মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ৬ জানুয়ারী ২০১১, ২৩ পৌষ ১৪১৭
ইনস্টিটিউশনকে বাঁচাতে হবে
মাঈনউদ্দীন আহমেদ মাহী
মহুয়া-মলুয়া, দেওয়ানা-মদিনা, বীরাঙ্গনা সখিনা তথা ময়মনসিংহ গীতিকার দেশ ব্রহ্মপুত্রের তীরে অবস্থিত ময়মনসিংহ শহর। এই ময়মনসিংহ শহরেই সেহড়া মুন্সীবাড়ি এলাকায় অবস্থিত দেশের অন্যতম প্রাচীন বিদ্যাপিঠ এড্ওয়ার্ড ইনস্টিটিউশন বিদ্যালয়।
বিভিন্ন পরীৰার বিরাট সাফল্যসহ ক্রীড়া, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিতর্ক ইত্যাদি সব ক্ষেত্রেই এই প্রতিষ্ঠানের রয়েছে গৌরোজ্জ্বল ইতিহাস। বহু ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক এডওয়ার্ড ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠানটি ১৯০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক ও উপমহাদেশের কীর্তিমান মহাপুরম্নষ জমিদার অবনী কান্ত লাহিড়ী চৌধুরী জজ এ্যাডওয়ার্ডের নামে এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত করেন। পাবনা জেলার এডওয়ার্ড কলেজটিও তাঁর অবদান। প্রতিষ্ঠার ৫ম বর্ষ থেকেই ট্রাস্টের মাধ্যমে এ বিদ্যালয়টি পরিচালিত হতো। তারপর এমপিওভুক্ত করা হয় ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে। এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় আট হাজার ছাত্রছাত্রী আছে।
প্রথম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান দেয়া হয় এ বিদ্যালয়ে। রয়েছে অর্ধলাখ পুস্তকসমৃদ্ধ একটি লাইব্রেরি। বহু ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক এই এডওয়াড ইনস্টিটিউশন বিদ্যালয়। অথচ শতবর্ষ পার করা এই বিদ্যালয়টি আজ অনেকটা অবহেলিত। কিন্তু কেন? অবহেলিত হয়ে পড়ছে এ বিদ্যালয়টি। ঐহিত্যবাহী এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক ও ছাত্রদের তালিকায় রয়েছে অনেক দেশবরেণ্য ব্যক্তির নাম। ১৯৩০ থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত এখানে গণিতের শিৰক ছিলেন শ্রী গগেন্দ্রনাথ বাবু। তিনি এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক নিযুক্ত ছিলেন।
ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান খন্দকার মোহাম্মদ আলী ছিলেন এই বিদ্যালয়টির প্রধান শিৰক। দেশের সশিক্ষিত ভাস্কর রশীদ ছিলেন এই বিদ্যালয়ের ছাত্র। ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী তাকে হত্যা করে আফসোস করেন। এখানে আরও পড়াশোনা করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার সাইফুল ইসলাম, চিত্রশিল্প শামীম, লেখক-সাংবাদিক রাহাত খান, শিল্পী হিমাদ মেহা প্রমুখ।
২০১০ সালে সমাপনী পরীক্ষায় ৪০ জন পরীৰার্থীর মধ্যে ৩৬ জন পাস করেছে। এর মধ্যে ১ম বিভাগ পেয়েছে ৬ জন, ২য় বিভাগ ২২ জন, ৩য় বিভাগে ৮ জন। এছাড়াও দেশের প্রথম জেএসসি পরীৰায় ৩৭ জনের মধ্যে ২৭ জন পাস করেছে। শতবর্ষী এই প্রতিষ্ঠানটির ভাল ফল থাকলেও কিছু সমস্যা বিদ্যমান। স্থানীয় জনগণের উদাসীনতার কারণে এ প্রতিষ্ঠানটি আজ অবহেলিত। শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন যে সব বরেণ্য ব্যক্তি তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি কী স্থানীয় জনগণের উদাসীনতায় বন্ধ হয়ে যাবে?