মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ৪ জানুয়ারী ২০১১, ২১ পৌষ ১৪১৭
এমকিউএম বেরিয়ে গেল 'মুমূর্ষু' জিলানি সরকার
সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েও ক্ষমতায় থাকার ব্যাপারে আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী
পাকিস্তানে রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তার কালোছায়া। পাকিস্তান পিপল'স পার্টির (পিপিপি) নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন সরকার পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এর প্রধান কোয়ালিশন শরিক মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম) রবিবার এ সরকারের ওপর থেকে পার্লামেন্টারি সমর্থন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি ও অন্যান্য ইস্যুতে ৰমতাসীন কোয়ালিশনের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ দলটির ঐ অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তের ফলে সৈয়দ ইউসুফ রাজা জিলানির সরকার জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় পতিত হলো। এমকিউএমের ২৫ জন জাতীয় পরিষদ সদস্য (এমএনএ) ৰমতাসীন পিপিপির সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে এখন থেকে বিরোধী দলীয় আসনে বসবেন বলে এমকিউএমের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়। দলটি সিনিয়র কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার বলেন, এমকিউএম সরকারের পতন চায় না, কিন্তু সরকারই নিজের কাজকর্মের কারণে নিজের পতন ডেকে আনছে। তবে প্রধানমন্ত্রী জিলানি তার সরকারের ভেঙ্গে পড়ার পর বিপন্ন অবস্থায় থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। এমকিউএমের ঐ ঘোষণার পর টেলিভিশনে জিলানি বলেন, আমি কোন সঙ্কট দেখছি না। প্রধানমন্ত্রী লাহোরে সাংবাদিকদের বলেন, এমকিউএমের সিদ্ধানত্ম সত্ত্বেও তাঁর সরকার ৰমতায় থাকবে। খবর বিবিসি, সিএনএন, ডন ও নেশন অনলাইনের।
পার্লামেন্টের নিম্নকৰ ৩৪২ সদস্যের জাতীয় পরিষদে পািকসত্মান মুসলিম লীগ কিউ (পিএমএল-কিউ) যদি সরকারকে সমর্থন করে তবেই কেবল সরকার টিকে থাকতে পারে। ঐ পরিষদে দলটির ৫০-এর বেশি সদস্য রয়েছে। তবে এ সঙ্কট মুহূর্তে সরকারের সঙ্গে হাত মেলানোর কোন আগ্রহ দলীয় নেতৃত্বের নেই। যদি পিএমএল (এন) সরকারের যোগদান না করেও সরকারকে সমর্থন করে, তাহলেও সরকার টিকে থাকতে পারে। পরিষদে দলটির ৯১ জন সদস্য রয়েছেন। এমকিউএমের সিদ্ধানত্মের পর প্রধানমন্ত্রী প্রায় ১৫৮ জন এমএনএ'র সমর্থন ভোগ করছেন। এটা সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখার জন্য নূ্যনতম প্রয়োজনীয় ১৭২টি ভোটের চেয়ে বেশ (১৪টি ভোট) কম।
বিবিসির এক সংবাদদাতা বলেন, তালেবান ও আল কায়েদার বিরম্নদ্ধে লড়াইরত পশ্চিমা মিত্ররা এরূপ রাজনৈতিক অস্থিরতা পরিহার করে যাবে বলে আশা করছে।
বিশেস্নষকরা বলছেন, সরকার নতুন শরিক পাওয়ার জন্য এখন জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এরূপ শরিক পাওয়া না গেলে নতুন নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমকিউএমের সমন্বয় কমিটির এক জরম্নরী বৈঠকে সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়। কমিটি বলেছে, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যাদির দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধির পর কেন্দ্রীয় সরকারকে সমর্থন করে যাওয়ার মতো অবস্থা আর দলের নেই। লন্ডন ও করাচীতে একযোগে অনুষ্ঠিত ঐ বৈঠকে এমকিউএম আইন প্রণেতারা জাতীয় পরিষদ ও পার্লামেন্টের উচ্চকৰ সিনেটে বিরোধী দলীয় আসনে বসবেন বলে সিদ্ধানত্ম গৃহীত হয়। এরপরই দলের লন্ডনে অবস্থানরত প্রধান আলতাফ হোসেন টেলিফোনে পিএমএল (কিউ), পিএমএল (এফ) ও জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেন।
কোয়ালিশনের এক ৰুদ্রতর শরিক জমিয়ত-ই-উলেমা ইসলাম দল ডিসেম্বরে সরকারের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেয়। এর আগে দলে মন্ত্রীদের বরখাসত্ম করা হয়েছিল।
অনেক পাকিসত্মানীর বিশ্বাস, দুটি দল দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বানচাল করতে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের নির্দেশমতো কাজ করছে।
প্রেসিডেন্টের দফতর ও সরকার আশা ব্যক্ত করেছে যে, কোন রাজনৈতিক দলই জাতীয় পরিষদে প্রধানমন্ত্রী জিলানীর বিরম্নদ্ধে অনাস্থা প্রসত্মাব আনবে না।
প্রধানমন্ত্রী জিলানি সাংবাদিকদের বলেন, পিএমএল (এন) প্রধান নওয়াজ শরীফ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করে এসেছেন এবং তিনি এর পতন দেখতে চাইবেন না। জিলানি বলেন, যদি রাজনৈতিক শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবে কোন তৃতীয় শক্তিই হসত্মৰেপ করার কথা ভাবতে পারবে না।