মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ৮ এপ্রিল ২০১০, ২৫ চৈত্র ১৪১৬
'মাওবাদীদের ওপর পাল্টা আঘাতই একমাত্র পথ'
দিল্লীতে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক
ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের দান্তেওয়াড়ায় আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের হত্যার ঘটনা সম্ভবত মাওবাদীদের ওপর পাল্টা কঠোর আঘাত হানা ছাড়া কেন্দ্রের হাতে আর কোন উপায় রাখেনি। এর লক্ষ্য হবে তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সুবিধাজনক অবস্থান পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা। এ লড়াই যেমন রাজনীতি ও নৈতিক মনোবলের লড়াই, তেমনি তা লাল উগ্রপন্থীদের শাসিত জঙ্গলের বৈরী পরিবেশে কঠোর সশস্ত্র যুদ্ধ চালানোর লড়াই। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের।
সরকার মাওবাদী শাসিত এলাকাগুলোর গভীরে আঘাত এনে ক্রমশ নিয়ন্ত্রণ লাভ করছিল। কিন্তু মঙ্গলবারের হামলার ভয়াবহ প্রকৃতি এটা স্পষ্ট করে তুলেছে যে, মাওবাদীদের শক্তি নিঃশেষ হতে এখনও অনেক বাকি। যখন তারা তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে নিরাপত্তা বাহিনীকে হটে যেতে বাধ্য করা যাবে বলে বিশ্বাস করবে, তখন তাদের আলোচনার টেবিলে টেনে আনার সামান্য সুযোগই রয়েছে। মঙ্গলবার সরকারের ভিতর আলোচনায় মাওবাদীদের বিরুদ্ধে নতুন করে শক্তির সমাবেশ ঘটানোর বিষয়ে কথাবার্তা হয়। বিশাল দান্তেওয়াড়া বনভূমির সংঘর্ষে কি ভুল হয়েছিল তা সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করা হয়। বেঠকে উড়িষ্যা, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের মাওবাদী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোকে মুক্ত করার অভিযান দৃঢ়তার সঙ্গে চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
নয়াদিল্লীতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মঙ্গলবারের বৈঠকে মাওবাদী হামলা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকের লক্ষ ছিল সেনাবাহিনী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন, পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর কাজকর্মের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় সাধন করা। কেন্দ্রের সামনে যে সমস্যা তা রাজনৈতিকও বটে। কারণ সরকার যুক্তি দেখিয়েছে যে, মাওবাদীরা গণতান্ত্রিক সরকারকেই উৎখাত করতে চায় এবং যে কোন আলোচনার ন্যুনতম পূর্বশর্ত হলো অস্ত্রবিরতি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরম বলেন, আলোচনার স্বার্থে মাওবাদীদের সহিংসতার অবসান ঘটানো উচিত। কিন্তু এখন তিনি তার জবাব পেয়ে গেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন।