মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ৯ জানুয়ারী ২০১০, ২৬ পৌষ ১৪১৬
ওয়ান ইলেভেন বিএনপির সৃষ্টি
শেখ গোলাম মোস্তফা
বহু আলোচিত ওয়ান ইলেভেন বা এক এগারো নিয়ে আগে যে রকম হরহামেশা আলোচনা হতো, এখন সে রকম হয় না। কারণ প্রেক্ষিত পাল্টে গেছে, বিশেষত ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের পর। কিন্তু বিষয়টাকে জিইয়ে রেখেছে বিএনপি বা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নামের দলটি। কারণ ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সে নির্বাচনে প্রধান অংশীদার বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ঐক্য জোটের একাংশ এবং মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জু পুত্রের জাতীয় পার্টির একাংশ নামক নামসর্বস্ব দলটি নিজেদের মধ্যে আসন ভাগাভাগি করে পরবতর্ী ৫ বছরের জন্য সরকার গঠন করত। কিন্তু এক এগারো বা ওয়ান ইলেভেনের ঘটনাবলী ৪ দলীয় জোটের সাজানো দাবার ছক একেবারে উল্টে দেয়। ফলে সব থেকে বেশি গায়ে ফোস্কা বিএনপির। কারণ আসন ভাগাভাগিতে আগের মতোই তাদের থাকত প্রশ্নাতীত শ্রেষ্ঠত্ব। তারাই হতো প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রায় সবই। আগের মতোই মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুজাহিদকে দেয়া হতো মন্ত্রিত্ব। দর কষাকষির ফলে জামায়াতের বড়জোর আরেকটি। ফজলুল হক আমিনী এবং পাশর্্বকে সান্ত্বনা খুঁজতে হতো সংসদ সদস্যের পদ নিয়ে। তবে মানিক মিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র ঐ সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গী হওয়ায় তাকে যোগাযোগমন্ত্রী করা হতো। কারণ ঐ দফতরটি তাঁর খুবই পছন্দের। কিন্তু ওয়ান ইলেভেনে তাদের সাজানো বাগান একেবারে তছনছ হয়ে যায়। তাই আগামী এগারোই জানুয়ারিকে সামনে রেখে এখন খোন্দকার দেলোয়ার এবং মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক এগারের নায়কদের মুণ্ডুপাতের সাথে সাথে সমানে গালি দিচ্ছেন আওয়ামী লীগকে। বাকি ক'দিন বিএনপি-জামায়াতের অন্যরাও যে বসে থাকবেন তা মনে হয় না।
আমরা একটি দ্রুত বিস্মৃত জাতি হিসেবে সুনাম(!) অর্জন করলেও মাত্র তিন বা আট বছর আগেকার সব কথা ভুলে যাব খোন্দকার দেলোয়ার বা মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তা ভাবলেন কি করে? আমার স্মৃতি যদি বিশ্বাসঘাতকতা না করে তাহলে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর বিপুল সংখ্যাধিক্য পেয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠন করার পর একই রকম ভাষা ক্রমাগত উচ্চারণ করেছিলেন জমিরউদ্দিন সরকার, মওদুদ আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রমুখ। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ৫ বছর মেয়াদ শেষে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করার পর বিচারপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শুরুর পরদিন ৪ দলীয় জোট 'বিজয় মিছিল' বের করার সাথে সাথে দেশব্যাপী তাণ্ডব শুরু করেছিল তা এদেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ এখনও ভুলে যায়নি। নির্বিচার সংখ্যালঘু নির্যাতন, আওয়ামী লীগ কমর্ীদের ওপর অত্যাচার, নিপীড়ন আমাদের মুক্তিযুদ্ধ কালে বর্বর পাকিস্তানী বাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতন, গণধর্ষণকেও হার মানিয়েছে কোন কোন ক্ষেত্রে। শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করার পর ৪ দলীয় জোট কেন 'বিজয় মিছিল' বের করেছিল তারও কোন সদুত্তর আজ পর্যন্ত কেউ দিতে পারেনি। অথচ বিচারপতি লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকার তখন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিল। শ্রদ্ধেয় আবদুল গাফ্ফার ভাই জনকণ্ঠের পাতায় এক সময় বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের নিরপেক্ষতা ও উদার ভাবমূর্তির জন্য যাকে, এ যুগের 'ওরাকল' বলে অভিহিত করেছিলেন, তিনিও পর্যন্ত ৪ দলীয় জোটের নারকীয় কর্মকাণ্ডের সময় চক্ষু মুদিত করে ধ্যানমগ্ন ঋষির মতন বঙ্গভবনে বসে জপমালায় হাত বুলাচ্ছিলেন। ২০০১-এর নির্বাচনকালে সেনাবাহিনী নামিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকমর্ীদের গ্রেফতার এবং নির্বাচন কেন্দ্রগুলো মূলত আওয়ামী লীগ পোলিং এজেন্টশূন্য করে সেখানে কিভাবে ভোট ডাকাতি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল তাও এদেশের মানুষ ভোলেনি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে ৫ বছর দেশব্যাপী কিভাবে জঙ্গীবাদের উত্থান ঘটেছিল সে খবরও তখনকার সংবাদপত্রের পাতায় পাতায় মুদ্রিত হয়ে আছে। ৫টি বছর চরমভাবে দলীয়করণ করা হয়েছিল প্রশাসন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, দুনর্ীতি দমন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশনসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোকে। এর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল ৪ দলীয় জোটের মেয়াদ শেষে আরেকটি পাতানো নির্বাচন_ যার মাধ্যমে পরবতর্ী ৫টি বছরের জন্য আরেক দফা ক্ষমতায় কাটান এবং সে আশাকেই পরবতর্ী বছরগুলোতেও বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামোয় স্থায়ীভাবে টিকে যাওয়া। পাঠকদের স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য এখন ২০০১ থেকে ২০০৭-এর ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪ দলীয় জোটের নির্লজ্জ কর্মকাণ্ডের একটি বিবরণ পেশ করব।
১. ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউতে তাদের জনসভায় গ্রেনেড হামলার পর খালেদা জিয়া ঐ ঘটনাকে আওয়ামী লীগের অন্তর্কলহের পরিণতি বলে বিষয়টিকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তার আরেক দোসর মতিউর রহমান নিজামী ঐ গ্রেনেড হামলাকে ভারতীয় 'র' এবং ইসরাইলি মোসাদ-এর কাজ বলে বিষয়টি চেপে যেতে চেয়েছিলেন। পরে গণদাবির মুখে বিএনপি সরকার এক হাইকোর্ট জজকে দিয়ে এক সদস্যবিশিষ্ট বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করার পর ঐ জজ সাহেব ঘটনাকে একটি বিদেশী শক্তির সম্পৃক্তি বলে চালিয়ে দিয়েছিলেন। পরে সাজানো হয় জজ মিয়া নাটক। সে নাটকের কাহিনী এখন স্বয়ং জজ মিয়া, মুফতি হান্নান এবং হাওয়া ভবনের একান্ত বশংবদ তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের মুখ থেকে বেরিয়ে আসছে।
২. ২০০৬ সালের অক্টোবর মাসের শেষ দিকে ৪ দলীয় জোটের মেয়াদকাল শেষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান পদে যাতে বিএনপি-জামায়াত জোটের পছন্দের লোককে বসানো যায় সে জন্য ২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে যিনি সদ্য বিদায় হওয়া প্রধান বিচারপতি থাকতে পারেন সেই কেএম হাসানের জন্যই ঢালাওভাবে বিচারপতিদের বয়স বৃদ্ধি করা হয়েছিল। ঐ বয়স বৃদ্ধি কৌশলের কারণে বিএনপির এক সময়ের বৈদেশিক সম্পাদক বিচারপতি কেএম হাসান তখন সদ্য বিদায় হওয়া প্রধান বিচারপতি। আওয়ামী লীগসহ বিরোধী দলের প্রবল আপত্তির মুখেই তৎকালীন জোট সরকার ঐ অনৈতিক কাজটি করেছিল। ফলে সরকারী ঐ নীতির বিরুদ্ধে তখনই আন্দোলন শুরু হয়ে যায়।
৩. ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির মতো আরেকটি কুখ্যাত নির্বাচন করার জন্য নির্লজ্জ এমএ আজিজকে সিইসি করা হয় এবং তার সারথী করা হয়েছিল আরেক কুখ্যাত কর্মকর্তা স ম জাকারিয়া এবং যার বাড়ি থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল সেই মাহফুজুর রহমানকে। তারা সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে জোটকে জয়যুক্ত করার জন্য ১ কোটি ২৩ লাখ অস্তিত্বহীন মানুষকে ভোটার তালিকাভুক্ত করেছিল। পরবতর্ী নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন করার সময় ভুয়া বলে প্রমাণিত হয় ঐ ১ কোটি ২৩ লাখ ভোটার, যাদের কোন নাম-ঠিকানা তখনও ছিল না, এখনও নেই।
৪. তৎকালীন সিইসিসহ পুরো নির্বাচন কমিশন ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি নির্বাচনের জন্য যে তফসিল ঘোষণা করেছিল, সে নির্বাচনে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিরোধী দল অংশগ্রহণে রাজি হয়েছিল এ কারণে যে, এরশাদের জাতীয় পার্টিসহ সকল দল এককাট্টা হয়েছিল আসন্ন নির্বাচনে নূ্যনতম কর্মসূচী প্রণয়ন করে এবং তৎকালে গঠিত মহাজোট নেতৃবৃন্দ মনে করেছিলেন যে, দেশব্যাপী গণজোয়ার সৃষ্টির মাধ্যমে তাঁরা ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারবেন। তাদের সামনে তখন ছিল ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের স্মৃতি। কিন্তু বিএনপি নেতৃত্ব সেখানেও চালে দাবার ঘুঁটি। অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে তাদের অন্যতম বশংবদ তথাকথিত বিচারপতি ফজলুল ফয়েজীর একক বেঞ্চ এরশাদের এক মামলায় কারাদণ্ড দিয়ে তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করলে বিরোধী দল বাধ্য হয়ে নির্বাচন বর্জন করে।
৫. এদিকে প্রচণ্ড গণআন্দোলনের মুখে কেএম হাসান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করার প্রেক্ষিতে অপরাপর ৩টি অপশন বাদ দিয়েই বিএনপি তথা বেগম খালেদা জিয়ার একান্ত বশংবদ রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন নিজেই নিজেকে উপদেশ দানের জন্য রাষ্ট্রপতির মর্যাদা পায়ের নিচে রেখে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করে ইতিহাসের এক কলঙ্কময় অধ্যায় সৃষ্টি করেন।
৬. আরেকজনের কথা মানুষ ভুলে যাচ্ছে এবং তিনি হলেন ঐ সময়কার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জেআর মোদাচ্ছের। রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনের প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দায়ের করা রিটের শুনানি শেষে রায় ঘোষণার প্রাক্কালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জেআর মোদাচ্ছের হাইকোর্টের ঐ বেঞ্চটি ভেঙ্গে দেন_ যখনই তাঁর কাছে গোপনে খবর আসে যে, হাইকোর্টের সে বেঞ্চ রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণকে অবৈধ ঘোষণা করতে যাচ্ছে।
৭. রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন ২০০৭ সালের ১০ জানুয়ারি গভীর রাতে একযোগে রেডিও-বিটিভিতে দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে ঘোষণা করেন যে, ২২ জানুয়ারির নির্বাচন নির্দিষ্ট দিনে হবেই। তখন সমগ্র দেশবাসীর মনে উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয় যে, রাজনৈতিক সংঘাত অনিবার্য এবং বিএনপি তথা ৪ দলীয় জোটের একগুয়েমির ফলে ঢাকার বুকে শুধু রক্তগঙ্গা নয়, দেশব্যাপী গৃহযুদ্ধ না শুরু হয়ে যায়!
উপরোক্ত পটভূমিতেই এক এগারো বা ওয়ান ইলেভেনের সৃষ্টি। সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিকভাবে ওয়ান ইলেভেনের সৃষ্টি হলেও সাধারণ মানুষ ওয়ান ইলেভেনের আগমনকে সাময়িকভাবেই স্বাগত জানিয়েছিল ৪ দলীয় জোটের একগুয়েমি থেকে সাময়িক পরিত্রাণের আশায়। তাহলে ওয়ান ইলেভেনের সৃষ্টির পেছনে আওয়ামী লীগ এবং মহাজোটের ভূমিকা কোথায়? এ তো বিএনপি তথা ৪ দলীয় জোটেরই সৃষ্টি। আরেক দফা সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতারোহণের জন্য তারা যেভাবে দাবার ছকে ঘুঁটি চালাচ্ছিল তা লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় এক এগারোর কারণে এবং সে জন্যই বিএনপি এবং জামায়াতের সমস্ত আক্রোশ তখন থেকেই আওয়ামী লীগের ওপর। কারণ তাদের দীর্ঘ পাঁচ বছরের অপকর্মের সাক্ষী ছিলেন এ দেশের জনগণ এবং তারা ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াতের সব অপকর্মের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছেন ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর তারিখে। তবে প্রাসঙ্গিকভাবেই এসে যায় ওয়ান ইলেভেনের কথা। এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে সামরিক শাসনের পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাজনৈতিক কোন্দল, গণতান্ত্রিক অসহিষ্ণুতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অযোগ্যতার সুযোগ নিয়েছে সামরিক বাহিনীর লোকেরা। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশের শীর্ষ সেনাবাহিনী কর্মকর্তারা ঐ সুযোগটিই গ্রহণ করেছিলেন, যতই তাঁরা দেশরক্ষার কথা পরবতর্ী সময়ে জোর গলায় বলুন না কেন বারবার। দেশের রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে ভেঙ্গে চুরমার করা, শীর্ষ ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিবিদদের হয়রানির মাধ্যমে অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জন, নিম্ন থেকে মধ্য বিচারালয় পর্যন্ত অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং দেশের অর্থনীতির ভিতকে টলটলায়মান করাসহ রাষ্ট্র কাঠামোকে নড়বড়ে করে দেয়ার মতো ক্ষমাহীন অপরাধে তারা জনতার দরবারে এখন দোষী সাব্যস্ত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা পিছু হটেছে। তবে সম্মানজনক প্রস্থানের পথকে উন্মুক্ত রাখার জন্যই তারা সর্বজন গ্রহণযোগ্য যে নির্বাচন উপহার দিয়ে গেছে তার জন্য কিছুটা সাধুবাদ তাদের জানাতে হয়। তবে বিএনপি-জামায়াত ওয়ান ইলেভেন বা অন্য যে কোন ইসু্যতে হালে পানি পাবে না। গত নির্বাচনে জামায়াতের ভরাডুবি প্রমাণ করে যে, এদেশে ধর্ম ব্যবসায়ীদের কোন জায়গা হবে না। বিএনপিকে এখন ওয়ান ইলেভেন, টিপাইমুখ, ভারতীয় হাইকমিশনে তাদের রক্ষী মোতায়েন, স্বাধীনতার ঘোষক ইত্যাদি ইসু্য পরিত্যাগ করতে হবে। তাদের নতুন নতুন অর্থনেতিক কর্মসূচী, বেকার সমস্যার সমাধান, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি প্রগতিশীল ও অর্থনৈতিক কর্মসূচী নিয়েই অগ্রসর হতে হবে। ধর্মনির্ভর রাজনীতির পথ পরিহার করে তাদের আসতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখার শপথ নিয়ে। অন্যথায় তাদের স্থান হবে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে। কোন এক সংবাদপত্রে দেখলাম দলটির পরিণতি মুসলিম লীগের মতোই হবে। তাই-ই হবে, যদি তারা প্রগতির পথে অগ্রসর না হয়।
লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট