মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ১০ মে ২০১৩, ২৭ বৈশাখ ১৪২০
৫ মে’র ষড়যন্ত্র এবং খালেদা জিয়ার পাখিরা
শাহরিয়ার কবির
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে যখনই দাঙ্গাকারী, জনসম্পদ ও রাষ্ট্রীয়সম্পদ ধ্বংসকারী সন্ত্রাসীরা নিহত হয়- বিএনপি-জামায়াত-হেফাজতসহ ১৮ দলীয় জোটের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার পাখির মতো মানুষ হত্যা করছে। গত ৫ ও ৬ মে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হেফাজতে ইসলামকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা যে নজিরবিহীন নৃশংস তা-ব চালিয়েছে, যা প্রতিহত করার জন্য পুলিশকেও এক পর্যায়ে গুলি ছুড়তে হয়েছে তার ফলে দেশী ও বিদেশী গণমাধ্যমের হিসেবে সাধারণ মানুষ, নিরীহ পথচারী ও হেফাজতের কর্মীদের নিহতের সংখ্যা ২৪-এর বেশি না হলেও খালেদা জিয়ার বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত দাবি করেছে এই সংখ্যা নাকি দুই থেকে তিন হাজারেরও বেশি এবং এই হত্যাকা- নাকি ’৭১-এর ২৫ মার্চের গণহত্যার ঘটনাকে ম্লান করে দিয়েছে। ’৭১-এর গণহত্যা নিয়ে এ রকম জঘন্য মিথ্যাচার ও মশকরা কেবল বেগম খালেদা জিয়াদের পক্ষেই সম্ভব।
খালেদা জিয়ার বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত দাবি করেছে সরকার নাকি হাজার হাজার লাশ গুম করে দিয়েছে। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে ৫ মে শাপলা চত্বরে শত শত দেশী-বিদেশী সাংবাদিক হেফাজতের সমাবেশ শেষ না হওয়া পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের শত শত স্টিল ও টিভি ক্যামেরা, এমনকি মোবাইল ফোনের ক্যামেরাও ১৮ ঘণ্টা চালু ছিল। কারও ক্যামেরায় হাজার হাজার লাশের ছবি, কিংবা হাজার হাজার লাশ গুম করার ছবি ধরা পড়ল না। এটা কি জাদুকর পিসি সরকার বা হুডিনির ভোজবাজি? তিন হাজারের বেশি লাশ সরাতে গেলে কয়টা ট্রাক লাগে? লাশ কোথায় ফেলা হয়েছে, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা না ধলেশ্বরী নদীতে?
‘পাখির মতো গুলি করে হত্যা’ বাগ্ধারাটি বেগম খালেদা জিয়ার কল্যাণে স্কুলপড়–য়া বালক-বালিকারাও শিখে গেছে। হেফাজত-জামায়াত-বিএনপির তাবত সন্ত্রাসীদের খালেদা জিয়া পাখি হিসেবে গণ্য করেন। তিনি এদের তোতা, আবাবিল বা বুলবুলি ভাবতে পারেন, আমরা তো শকুন ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারি না। রুদ্র যেমন তার কালজয়ী কবিতায় লিখেছিলেনÑ‘জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরনো শকুন।’ খালেদা জিয়ার আদরের এই শকুন পাখিদের আমরা দেখেছি ’৭১-এ। তখনকার সব প্রামাণ্য চিত্রে আমরা দেখেছি শকুনরা কিভাবে ছিঁড়ে খাচ্ছে আমাদের স্বজনদের শবদেহ। ’৭১-এ ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে পাকিস্তানী সামরিক কর্তাদের আতিথ্যগ্রহণকারিণী খালেদা জিয়া গণহত্যা দেখেননি, গণহত্যার ইতিহাসও পড়েননি। যদি দেখতেন বা পড়তেন তাহলে ৫ মে হেফাজত-জামায়াতের ডজন দেড়েক সন্ত্রাসীর মৃত্যুকে গণহত্যা বলতেন না। গত কয়েক মাসের দাঙ্গাকারী, তা-ব সৃষ্টিকারী সন্ত্রাসীদের হত্যাকে পাখির মতো বলতে পারতেন না।
আমরা নীতিগতভাবে কোন হত্যা সমর্থন করি না। ব্যক্তিগতভাবে আমি মৃত্যুদ-েরও বিরুদ্ধে। কাস্টডিতে হত্যা যখনই হোক না কেন আমি প্রতিবাদ করেছি। মৃত্যুদ-ের বিরোধিতা করলেও ’৭১-এর গণহত্যাকারী, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীদের জন্য আমি মনে করি মৃত্যুদ- হচ্ছে সর্বনিম্ন শাস্তি এবং এই শাস্তি প্রদানের দায় যেমন ট্রাইব্যুনাল এড়াতে পারে না, একই সঙ্গে অপরাধীদেরও অধিকার রয়েছে এই শাস্তি লাভের।
৫ মে সহ গত কয়েক মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তখনই গুলি করেছে যখন হেফাজত-জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাসীদের দ্বারা নিরীহ মানুষের জীবন-জীবিকা আক্রান্ত হয়েছে, কিংবা কর্তব্যরত পুলিশ আক্রান্ত ও নিহত হয়েছেন। নিরস্ত্র পুলিশকে জামায়াতের সন্ত্রাসীরা কিভাবে রাস্তায় ফেলে ইট দিয়ে বার বার আঘাত করে মাথা থেঁতলে দিয়েছে, কিভাবে মাথার ভেতর লোহার রড ঢুকিয়ে পুলিশ হত্যা করেছেÑ টেলিভিশনের পর্দায় সে সব ভয়ঙ্কর নৃশংস দৃশ্য সবাই দেখেছে এবং আতঙ্কিত হয়েছে। বাংলাদেশের ৪২ বছর কিংবা পাকিস্তানকালের ২৪ বছরের ইতিহাসে পুলিশ হত্যার এমন দৃশ্য দেখিনি।
জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা ও আদর্শিক গুরু মওলানা আবুল আলা মওদুদী হিটলার ও মুসোলিনীর নাৎসিবাদ ও ফ্যাসিবাদের এমনই অনুরাগী যে, তিনি বিশ্বাস করেন এই বিশ্বের সোয়াশ’ কোটি মানুষের প্রিয় ধর্ম ইসলাম হচ্ছে ফ্যাসিবাদের মতো এক রাজনৈতিক মতাদর্শ। আমরা জানি ফ্যাসিবাদ হচ্ছে ভয়ঙ্কর, নিষ্ঠুর, অমানবিক ও হন্তারক রাজনৈতিক দর্শন। এই বিশ্বব্রহ্মা-ে একমাত্র জামায়াতে ইসলামীর পক্ষেই ইসলামের এহেন লাঞ্ছনা সম্ভব। ইসলাম ধর্ম, কোরান, হাদিস, নবী, রাসুল, সাহাবা ও সুন্নাহর বিরুদ্ধে মওদুদী যেসব কথা লিখেছেন সেসব বাংলা তর্জমা করে যদি প্রচার করা হয় তাহলে এ দেশে জামায়াতের নামনিশানা থাকবে না। জামায়াত ও হেফাজত কথায় কথায় ব্লাসফেমি আইন ও শরিয়া আদালত চালু করার কথা বলে। আল্লাহ না করুন, বাংলাদেশে যদি কখনও শরিয়া আদালত চালু হয় মওদুদীর চ্যালাচামু-াদের শিরñেদ অবধারিত। ফ্যাসিবাদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে নিরস্ত্র মানুষকে অস্ত্র ও সন্ত্রাসের দ্বারা ভয় দেখিয়ে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। ফ্যাসিবাদ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, বহুত্ববাদে বিশ্বাস করে না। ভিন্নমত সহ্য করে না। প্রতিপক্ষকে দমনের একমাত্র পথ হচ্ছে হত্যা, যা জামায়াতেরও ধর্ম।
৫ মে বায়তুল মোকাররমকে ঘিরে হেফাজত ও জামায়াত যে তা-ব, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে তার ভেতর সবচেয়ে মর্মান্তিক ছিল জাতীয় মসজিদের চারপাশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ৫০০ দোকান আগুন লাগিয়ে ভস্মীভূত করা। বায়তুল মোকাররমের তিন দিকে ফুটপাতের ওপর বই, কাপড়, খেলনা, জুতা, ব্যাগ-স্যুটকেস ও মনোহারি সামগ্রীর অসংখ্য দোকান। এসব দোকানে দু’-তিন লাখ থেকে সাত-আট লাখ টাকার পণ্য ছিল। এসব ছোট ছোট দোকানই ছিল তাদের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন। চোখের সামনে জীবনের সকল সম্বল নিমেষে ছাই হতে দেখলে মানুষের প্রতিক্রিয়া কতটা হৃদয়বিদারক হতে পারে সেদিন আমরা টেলিভিশনের পর্দায় অবলোকন করেছি এবং আতঙ্কগ্রস্ত হয়েছি।
ভস্মীভূত এসব ছোট ছোট দোকানের ভেতর জাতীয় মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ গেটের বেশিরভাগ ছিল বইয়ের। উত্তর দিকে ছিল বিজ্ঞান, সাহিত্য, মানববিদ্যা, রাজনীতি, অর্থনীতি ও কারিগরী শিক্ষার বই আর দক্ষিণে ছিল সব ধর্মীয় গ্রন্থের দোকান। এসব দোকানে কোরান, হাদিস, নবী-রাসুল ও আউলিয়াদের জীবনীসহ ইসলাম বিষয়ক বই এবং এর সঙ্গে টুপি, তসবিহ, জায়নামাজ প্রভৃতি বিক্রি হতো। দুষ্কৃতকারীরা হরতালের সময় যেভাবে গান পাউডার ছড়িয়ে গাড়ি, বাস, ট্রেনের বগি ও দোকানপাটে আগুন লাগিয়ে মুহূর্তের ভেতর ছাই করে ফেলে সেদিনও তাই করেছিল। চোখের পলকে বায়তুল মোকাররমের তিন দিকে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে আগুন। এর লেলিহান শিখা শত শত মানুষকে পথের ভিখিরি বানিয়েছে। সর্বস্ব হারানো এসব মানুষের আর্তনাদ, বিলাপ ও কান্না যারা টেলিভিশনে দেখেছিলেন তাদের অনেকে অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি। একজন শ্মশ্রুম-িত দোকানদার কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, ওরা মুসলমান নয়, ওরা ইসলামের দুশমন, ওদের ওপর আল্লাহর গজব পড়বে। কারা এ কাজ করেছে- সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে এক যুবক ক্রুদ্ধ কণ্ঠে বলেছেন, শফীর গু-ারা এ কাজ করেছে।
হেফাজতে ইসলামের আমির আহমদ শফীকে কেউ শ্রদ্ধাভরে ‘হুজুর’ বলেন, কেউ বলেন ‘আল্লামা’, কেউ বলেন, ‘হযরত’। কোরান হাদিসে আগুন লাগিয়ে হেফাজতের আমির মুহূর্তের ভেতর রূপান্তরিত হয়েছে। জঙ্গী সন্ত্রাসীদের গডফাদারে। কোরান হাদিসের দোকানে আল্লামা শফী আগুন লাগাননি, তার সংগঠনের কাউকে এই মর্মে নির্দেশও দেননি। বরং পত্রিকায় পড়েছি, পরদিন পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে ৫ মে’র যাবতীয় ধ্বংসযজ্ঞের বিবরণ শুনে তিনি ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এমনও শুনেছি গত ফেব্রুয়ারির ১৯ ও ২০ তারিখে ‘নয়া দিগন্ত’, ‘সংগ্রাম’, ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত বিশাল খোলা চিঠিতে ‘গণজাগরণ মঞ্চ’ এবং ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’র নেতৃবৃন্দকে ‘নাস্তিক’, ‘মুরতাদ’, ‘মুশরিক’, ‘কাফের’ প্রভৃতি আখ্যা দিয়ে যে বিষোদগার করা হয়েছে সেটি আল্লামা শফীর নামে প্রচার করা হলেও তিনি নাকি এ বিষয়ে কিছু জানতেন না। কিন্তু এতে করে এসব অপরাধের দায় থেকে তিনি কখনও মুক্তি পাবেন না। হেফাজতের আমির হিসেবে সংগঠনের সকল নেতাকর্মীর সকল অন্যায় ও অপরাধের দায় আল্লামা শফীকে নিতে হবে। আন্তর্জাতিক আইনে এই অপরাধকে বলা হয়- অধিনায়ক বা নেতার দায়বদ্ধতা। তার খোলা চিঠিতে এবং পরবর্তীকালে তথাকথিত নাস্তিকদের বিরুদ্ধে, সরকার ও সংবিধানের বিরুদ্ধে তার ও তার দলের নেতাদের হুমকি ৫ মে’র নজিরবিহীন সন্ত্রাস, তা-ব, হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক কর্মকা-ের ক্ষেত্র তৈরি করেছে, এসব দুষ্কর্মে সংগঠনের সন্ত্রাসী কর্মীদের প্ররোচিত ও উদ্দীপ্ত করেছে।
৫ মে হেফাজত ও জামায়াতের কর্মীদের বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে আগের দিন (০৪ মে) বিএনপির সমাবেশে খালেদা জিয়ার ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামের হুমকি এবং তা-ব চলাকালে বিএনপির নেতাকর্মী ও ঢাকাবাসীদের হেফাজতের মুসাফিরদের পাশে দাঁড়ানোর আকুল আহ্বান। আল্লামা শফী এবং হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের ধর্মীয় প্রণোদনা ও নির্দেশের পাশাপাশি বিরোধী দলের পরম ক্ষমতাধারী নেতা খালেদা জিয়ার আহ্বান সেদিনের যাবতীয় মৃত্যু ও ধ্বংসের জন্য দায়ী।
৮ মে ঢাকার পুলিশের কমিশনার গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলেছেন, ৫ তারিখ মধ্যরাতে হেফাজতের কর্মীদের মূল পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকসহ মতিঝিল পাড়ার বড় বড় সব ব্যাংক ও স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনে হামলা ও লুণ্ঠন। অন্য সব ব্যাংকে কী আছে জানি না, শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রয়েছে ১৪ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ ও কারেন্সি নোট। রাতে ব্যাংক লুটের পর সকালে বিএনপি-জামায়াতের সহযোগিতায় সচিবালয় দখলেরও পরিকল্পনা ছিল হেফাজতের। ঢাকা অবরোধের আগেই বিএনপির পরিকল্পনা অনুযায়ী হেফাজত ঘোষণা করেছিল ৫ মে’র ভেতর সরকার ১৩ দফা দাবি না মানলে ৬ মে থেকে সারা দেশে হেফাজতের সরকার কায়েম হবে। ৮ মে দৈনিক ‘আমাদের সময়’ লিখেছে, হেফাজত বাংলাদেশে আফগান স্টাইলে তালেবানী শাসন কায়েম করবে এবং এই হেফাজতী সরকারের ধর্মগুরু হবেন আল্লামা শফী, আর হেফাজতের সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ বাবুনগরী হবেন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকারের মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ৫ মে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, হেফাজতের ১৩ দফা দাবি মানতে হলে বেগম খালেদা জিয়াকে বোরখা পরে পাকঘরে বসে থাকতে হবে। বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা নেতা সাদেক হোসেন খোকা বলেছেন, তার দল ক্ষমতায় গেলে হেফাজতের ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়ন করা হবে, যে ১৩ দফার প্রতিটি বাক্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধানবিরোধী।
৫ মে’র যাবতীয় হত্যা ও সন্ত্রাস এবং পরবর্তী প্রতিক্রিয়া হরতালের পর হরতাল আবারও প্রমাণ করেছে বিএনপি ও জামায়াত যেভাবে সাত পাকে বাঁধা পড়েছে শত চেষ্টা করলেও এই গাঁটছড়া খুলবে না। হেফাজতকে তারা এখন পোষ্য নিয়ে মাথায় তুলে নাচলেও- জামায়াতের যা চরিত্র যে কোনও সময়ে পোষ্যকে পরিত্যাগ করতে তারা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। অতীতে আমরা বাংলা ভাইদের জামাতুল মুজাহিদীন বা মুফতি হান্নানদের হরকতুল জেহাদের সন্ত্রাস ও তা-ব কম দেখিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৬ মে বলেছেন জামায়াত ও হেফাজতকে আর ছাড় দেয়া হবে না। আওয়ামী লীগের সৈয়দ আশরাফও বলেছেন, হেফাজতকে ভবিষ্যতে ঘর থেকে বের হতে দেয়া হবে না। আওয়ামী লীগ ও মহাজোট সরকার যদি জঙ্গী মৌলবাদী সন্ত্রাস দমনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে বিএনপির অবস্থা হবে রামায়ণের জটায়ূ পাখির মতো। হেফাজতের ১৩ দফা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনী দৌড়ে বিএনপি কখনও জিততে পারবে না। যে কারণে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের যাবতীয় তৎপরতার পাশাপাশি নির্বাচন বানচালের ক্ষেত্র বিএনপি এখনই তৈরি করছে।
খালেদা জিয়ার হেফাজতী পাখিরা ঘরে ফিরে গেছে। মাদ্রাসার ছাত্রদের অভিভাবকরা জেনে গেছেন তাদের সন্তানদের কীভাবে প্রতারিত করে ৫ মে ঢাকা অবরোধের জন্য আনা হয়েছিল। যতই ডাকুন এসব পাখি আর ঘর থেকে বের হবে না। খালেদা জিয়ার জন্য বাকি থাকবে জামায়াতী শকুন। অন্যদিকে থাকবে জাগরণ মঞ্চের ফিনিক্স পাখিরা।
আমরা দাবি জানিয়েছি- ৫ মে’র হত্যা ও তা-বের শ্বেতপত্র সরকারকে প্রকাশ করতে হবে। জাতিকে জানতে হবে হেফাজতের গডফাদার ও গডমাদারদের আসল চেহারা।
৯ মে ২০১৩