শহর আজমীরের মূল দরগার কাছে পানিগ্রাম চকে দীর্ঘ সময় পড়েছিল অপরিষ্কার ও ছিন্নবসনের একটি লাশ। স্থানীয় ভিৰুকদের কাছে মুখখানা পরিচিত হলেও কেউ জানে না তার নাম-পরিচয়। ফলে দরদ দিয়ে তাকানোর প্রয়োজন বোধ করেনি কেউ। এর মধ্যে কেউ একজন খবর দেয় পুলিশকে। পুলিশ এসে অজ্ঞাত এ লাশটি তুলে নিয়ে যায় থানায়। লাশটির সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির জন্য থানা পুলিশের এক সদস্য লাশের গায়ে হাত দেয়। গায়ে জড়ানো ছেঁড়া কাপড়গুলো যতই সরাচ্ছিলেন সংশিস্নষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ততই অবাক হচ্ছিলেন। পুলিশ সদস্য কিছু সময় খোঁজাখুঁজির পর লাশের গায়ে জড়ানো কাপড় থেকে প্রায় দু'লাখ রম্নপীর সন্ধান পায়। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
এক পুলিশ কনস্টেবল বলেন, মৃতের বয়স আনুমানিক ৬০ বছর। তাঁর পরনের কাপড় ছিল শতছিন্ন, সঙ্গে একটি ঝোলা ছিল, তাও নোংরা। পরনের শার্ট ও প্যান্টের পকেটে পাওয়া যায় প্রায় এক লাখ ৯৮ হাজার রম্নপী। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভিক্ষুকটির নাম-পরিচয় জানতে পারেনি পুলিশ। এক পুলিশ কর্মকর্তা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, লাশের সঙ্গে প্রায় দু'লাখ রম্নপীর কথা জানাজানি হওয়ার পর অনেকেই লাশের আত্মীয় পরিচয়ে পুলিশের কাছে ছুটে আসেন। তবে তাঁরা কেউ তাদের দাবির পৰে প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। এত টাকা কীভাবে এলো- জানতে চাইলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমরা যতদূর জেনেছি, তিনি ভিক্ষা করে যেসব খুচরা পয়সা পেতেন তা তিনি বিক্রি করতেন। এভাবেই হয়ত তিনি এতটা জমাতে সৰম হন। লাশের প্রকৃত স্বজন না পেয়ে লাশটি দাফন-কাফনের জন্য দরগাহ কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়েছে। আর তাঁর অর্থের বন্দোবস্ত করতে ৯০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবে পুলিশ। প্রকৃত স্বজন না পাওয়া গেলে তা শহর কর্তৃপক্ষকে দিয়ে দেয়া হবে।