মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০১১, ১১ মাঘ ১৪১৭
গণতন্ত্রের দাবিতে উত্তাল আলজিরিয়া, ইয়েমেন
ইয়েমেনী প্রেসিডেন্ট সালেহর পদত্যাগ দাবি ॥ আলজিয়ার্সে ব্যাপক সংঘর্ষ
তিউনিসিয়ার পর এবার আলজিরিয়া ও ইয়েমেন উত্তাল হয়ে উঠছে। আলজিরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে গণতন্ত্রকামী ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের বেশ কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। ইয়েমেনের সানা বিশ্ববিদ্যালয়ে শত শত ইয়েমেনী ছাত্র প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করে। খবর এএফপির।
তিউনিসিয়ার আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ হয়ে ইয়েমেনী ছাত্ররা প্রেসিডেন্ট আলী আবদুলস্নাহ সালেহর দীর্ঘ শাসন অবসানের দাবি জানায়। বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা প্রেসিডেন্ট সালেহর বিরম্নদ্ধে সেস্নাগানে সেস্নাগানে মুখরিত করে তোলে রাজপথ। তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট বেন আলীর দেশ ত্যাগের পর থেকেই ইয়েমেনের ছাত্ররা আন্দোলন শুরম্ন করে। আন্দোলনরত ছাত্ররা শনিবার বিৰোভের সময় প্রেসিডেন্টের বিরম্নদ্ধে বিভিন্ন পস্ন্যাকার্ড বহন করে। ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট সালেহ ৭ বছরের জন্য পুনর্নির্বাচিত হন। সালেহকে আজীবনের জন্য প্রেসিডেন্ট রাখার ব্যাপারে সংবিধান সংশোধনের জন্য পার্লামেন্টে বর্তমানে আলোচনা চলছে। যদিও বিরোধীরা এ নিয়ে প্রতিবাদমুখর।
এদিকে জেনারেল পিপলস কংগ্রেস সালেহর সমর্থনে মিছিল করেছে। সালেহ গত ডিসেম্বরে বলেন, আগামী এপ্রিলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে বিরোধী দলগুলো এই নির্বাচন বয়কটের হুমকি দিয়েছে।
অপরদিকে আলজিরিয়ার পুলিশের সঙ্গে রাজধানী আলজিয়ার্সে বিৰোভকারীদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ৪২ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা গুরম্নতর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে সংঘর্ষে ১৯ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ১১জন বিৰোভকারী ও ৮ জন পুলিশ রয়েছে।
র্যালি ফর কালচার এ্যান্ড ডেমোক্র্যাসি (আরসিডি) এর প্রধান সাইদ সাদি বলেন সংঘর্ষে দলের মুখপাত্র মহসেন বেলাবেসও আহত হয়েছেন। দলের পার্লামেন্টারি গ্রম্নপের প্রধান ওসমান আমাজোকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরসিডি বলেছে দলের পার্লামেন্ট সদস্য আরিজদি আতিয়ারকে আটক করা হয়েছিল তবে এক ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
প্রায় তিন শ' বিৰোভকারী মিছিল নিয়ে পার্লামেন্ট ভবনের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় পুলিশ তাদের গতিরোধ করে। তাদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিৰেপ ও লাঠিচার্জ করে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায় ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে আরসিডির সদর দফতর থেকে দলের প্রধান সাইদ নিজেকে বন্দী হিসেবে উলেস্নখ করেন। সাঈদ দলের সদর দফতরের দোতলার জানালা দিয়ে ম্যাগাফোনের মাধ্যমে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, তারা শানত্মিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে পারছেন না। তাদেরকে অবরম্নদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এ সময় বহু মানুষ তার বক্তব্য শুনছিলেন।
বিৰোভকারীরা আলজিরিয়ার পতাকা দুলিয়ে বিভিন্ন সেস্নাগান দিতে থাকে। তারা আলজেরিয়াকে 'ঘাতক রাষ্ট্র' বলে উলেস্নখ করে এবং মুক্ত ও গণতান্ত্রিক আলজিরিয়ার পৰে সেস্নাগান দেয়। বার্তা সংস্থা এএফপির একজন সাংবাদিক বলেন আরসিডি দলের এক আঞ্চলিক নেতার মাথায় পুলিশ আঘাত করে। পরে তাকে ও অপর এক আহতকে এ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় এই আহত নেতার সমর্থকরা আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দেন। তারা বলেন সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেৰা করে তারা আগামী ৯ ফেব্রম্নয়ারি বিৰোভ করবে। ১৯৯২ সালের এই দিনে সরকার আলজিরিয়ায় জরম্নরী অবস্থা জারি করেছিল।
এদিকে সরকারের এক বিবৃতিতে জনগণকে বিজ্ঞচিত আচরণ করার জন্য এবং কোন ধরনের উস্কানিতে সাড়া না দেয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশে শানত্মি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সচেষ্ট হতে অনুরোধ জানানো হয়।
বিবৃতিতে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয় আলজিরিয়ায় কোন ধরনের বিৰোভ বরদাশত করা হবে না। সড়কে জমায়েত আইন ভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।