মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ৮ এপ্রিল ২০১০, ২৫ চৈত্র ১৪১৬
বিক্ষোভকারীদের দখলে পার্লামেন্ট
থাই প্রধানমন্ত্রী ভেজাজিভা সেনা ব্যারাকে, দেয়াল টপকে সদস্যদের পলায়ন
থাইল্যান্ডের সরকারবিরোধী হাজার হাজার বিক্ষোভকারী বুধবার পার্লামেন্ট ভবনের সদর দরজা ভেঙ্গে ঢুকে পড়ে। এ সময় আতঙ্কিত পার্লামেন্ট সদস্যরা দেয়াল টপকে পালিয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী অভিজিৎ ভেজাজিভা মন্ত্রিসভার বৈঠক ফেলে সেনা ব্যারাকে চলে যান। খবর এএফপি, বিবিসির।
থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থক রেড শার্টধারী বিৰোভকারীরা ট্রাক দিয়ে রাজধানী ব্যাঙ্ককে পার্লামেন্টের সদর দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে। থাইল্যান্ডে আগাম নির্বাচনের দাবিতে গত ৫দিন ধরে বিৰোভ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় হাজার হাজার বিৰোভকারী গেট ভেঙ্গে পার্লামেন্ট ভবন চত্বরে প্রবেশ করে। এ সময় নিম্ন কৰের অধিবেশন চলার কথা থাকলেও সদস্যদের স্বল্প উপস্থিতির কারণে অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করা হয়। প্রতিনিধি পরিষদের সেক্রেটারি জেনারেল পিতন পুমহিরান বলেন, বিৰোভকারীরা সদর দরজা ভাঙ্গার জন্য ট্রাক ব্যবহার করে, তবে এখন পর্যনত্ম সহিংসতার কোন খবর পাওয়া যায়নি। রেড শার্টধারীরা পার্লামেন্ট ভবনের কাছে পেঁৗছলে এ খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী অভিজিৎ ভেজাজিভা মন্ত্রিসভার বৈঠক ফেলে রেখে শহরের উত্তরাংশে সেনা ব্যারাকে চলে যান। থাইল্যান্ডে আন্দোলন শুরম্ন হওয়ার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী এই সেনা ব্যারাকেই অবস্থান করছেন। বিৰোভকারীরা ব্যাঙ্ককের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানানোর পর মন্ত্রিসভা কঠোর নিরাপত্তায় আইনের মেয়াদ বর্ধিত করে। এই বিৰোভে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই দরিদ্র এবং শ্রমিক শ্রেণীর। তারা অভিজিৎ সরকারকে ধনিক শ্রেণীর ও অগণতান্ত্রিক হিসেবে বিবেচনা করে। পুলিশ বলছে, মধ্যরাতের পর ব্যাঙ্ককে একটি সুপার মার্কেটের কাছে একটি গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটে। তাতে একজন আহত হয়। সরকারী মুখপাত্র বলেছেন, প্রয়োজনে সরকার জরম্নরী আইন জারি করতে পারে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে সরকার জরম্নরী আইন জারি করতে বাধ্য হবে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী অভিজিৎ তার যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন। আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে পরমাণু বিষয়ক নিরাপত্তা শীর্ষ সম্মেলনে তার যোগ দেয়ার কথা ছিল। সরকার বিৰোভকারীদের ১ বছর কারাদ- দেয়ার হুমকি দিয়েছে তবে এখন পর্যনত্ম কাউকে গ্রেফতার করেনি। নিরাপত্তা বাহিনী বিৰোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কোন ধরনের শক্তি প্রয়োগ করছে না। বিৰোভকারীরা শহরের যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে এবং প্রধান প্রধান সপিং সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছে। সরকার বিৰোভকারীদের বিরম্নদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করবে না বলে জানিয়েছে। অপরদিকে বিৰোভকারীরা শানত্মিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাবে বলে ঘোষণা করেছে। তবে বিশেস্নষকরা বলেছেন বিৰোভকারীদের বিরম্নদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিৰোভকারীরা পার্লামেন্টের আঙ্গীনায় প্রবেশ করার সময় পার্লামেন্ট সদস্যরা দেয়াল টপকে পালিয়ে যায়।